ক্যারিয়ার মেলায় বেকারদের চাকুরী দেবে ১০২ কোম্পানি

আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ক্যারিয়ার ফেয়ার। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি, উন্নয়ন সংস্থাসহ ১০২ খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ করবে। তারা বেকারদের চাকুরীর সহায়তা করবে। দুই দিনব্যাপী এই মেলা শেষ হবে শুক্রবার (২৮ জুন)। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অফিস অব ক্যারিয়ার সার্ভিসেস অ্যান্ড অ্যালামনাই রিলেশন্স এ মেলার আয়োজন করেছে।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান আয়োজকরা। সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অফিস অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক দিলারা আফরোজ খান রুপা ক্যারিয়ার ফেয়ারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার লে. কর্নেল মো. ফয়জুল ইসলাম, এনআরবি জব লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবে এলাহী চৌধুরী, ড্যানকেকের এক্সিকিউটিভ ব্র্যান্ড ডেভেলপমেন্ট মো. আশিকুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে দিলারা আফরোজ খান বলেন, ‘ক্যারিয়ার ফেয়ারের মতো এই ধরনের উদ্যোগসমূহ চাকরি প্রত্যাশী ও ১০২টি চাকরি দাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক ধরনের বন্ধন তৈরি করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। একইসঙ্গে উভয় পক্ষের চাহিদা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী একে অপরকে জানার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববাজার সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবে।

তিনি জানান, আগামী ২৭ জুন সকাল ১০টায় মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে ‘ইয়ুথ পাওয়ার হাউস : দ্য কি টু বি আ ডেভেলপড নেশন’ শিরোনামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।

মেলায় ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন সেশন অনুষ্ঠিত হবে যা মেলায় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। এ ছাড়াও দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠেয় এই মেলায় একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সেমিনার আয়োজিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত থাকবে।’

প্রতিটি সেমিনারে প্রায় ৪০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারবেন। কোনো শিক্ষার্থী সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে চাইলে তিনি (www.bracucareerfair.com) ওয়েবসাইটে ঢুকে ফ্রি নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধনকারীরা সেমিনারে অংশ নিতে পারবেন। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে মেলার শেষ দিন পর্যন্ত নিবন্ধন করার সুযোগ থাকবে।

আগামী ২৮ জুন বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
বিনিয়োগ বার্তা/ মাসুদ

নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ সাজাতে ব্যস্ত পুলিশ

Election Comission

নিউজ ডেস্ক, বিনিয়োগ বার্তা:
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ সাজাতে ব্যস্ত পুলিশ প্রশাসন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে শুরু করে থানা এমনকি ফাঁড়ি পুলিশেও এর আঁচ পড়েছে। ‘আমলনামা’ দেখে চলছে কর্মস্থল অদল বদল। এমনকি যেসব স্থানে নির্ধারিতের চেয়ে কম পুলিশ রয়েছে সেসব ঘাটতি মেটানোর কাজও চলছে। বিশেষ করে ‘দলকানা’ এমন সদস্যদের ব্যাপারে বাড়তি নজরদারি করছে সদর দপ্তর। নির্বাচন ঘিরে যেসব এলাকায় সহিংস ঘটনা ঘটতে পারে কিংবা অঘটনের আশঙ্কা রয়েছে সেসব এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে পুলিশের জনবল বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের প্রভাব ও ছায়া সমর্থনের কারণে সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে সেসব এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতি চ‚ড়ান্ত করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় দেশের যেসব জেলা ও উপজেলায় সহিংসতা হয়েছিল সেগুলোকে চিহ্নিত করে পুলিশ ওই এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবলয় তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ, পদোন্নতি ও পোস্টিং পাওয়া কর্মকর্তাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ শেষে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেছে সদর দপ্তর।

