মানসিক চাপ কমাতে যা খাবেন

মানসিক চাপ থেকে মুক্ত নন কেউ। কম হোক কিংবা বেশি, মানসিক চাপ আসবেই। অনেকে পাত্তা না দিয়ে এড়িয়ে যান, অনেকে আবার উদ্বিগ্ন হন নিজের এই সমস্যা নিয়ে। হাজারটা কাজের মাঝেও কিছু দুশ্চিন্তা আপনাকে পেয়ে বসতে পারে। সেখান থেকে আপনি আরও বেশি বিষণ্নতা, হতাশা কিংবা অস্থিরতায় ভুগতে পারেন। এটি এমন এক সমস্যা, যা এড়িয়ে গেলে আরও মারাত্মক আকারে দেখা দিতে পারে।

প্রতিদিনের খাবার কিছু পরিবর্তন এনে এই মানসিক চাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে তা কোনো দুর্লভ খাবার নয়, বরং সবার ঘরেই থাকে এমনকিছু খাবার যোগ করতে হবে খাবারের তালিকায়। আর তাতেই মিলবে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি। এমনটাই জানাচ্ছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

ডিম:

ডিমের উপকারিতার কথা নিশ্চয়ই অজানা নয়। ডিম প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। তাছাড়া ভিটামিন ডি এবং নানা খনিজ থাকে ডিমে। এছাড়া ডিমে থাকা সেরোটোনিন আমাদের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে ভাজা ডিমের চেয়ে সেদ্ধ ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো।

কুমড়োর বীজ:

কুমড়োর বীজে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম থাকে। ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া মানসিক চাপ, উদ্বেগ কমাতেও কুমড়োর বীজ খুব উপকারী।

ডার্ক চকোলেট:

ডার্ক চকোলেটে যে কোকো থাকে, তা আমাদের মন ভালো করে দেয়। পলিফেনল এবং ফ্ল্যাভোনয়েড এই দুই যৌগ আমাদের মস্তিষ্কের কোশ সতেজ রাখতে সাহায্য করে, স্ট্রেস কমায়। তবে এক্ষেত্রে যে চকোলেটে ৭০ শতাংশ অথবা তার বেশি কোকো থাকে, সেটাই খান।

ক্যামোমিল:

উদ্বেগ কমাতে খুব জনপ্রিয় খাবার ক্যামোমিল। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ক্যামোমিল নির্যাস (ক্যামোমিল চা পান করা খুবই উপকারী) টানা আট সপ্তাহ পান করলে উদ্বেগ অনেকটাই কমে।

দই:

বিষণ্নতা, হতাশা, উদ্বেগ ইত্যাদি সমস্যায় ভুগে থাকলে আপনার প্রতিদিনের খাবারে একবাটি দই যোগ করুন। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষার ফলাফল বলছে, যদি টানা চার সপ্তাহ দিনে দু’বার দই খাওয়া যায় তবে মস্তিষ্ক অনেক বেশি কাজ করে।

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

যেভাবে জীবাণুমুক্ত করবেন মাস্ক

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা বারবার হাত ধোয়ার পাশাপাশি সকলকেই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মাস্ক ব্যবহারে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। তবে শুধু ব্যবহার করলেই হবে না। সঠিক উপায়ে ব্যবহার এবং জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

সবচেয়ে ভালো হয় একটি মাস্ক একবারের বেশি ব্যবহার না করা। তবে তা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই জেনে নিন কীভাবে জীবাণু ধ্বংস করে আবার ব্যবহার করতে পারবেন একই মাস্ক।

কাপড়ের মাস্কের ক্ষেত্রে

কাপড়ের মাস্ক সাধারণ কাপড়ের মতো ধুতে পারেন। এজন্য ওয়াশিং মেশিনে বা সাধারণ ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে কাপড়ের মাস্ককে ভাইরাসমুক্ত করতে পারবেন। তবে এর সঙ্গে অন্যান্য কাপড় দেবেন না। ওয়াশিং মেশিনের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ করুন ও সাধারণ লন্ড্রি ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন। এতেই কাপড়ের মাস্কের করোনা ভাইরাস ধ্বংস হবে। তবে যদি আপনি হাতেই কাপড়ের মাস্ক ধুতে চান, আধা লিটার পানিতে ২ চা চামচ ব্লিচ মেশান। এবার এতে কাপড়ের মাস্ককে ৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। তারপর সাধারণ পানিতে ধুয়ে নিন।