এ প্রসঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটেয়ারী বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশের মাঠ সাজানোর কোনো বিষয় থাকে না। পুলিশ সবসময়ই মাঠে থাকে, জনগণের জন্য কাজ করে। তবে নির্বাচনকে ঘিরে বেশকিছু বাড়তি সতর্কতা নিতে হয়। এজন্য সবরকম কাজ চলছে। কিছু স্থানে অদল বদল করা হচ্ছে। পুলিশের রদবদলকে রুটিনওয়ার্ক হিসেবে মন্তব্য করে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বলেন, তফসিল ঘোষণার পর পুলিশ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপকর্ম বা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। বাংলাদেশ পুলিশ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং প্রযুক্তিসম্পন্ন মন্তব্য করে তিনি বলেন, অন্যায় বা অপরাধ করে আইনের হাত থেকে কারো পার পাওয়ার সুযোগ নেই।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশ মাঠের জন্য সবধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে। প্রয়োজনীয় জনবলের পাশপাশি অস্ত্র, গুলি, টিয়ারশেল মজুদ রয়েছে। সবকটি ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সদর দপ্তর থেকে। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর), এ এস পি সার্কেল, জেলা ও মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি এবং ডিআইজিদের আমলনামা পর্যালোচনা করেই দেয়া হচ্ছে পোস্টিং। এরমধ্যে ৩৩৫ সুপারনিউমারারি (সংখ্যাতিরিক্ত পদ) প্রস্তাব চ‚ড়ান্ত হলে তা হবে পুলিশের জন্য যুগান্তকারী। এ ছাড়া, সর্বশেষ নিয়োগ পাওয়া দুই হাজার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) প্রশিক্ষণ শেষে ভোটের আগে মাঠে নামতে না পারলেও কৃতজ্ঞতার জায়গা থেকে হলেও তাদের পরিবার সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষায় মাঠে থাকবে বলে মনে করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, বর্তমান সরকার পুলিশে জনবল বৃদ্ধিসহ যেসব সুযোগ সুবিধা বাড়িয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে পুরো বাহিনী তুষ্ট হওয়ার কথা। এরপরও যারা রাজনৈতিক বিবেচনায় অসন্তুষ্ট তাদের ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে সদর দপ্তর। বিশেষ করে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের আগে যেসব জেলায় সহিংসতা হয়েছিল সেসব জেলার ব্যাপারে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে সদর দপ্তর। এরমধ্যে জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লাসহ অন্তত ২০টি জেলাকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

সূত্র মতে, নির্বাচনের কারণে আটকে আছে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি। সুপারনিউমারারি হয়ে গেলে ভোটের পর এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে চায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে বিভিন্ন জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার পাশাপাশি সবকটি জেলার কর্মকর্তাদের ব্যাপারে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করেছে সদর দপ্তর। এরপর রদবদল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব মহানগর ও জেলার জনবল সমন্বয় করা হচ্ছে। নির্বাচনের সময় পুলিশ সুপাররা জেলা প্রশাসক ও নিজ জেলার অন্তর্গত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা-উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করবেন। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশ ও র‌্যাব বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে।

/এস/

আজকালের মধ্যে সচিব পর্যায়ে বড় ধরণের রদবদল

Amla

খুদরাত-ই-খোদা, বিনিয়োগ বার্তা:
শিগগিরই প্রশাসনে সচিব পদে বড় ধরনের রদবদল ও পদোন্নতি হতে যাচ্ছে। আজকালের মধ্যে এ রদবদল হতে পারে বলে জানিয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র। সূত্র জানায়, ভূমি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং ভূমি সংস্কার বোর্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন সচিবের শূণ্য পদে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে এ রদবদল হবে।

সূত্র বলছে, ভূমি সচিব আব্দুল জলিলের অবসর চলতি মাসের ২০ তারিখে, ইতোমধ্যেই অবসরে গেছেন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব আক্তার-ই-মমতাজ, আর চলতি মাসেই অবসরে যাচ্ছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব। সূত্র বলছে, জনপ্রশাসন ও শিক্ষা সচিব পদে রদবল হতে পারে শিগগিরই।

বর্তমান সরকারের নীতি-নির্ধারণী সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান পরবর্তী মন্ত্রি পরিষদের সচিব হিসেবে নিয়োগ পাবেন। বর্তমান মন্ত্রিপরিষদের সচিব ডিসেম্বরে অবসরে যাবেন।

সূত্র আরও জানায়, ধর্ম সচিব আনিসুর রহমানকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হতে পারে । নতুন ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মনোয়ার আহমেদ, স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুভাস চন্দ্র সরকার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সত্যব্রত সাহা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রকিব হোসেন।

অপরদিকে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে সচিবালয়ে নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক ঘরানার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পদচারণা বেড়েছে। গত কয়েকদিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সরেজমিনে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

/এস/

আগামী শুক্রবার কুয়েতে উন্নয়ন মেলা

নিউজ ডেস্ক, বিনিয়োগ বার্তা:
এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ এই স্লোগানে চতুর্থবারের মতো কুয়েত দূতাবাসের উদ্যোগে আগামীকাল শুক্রবার দূতালয় প্রঙ্গণে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে আয়োজন করতে যাচ্ছে উন্নয়ন মেলা।

সকাল ১০টায় এ মেলা উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ দূতাবাস কুয়েত রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম। এরপর পিঠা/খাবার এবং অন্যান্য স্টল পদির্শন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শন, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণীর ব্যবস্থা করা হবে।

এছাড়া দিনটিতে প্রবাসী শিল্পীদের অংশগ্রহণে সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে উন্নয়ন মেলায় কুয়েতের সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান করা হয়েছে।