এন-৯৫ ও সার্জিক্যাল মাস্ক

এন-৯৫ ও সার্জিক্যাল মাস্ককে পুনরায় ব্যবহারের আগে ভাইরাসমুক্ত করতে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। অনেকে এসব মাস্কের ওপর জীবাণুনাশক তরল ছিটাতে বলেন। কিন্তু এতে ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ব্যবহৃত মাস্ককে পুনরায় ব্যবহারের আগে ৭২ ঘণ্টা কোনো নিরাপদ স্থানে ঝুলিয়ে রাখুন অথবা কাগজের ঠোঙায় রেখে দিন।

গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মাস্কের করোনা ভাইরাস সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা বেঁচে থাকে। কাগজ ব্রিদেবল ম্যাটারিয়াল বলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা ভাইরাস ধ্বংস হবে এটা নিশ্চিত। প্লাস্টিকের ব্যাগ অথবা অন্য ব্যাগ ব্যবহার করলে এ সময়ের মধ্যে ভাইরাসটি নিষ্ক্রিয় নাও হতে পারে। কারণ মাস্কে তরলের উপস্থিতি থাকলে এসব ব্যাগ ইনকিউবেটর হিসেবে কাজ করতে পারে। কাজেই কাগজের ঠোঙা ছাড়া অন্য ব্যাগ ব্যবহার করবেন না।

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

কোরবানির সময় সংক্রমণ রোধে করণীয়

পশু কোরবানির সময় সংক্রমণ রোধে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। এবার করোনাভাইরাসের কারণে মানতে হবে বাড়তি আরও কিছু নিয়ম।

করোনাকালে পশু কোরবানি ও সংক্রমণ রোধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

পশু কোরবানির পর সংক্রমণ ও যে কোনো রোগ–বালাই থেকে নিরাপদে থাকতে অবশ্যই সবসময় কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। আর করোনার এ সময়ে মানতে হবে বাড়তি আরও কিছু নিয়ম।

১. যে স্থানে পশু কোরবানি করা হবে, সেখানে জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

২. কোরবানির কাজটি সম্পূর্ণ করতে অবশ্যই মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

৩. কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য একটি গর্ত করুন ও জবাই শেষে মাটি দিয়ে ঢেকে দিন।
৪. কোরবানির স্থানে অযথা বেশি লোকসমাগম করা যাবে না। সামাজিক দূরত্ব মেনে কোরবানি সম্পন্ন করুন।

৫. কোরবানি ও মাংস তৈরির আগে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।

৬. কোরবানির স্থানে ডেটল, ব্লিচিং পাউডার অথবা জীবাণুনাশক স্প্রে করুন।

৭. কোরবানি শেষে কুসুম কুসুম গরমপানি দিয়ে গোসল করুন ও গায়ের পোশাক পরিষ্কার করুন।
৮. কোরবানি বর্জ সঠিক স্থানে ফেলুন। এ ছাড়া যে জায়গায় পশু জবাই করা হবে, সেখানে রক্ত লেগে থাকলে পানি দিয়ে ধুয়ে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিন।

৯. কোরবানির মাংস তিন ভাগ করে এক ভাগ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিতরণ করুন।

১০. অযথা কোথাও জটলা পাকাবেন না। নিজে ও পরিবারের প্রতি যত্নশীল হোন।

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

করোনাকালে অনলাইন ডেলিভারির ক্ষেত্রে যা করবেন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। যার কারণে অনেকেই এখন অনলাইন শপিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। বাড়ির বাইরে না বেরিয়ে দরজা থেকেই যদি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গ্রহণ করা যায় তবে মন্দ কী! এই পদ্ধতিকে নিরাপদ মনে হতেই পারে, কিন্তু এতে সংক্রমণ এড়ানো কতটা সম্ভব? বাড়িতে পার্সেল সরবরাহ করা সত্যিই নিরাপদ? অনলাইন থেকে কেনা জিনিসপত্রের জীবাণু এড়াতে কী পদক্ষেপ নিতে হবে? এক্ষেত্রে করণীয় প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া-

সংক্রমণের ঝুঁকি
বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভাইরাস বিভিন্ন পৃষ্ঠে একাধিক দিনের জন্য বেঁচে থাকতে পারে। তবে পরবর্তীতে এর সংখ্যা কমতে থাকে। সুতরাং, প্যাকেট বহনকারী ব্যক্তিটি সংক্রামিত হলেও প্যাকেটে ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। তবে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সব সময় কিছু প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা ভালো। সেজন্য এই কাজগুলো করতে পারেন-

২৪ ঘণ্টা বাইরে পার্সেল রাখুন
সম্ভব হলে পার্সেল বা ডেলিভারি প্যাকেটটি ২৪ ঘণ্টা রেখে দিন। প্যাকেটের জিনিস যদি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে, তবে সাবধানে দরজার বাইরে প্যাকেটটি খুলুন এবং আবরণটি ডাস্টবিনে ফেলে দিন। এরপরে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ডের জন্য সাবান এবং পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। এরপর পণ্যগুলো ঘরের ভিতরে আনুন।

জিনিসগুলো সঠিকভাবে পরিষ্কার করুন
প্রয়োজনীয় সামগ্রীগুলো প্যাকেট থেকে বের করে ফেললেই কাজ শেষ হয়ে যায় না। এরপর পণ্যগুলো ভেতরে এনে পরিষ্কার করতে হবে। তবে এগুলো খাবার জিনিস হলে কোনোভাবেই জীবাণুনাশক বা সাবান ব্যবহার করা যাবে না। শুধু পানি দিয়ে ফলমূল ও শাক-সবজি জাতীয় জিনিস পরিষ্কার করুন। গরম পানিতে ৫০ পিপিএম ক্লোরিন যুক্ত করে কয়েক মিনিটের জন্য এতে শাক-সবজি ডুবিয়ে রাখতে পারেন। কাপড় এবং অন্যান্য আইটেমগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহারের আগে সঠিকভাবে ধুয়ে নেয়া বাঞ্ছনীয়।

খাবারের ক্ষেত্রে
খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে, দরজার বাইরেই খাবারের প্যাকেটটি খুলে নিন। আপনার হাত ধুয়ে ফেলুন বা স্যানিটাইজ করুন। এবং এরপরে পার্সেলটি বাড়ির ভেতরে আনুন। সাবধানে খাবারটি অন্য পরিষ্কার পাত্রে ঢেলে নিন আর খাবার বহনকারী পাত্রটি ভালো করে ধুয়ে ফেলুন বা বা ডাস্টবিনে ফেলে দিন। এরপরে আপনার হাত সঠিকভাবে পরিষ্কার করে নিন।

এগুলো এমন কিছু পদক্ষেপ যার আপনি নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

দারুচিনি বাড়াবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

করোনাভাইরাসের এই আতঙ্কের সময়েও অনেক দেশে প্রতিষেধক হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে দারুচিনি। বিশেষ করে ডাক্তার থেকে শুরু করে গবেষকরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুচিনি খেতে বলছেন। তবে এখনও পর্যন্ত দারুচিনি করোনাভাইরাস ধ্বংস করতে পারে কি না, সেই বিষয়ে কোনো প্রমাণ না মেলেনি। চিকিৎসকেরা বলছেন সংক্রমণের তীব্রতা প্রতিরোধ করতে পারে দারুচিনি। তবে তা সঠিক পদ্ধতি মেনে খেতে হবে। আর কোন সময়ে খাওয়া হচ্ছে, এবং কতটা পরিমাণে দারুচিনি খাওয়া হচ্ছে তার উপরেও নির্ভর করছে এর গুণ।