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

নিউ ইয়র্কে দুই দিনব্যাপী হুমায়ূন মেলা শুরু

নিউজ ডেস্ক, বিনিয়োগ বার্তা:
বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে দুই দিনের মেলা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে। স্থানীয় সময় রবিবার দুপুরে উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে বেলুন উড়িয়ে মেলা উদ্বোধন করেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। হুমায়ূন আহমেদের বই নিয়ে মেলা উদ্বোধন করেন জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত।

শো টাইম মিউজিকের আয়োজনে দুই দিনের এই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যকে অন্য একটি উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তাঁর ছিল উজ্জ্বল উপস্থিতি। তিনি মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন।

বক্তারা বলেন, দেশের বইয়ের বাজার সৃষ্টিতে হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন অগ্রণী। আগামী প্রজন্মের কাছে মহান এই লেখকের সৃষ্টিকর্মকে তুলে ধরার তাগিদ দেন তাঁরা। সেইসঙ্গে বিশ্ব সাহিত্যে অবস্থানের জন্য তাঁর লেখার অনুবাদ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। এ সময় তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র ও সিনেমার বিভিন্ন দিক উঠে আসে বক্তব্যে।

পরে মুক্তিযুদ্ধ এবং হুমায়ূন আহমেদ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা আলমগীর খান আলম আগামী বছর বড় পরিসরে নিউ ইয়র্কে হুমায়ূন সম্মেলনের ঘোষণা দেন। প্রথমদিনের শেষ প্রান্তে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মেহের আফরোজ শাওন, এস আই টুটুলসহ অন্যরা এ সময় সংগীত পরিবেশন করেন। পুরো আয়োজনটির উপস্থাপনায় ছিলেন সাংবাদিক শামীম আল আমিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মাহাবুব হাসান সালেহ, নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা, আগামী প্রকাশনীর ওসমান গনিসহ অনেকে।

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

লন্ডনে বংলাদেশ উন্নয়ন মেলা

নিউজ ডেস্ক, বিনিয়োগ বার্তা:
লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন অনুষ্ঠিত হলো চতুর্থ বাংলাদেশ উন্নয়ন মেলা-২০১৮।রবিবার পূর্ব লন্ডনের ইমপ্রেসন অডিটরিয়ামে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন মেলা উদযাপন করা হয়।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত হাইকমিশনার মো. নাজমুল কাওনাইন এ মেলার উদ্বোধন করেন।

মেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উন্নয়ন দর্শন ও আজকের বাংলাদেশ, মহান মুক্তিযুদ্ধ, অবকাঠামো খাতে গৃহীত কার্যক্রম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ, এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্য, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ ও সম্ভাবনা এবং পর্যটন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা, পুস্তুক প্রদর্শনী ও বিতরণ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মো. নাজমুল কাওনাইন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ, রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ সম্পর্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে তুলে ধরেন। বলেন, শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। হাইকমিশনার বিদ্যুৎ, শিক্ষা, যোগাযোগ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে সরকারের সাফল্যসহ আর্থ-সামাজিক সকল খাতে উল্লেখযোগ্য দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে।

পরে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ সময় যুক্তরাজ্য প্রবাসী গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুক্তিযোদ্ধা, বাংলা প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ডাক্তার, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী, ছাত্র-ছাত্রী এবং হাই কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

এবার করের আওতায় আসছে উবার-পাঠাও

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগ বার্তা:
বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নাগরিক জীবনে একটু স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের নতুন উপায় হলো এই রাইড শেয়ারিং। অনেকেই এখন বাড়তি আয়ের জন্য নিজের গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেল উবার-পাঠাওয়ে দিচ্ছেন। আপনি কি জানেন, উবার-পাঠাওয়ের মতো রাইড শেয়ারিংয়ের আয় আপনাকে অবশ্যই আয়কর ফাইলে দেখাতে হবে? এটা বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

আপনি যদি রাইড শেয়ারিংয়ে গাড়ি দেন, তাহলে আপনার কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকতে হবে। আবার বছর শেষে রিটার্ন দেওয়াও আপনার জন্য বাধ্যতামূলক। চলতি অর্থবছর থেকে এই নিয়ম করা হয়েছে। এর মানে হলো, এ বছর আপনি যে আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন, সেখানে উবার, পাঠাও কিংবা এমন রাইড শেয়ারিংয়ে গাড়ি দিয়ে যে আয় করেছেন, সেই আয়ের হিসাব আয়কর রিটার্ন বা বিবরণীতে দিতে হবে।

১৭ ধরনের আয় বা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকলে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। চলতি অর্থবছরে রাইড শেয়ারিংয়ে গাড়ি প্রদানকারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ উবার-পাঠাওয়ের মতো সেবায় গাড়ি দিলে রিটার্ন দেওয়ার পাশাপাশি আয়ও দেখাতে হবে। উবার, পাঠাও ছাড়াও রাইড শেয়ারিংয়ের জন্য ও ভাই, ও বোন, সহজসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আছে।