কীভাবে সাহায্য করে দারুচিনি
দারুচিনি মূলত শরীরের প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন কমাতে সাহায্য করে। আমাদের শারীরিক প্রতিরক্ষার জন্য প্রদাহ গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি প্রদাহে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। আর এই প্রদাহের পরিমাণই মূলত কমিয়ে দিতে পারে দারুচিনি। দারুচিনির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পলিফেনল ও প্রোঅ্যান্থোসায়ানাইডিন, যা কোনো ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এছাড়া দারুচিনি মেদ ঝরাতেও কাজে আসে। শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং হার্টের রোগ নির্মূল করতেও খুবই সহায়ক এই মশলা। দারুচিনির অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল প্রপার্টি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।

দারুচিনি যেসব ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করতে পারে
ভারতের এক গবেষণা থেকে জানা গেছে যে, দারুচিনির প্রোসায়ানাইডিন পলিমার এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তিদেরকে এইচআইভি কন্ট্রোলার্সে পরিণত করতে পারে। গবেষকরা দারুচিনিতে যে মলিকিউল পেয়েছেন তা এইচআইভি ভাইরাসকে দমিয়ে রেখে ডিফেন্স প্রোটিনকে সুরক্ষা দিতে পারে। এছাড়াও সেই গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দারুচিনির সিনামালডিহাইড শ্বাসতন্ত্রের রোগ অ্যাডিনোভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

দারুচিনির আরও কিছু গুণ
জাপানের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দারুচিনির মধ্যে থাকা উপাদান সিনাজিলানিন বাকুলোভাইরাসের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বাধা দিয়েছে। বাকুলোভাইরাস পোকামাকড়কে সংক্রমিত করে। এই উপাদান হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস-১ ও হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস-২ এর বিরুদ্ধে কার্যকরী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়াও এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী হার্বাল মেডিসিনের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো দারুচিনি। বিশেষ করে বুকের যেকোনো ধরনের অসুস্থতায় দারুচিনি ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, নিয়মিত দারুচিনি খেলে নিউমোনিয়া, শ্বাসনালির ফুলে ওঠা, কাশি, গলার কর্কশতা ও শ্বাসপ্রশ্বাসের অসুবিধা কমাতে সাহায্য করে।

 

দারুচিনি খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি
পানিতে দারুচিনি সেদ্ধ করে অথবা গরম পানিতে দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে পান করলে এর সঠিক উপকারিতা পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দারুচিনির তেল ব্যবহার করা উচিত নয়। সিনামন অয়েল এত বেশি শক্তিশালী যে এক বা দুই ফোঁটার বেশি খেলে শরীরের ভেতর পুড়ে যেতে পারে। কোনো খাবারে ঠিক কতটা পরিমাণ সিনামন অয়েল মিশিয়ে খেলে শরীরের কোনো ক্ষতি হবে না, তা জানতে অতি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

কাঁঠাল খাবেন যেসব কারণে

রসালো ফল কাঁঠাল পাওয়া যাচ্ছে এখন। সুস্থ থাকতে পুষ্টিগুণে অনন্য কাঁঠাল খেতে পারেন। এতে রয়েছে ফাইবার, প্রোটিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাংগানিজ, কপার, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, কার্বসহ আরও অনেক পুষ্টিগুণ। জেনে নিন কাঁঠালের উপকারিতা সম্পর্কে।

কাঁঠালে থাকা প্রোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ত্বক সুন্দর রাখতে নিয়মিত খান কাঁঠাল। এতে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের অকালে বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে।
কাঁঠালে থাকা পটাসিয়াম, ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
ভিটামিন এ এবং ভিটামিন পাওয়া যায় কাঁঠাল থেকে। এই দুই ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সুস্থ রাখে শরীর।
অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েড থাকায় কাঁঠাল ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরে ফ্রি রেডিক্যাল প্রতিরোধ করে, যা ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী।
কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালোরি রয়েছে কাঁঠালে। ফলে এটি খেলে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া কোলেস্টেরল না থাকায় শরীরের জন্য নিরাপদ এই ফল।
কোষের দ্রুত ক্ষয় হয়ে যাওয়া রোধ করে কাঁঠাল।
প্রচুর পরিমাণে আঁশ রয়েছে এই ফলে। তাই এটি হজমের গণ্ডগোল দূর করতে সক্ষম।
কাঁঠালে থাকা ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হাড় মজবুত রাখে এবং অস্টিওপোরসিস রোগ প্রতিরোধ করে।
দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে এই ফল।
কাঁঠালের বিচিতেও রয়েছে প্রোটিন। কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে কাঁঠালের বিচি খেতে পারেন। এটি শরীরের রক্ত সরবরাহ বাড়ায়। ফলে ভালো থাকে ত্বক ও চুল।
কাঁঠালে থাকা কপার থাইরয়েড গ্রন্থি ভালো রাখে।
সাবধানতা
কাঁঠাল অতিরিক্ত খেলে অনেকের হজমের সমস্যা দেখা দেয়। তাই হজমের সমস্যায় ভুগলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন কাঁঠাল।

তথ্য: হেলথ লাইন, এনডিটিভি ফুড

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

এই সময়ে আনারস কেন খাবেন

বর্ষাকাল চলছে। এমনিতেই এই সময়ে বিভিন্ন রকম অসুখের প্রকোপ বেড়ে যায়। এবছর সেসবের পাশাপাশি বাড়তি আতঙ্ক হিসেবে যোগ হয়েছে করোনাভাইরাসের নাম। এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ভীষণ জরুরি। দূরে রাখতে হবে সব রকম অসুখও। এই সময়ে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে একটি পরিচিত ফল। যেটি মিষ্টি ও রসালো। সেই ফল অল্প করে প্রতিদিন খেলে সুস্থ থাকতে পারবেন। বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও।

সুস্থ থাকতে নিয়মিত ফল খাওয়া প্রয়োজন, একথা সবার জানা। আম, জাম, লিচু, জামরুল সবই পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। তবে একসঙ্গে অনেক রকম উপকারিতা পেতে চাইলে খেতে হবে আনারস। এমনটাই প্রকাশ করেছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

আনারসে রয়েছে রোগ প্রতিরোধী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। যেগুলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ছাড়াও কো-মর্বিড ফ্যাক্টরগুলো নিয়ে বারবার সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা। এছাড়াও লো ক্যালরিযুক্ত এই ফল খেলে ওজনও থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

আনারসে প্রচুর ফাইবার থাকার কারণে পেটের পক্ষেও এটি উপকারী। ভিটামিন সি, পটাসিয়ামে ভরপুর এই ফল হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ উপকারী। তাই রোগ নিয়ন্ত্রণও সম্ভব হবে।

আনারসে অনেকগুলো ডাইজেসটিভ এনজাইম বা পাচক উৎসেচক থাকে। এগুলিকে বলা হয় ‘ব্রোমেলেইন’। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রচুর ফোলেট, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ এই ফল। রয়েছে ম্যাঙ্গানিজও। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এটি। ফেনলিক অ্যাসিড বা ফ্ল্যাভেনয়েড থাকায় এই ফল পুষ্টিগুণে ভরপুর। এছাড়াও বর্ষাকালে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্রোমেলেইন উৎসেচক প্রোটিনের অণুগুলোকে ভেঙে দেয়। এতে ক্ষুদ্রান্ত্রের শোষণে সুবিধা হয়।

ব্রোমেলেইন মাংসের প্রোটিনকেও ভাঙতে পারে। প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে অর্থাৎ ক্রনিক ইনফ্লামেশন রুখতে সাহায্য করে। প্রচুর পানি ও ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমাধানেও এই ফল খাওয়া যেতে পারে।

দিনে কতটুকু আনারস খাবেন:

* আনারসের রসের বদলে টুকরো করে খেলে তবেই পুষ্টি সম্পূর্ণ হয়। কারণ রসে ফাইবার থাকে না।

* একটি আনারসের পুরোটা নয়। বরং প্রতিদিন নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে খেতে হবে।

* নিয়মিত ছোট বাটির এক বাটি অর্থাৎ কয়েক টুকরো আনারস খেলে সহজেই বেশ কিছু রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

* পাঁচ থেকে ছয় টুকরো আনারস প্রতিদিন ডায়েটে রাখলে তা যথেষ্ট উপকারী।

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

গ্লাভস পরলে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে

করোনাভাইরাসের কারণে আমরা জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছি। আগে যেসব বিষয়ে ততটা গুরুত্ব দিতাম না, সেগুলোর প্রতি এখন অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। এই যেমন মাস্ক পরা বা হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করা। মহামারীর এই সময়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে নানা প্রচেষ্টা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। করোনাভাইরাস যেহেতু হাতের মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অংশে দ্রুত ছড়াতে পারে, তাই সবার আগে হাত দুটি সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করেন সবাই।

হাত সুরক্ষিত রাখতে গ্লাভস ব্যবহার করছেন অনেকেই। সঠিক নিয়ম না মেনেই যদি গ্লাভস ব্যবহার করেন, তবে বাড়তে পারে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি। গ্লাভস ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কিছু সাবধানতা মেনে চলার কথা প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-

* গ্লাভস পরলে আপনার হাতে হয়ত জীবাণু লাগবে না, তবে লেগে থাকবে গ্লাভসের গায়ে।

* গ্লাভসের সিলিকন, পলিথিন বা রবারের উপরেই করোনাভাইরাস দীর্ঘক্ষণ বেঁচে থাকে।

* গ্লাভস পরে থাকাকালীন নাক, মুখ বা শরীরের কোনো স্থানে হাত দেবেন না।

* যদি কোথাও হাত দেয়ার প্রয়োজন পড়ে তবে টিস্যু ব্যবহার করুন। আর অবশ্যই স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন। এমনকি গ্লাভসের উপর দিয়ে হাত ধোয়াও যাবে।

* গ্লাভস খোলারও রয়েছে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি। দুটি আঙুল দিয়ে হাতের কবজির সামনে থাকা গ্লাভসের অংশ টেনে সেটি খুলে ফেলুন।

* গ্লাভস খোলার পরে তা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দিতে হবে।

* গ্লাভস খোলার পর অবশ্যই হাত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে নেবেন।

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

এই সময়ে আদা খাবেন যে কারণে

আদার উপকারিতা সম্পর্কে একেবারেই জানেন না, এমন কেউ কি আছেন? আদার গুণ সম্পর্কে প্রায় সবারই কম-বেশি জানা। এটি নিঃসন্দেহে একটি উপকারী মশলা। খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি উপকারের দিক থেকেও অন্যান্য মশলার থেকে অনেকটা এগিয়ে এই আদা। সংক্রমণের এই সময়ে নিজেকে সুস্থ রাখতে উপকারী সব খাবারের দিকেই গুরুত্ব দেয়া উচিত। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানাচ্ছে কেন এই সময়ে আদা খাওয়া জরুরি-

নানা কারণে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা আমাদের লেগেই থাকে। কারো কারো তো গ্যাস-অম্বলের সমস্যা পিছু ছাড়ে না। এই সমস্যায় আপনার উপকারী বন্ধু হতে পারে আদা। প্রতিদিন একটু করে আদা খেলে গ্যাস-অম্বলের সমস্যার উপকার পাবেন।

ব্যথা দূর করার কাজে আদা অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে আর্থারাইটিসের সমস্যায় আদা খাওয়া খুবই ভালো। শরীরে কোথাও আঘাত লাগলেও আদা তা তাড়াতাড়ি সারিয়ে দিতে পারে।

ক্যান্সার প্রতিরোধেও আদার উপকারিতা প্রমাণিত। শরীরের ক্যান্সার সেলগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে আদা। বিশেষ করে ওভারিয়ান ক্যান্সার সেল ধ্বংস করার ক্ষমতা রয়েছে আদার মধ্যে।

আদা হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিন একটু করে আদা খেলে কিছুদিনের মধ্যেই আপনার হজম ক্ষমতা অনেক উন্নত হয়ে যাবে। আর উন্নত হজমক্ষমতা মানেই শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

মাথা ধরার সমস্যায় আদা অত্যন্ত উপকারী। খুব মাথা ধরলে আদা দেয়া চা খেলে অনেকটা আরাম পাওয়া যায়। কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই আপনাকে আরাম দেবে আদা।

আদা যেহেতু হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, তাই নিয়মিত আদা খেলে তা ওজন কমাতেও সহায়ক হবে।

সর্দি-কাশিতে অত্যন্ত উপকারী আদা। সর্দি-কাশি হলে সকালে খালি পেটে আদা-তুলসিপাতার রস খেলে ম্যাজিকের মতো কাজ হয়।

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

উপসর্গহীন করোনা রোগীরা যা করবেন

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে কী করা যাবে, কী করা যাবে না সে সম্পর্কে নানা বিধি-নিষেধ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আবার করোনায় আক্রান্ত হলেই যে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে, এমনটাও কিন্তু নয়। বিশেষ করে যারা করোনায় আক্রান্ত কিন্তু উপসর্গহীন, তারা বাড়িতেই হোম আইসোলেশনে থাকতে পারেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে তাদের বেশকিছু নিয়মনীতি কঠোর ভাবে মেনে চলতে হবে। এমনটাই প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

উপসর্গহীন কারা?
পরীক্ষা করানোর পরে করোনা পজেটিভ এলেও অনেকের ক্ষেত্রে তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের কফ, শ্বাসকষ্ট, পেশি-সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ব্যথা, ক্লান্তি, মাথার যন্ত্রণা, স্বাদ ও গন্ধহীনতা ইত্যদি নেই, তারাই উপসর্গহীন।

উপসর্গহীন আক্রান্তদের থেকে করোনা ছড়াতে পারে, কিন্তু তার সম্ভাবনা প্রবল উপসর্গ রয়েছে যাদের, তাদের তুলনায় কম। উপসর্গহীনদের তেমন কোনো চিকিৎসার দরকার নেই। অন্যদিকে, মৃদু উপসর্গযুক্ত করোনা আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, বাড়িতে থাকার পাশাপাশি ঘরোয়া চিকিৎসা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।

বাড়িতে যেসব ব্যবস্থা রাখা উচিত
উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গের রোগী হলেও তার সার্বক্ষণিক দেখাশোনার জন্য একজন লোক থাকা জরুরি। অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। থাকতে হবে পালস অক্সিমিটার, ডিজিটাল থার্মোমিটার, পিপিই।

হোম আইসোলেশন শুধুমাত্র ৫০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। গর্ভবতী নারীদের কোনোভাবেই হোম আইসোলেশনে রাখা যাবে না।

 

করোনায় আক্রান্ত কারো হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, ওবেসিটি, থাইরয়েড হলে উপযুক্ত চিকিৎসাসহ হোম আইসোলেশনে থাকা সম্ভব। কিন্তু ক্যান্সার, কিডনির সমস্যা, হার্টের রোগ, এইচআইভি পজিটিভ, যক্ষায় ভুগছেন, এমন করোনায় আক্রান্তদের হোম আইসোলেশনে রাখা যাবে না।

হোম আইসোলেশনে থাকা করোনায় আক্রান্তের সঙ্গে দেখা করতে কেউ আসতে পারবেন না। কিন্তু রোগীকে আনন্দে রাখা, সাহস দেয়ার কাজটা করতে পারেন আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীরা। অকারণে আতঙ্কিত না হয়ে রোগীকে সাহস জোগালে সহজেই জয় করা যাবে মরণঘাতি এই ভাইরাসকে।

বিনিয়োগ বার্তা//এল//