অনেকেই এখন বাড়তি আয়ের জন্য নিজের গাড়িটি উবারের মতো সেবায় দেন। রাইড শেয়ারিং সেবাটিকে পার্টটাইম বা খণ্ডকালীন আয়ের পন্থা হিসেবে দেখা হলেও অনেকেই এখন পূর্ণকালীন আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করেন। এ জন্য রেন্ট–এ–কার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে অনেকেই এভাবে আয় করেন। রেন্ট–এ–কার প্রতিষ্ঠানও চালক নিয়োগ দিয়ে এই রাইড শেয়ারিং সেবা দেয়।

মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই চিত্র পাওয়া যায়। অনেক তরুণ মোটরসাইকেল কিনে তা দিয়ে রাইড শেয়ারিং সেবায় নেমেছেন। বেকার তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এই সেবার মাধ্যমে আয়ের উপায়টি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, রাজধানী ঢাকা শহরে একজন মোটরসাইকেলে পূর্ণকালীন রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী পরিবহন করলে দৈনিক গড়ে এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় করতে পারেন। অন্যদিকে গাড়ির ক্ষেত্রে আয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। এভাবে আয় করলে গাড়ির মালিক অবশ্যই করের আওতায় পড়ে যান।

এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি বলেন, তিনি এক বছর ধরে নিজের ব্যক্তিগত গাড়িটি উবারে নিবন্ধন করে রাইড শেয়ারিং সেবা দিচ্ছেন। এনবিআরের এই উদ্যোগ ভালো হলো না। এমনিতেই আয়ের ২৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। এর ওপর ভ্যাটরে খড়গও আছে। কমিশন ও ভ্যাটের পর আমাদের হাতে খুব বেশি টাকা থাকে না। তাই আয়কর রিটার্নে এই আয় যুক্ত করা হলে কর বাবদও কিছু অর্থ চলে যাবে। সব মিলিয়ে আমাদের আয় আরও কমবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে পাঠাওয়ে ৪০ হাজারের বেশি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন আছে। পাঠাওয়ে অবশ্য গাড়ি সেবাও রয়েছে। আর উবারে গাড়ি আছে পাঁচ থেকে ছয় হাজার। আছে মোটরসাইকেল সেবাও। অবশ্য অনেকে গাড়ি নিবন্ধন করলেও নিয়মিত রাইড শেয়ারিং সেবায় থাকেন না।

এবারের বাজেটে রাইড শেয়ারিং সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের ওপর উৎসে করও বসেছে। সেবার পরিমাণ বছরে ২৫ লাখ টাকার কম হলে ৩% হারে উৎসে কর দিতে হবে। আর ২৫ লাখ টাকার বেশি হলে দিতে হবে ৪ শতাংশ উৎসে কর।এ ছাড়া রাইড শেয়ারিং কর্তৃপক্ষ কমিশন বাবদ যে টাকা নেবে, এর ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট বসবে। কেননা, মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) আইন অনুযায়ী, যানবাহন চালকের সেবাকে ভ্যাটমুক্ত রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে গাড়ি ব্যবহারকারীর খরচ বাড়বে।

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

পাঁচ ঘণ্টায় পাসপোর্ট মিলবে উন্নয়ন মেলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগ বার্তা:
চতুর্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলায় জরুরি রি-ইস্যু আবেদনের ক্ষেত্রে ৫ ঘণ্টায় পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। কেউ যদি দুপুর ১২টার মধ্যে পাসপোর্টের আবেদন করেন তাহলে তাকে বিকেল ৫টার মধ্যে নতুন পাসপোর্ট দেয়া হবে।

বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন খান বলেন, ৪-৬ অক্টোবর উন্নয়ন মেলায় আমাদের স্টলে রি-ইস্যু এক্সপ্রেস ডেলিভারির (ফি ৬,৯০০ টাকা ভ্যাটসহ) জন্য যারা আবেদন করবেন তারা ১ দিনে পাসপোর্ট পাবেন। কেউ যদি দুপুর ১২টার মধ্যে পাসপোর্টের আবেদন করেন তাহলে তাকে বিকেল ৫টার মধ্যে নতুন পাসপোর্ট দেয়া হবে। শুধু রি-ইস্যুর অর্থাৎ যাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগবে না তাদের ক্ষেত্রে একদিনে পাসপোর্ট দেয়া হবে।

পাসপোর্ট অফিস সূত্র জানায়, আগামী ৪ থেকে ৬ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার মাঠে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ স্লোগানে ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা হবে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একযোগে সারাদেশে উন্নয়ন মেলা উদ্বোধন করবেন।

মেলায় ইমিগ্রেশন ও পাসপার্ট অফিসের জন্য বরাদ্দ স্টল ১৮৭ থেকে ১৮৯ থেকে বিভিন্ন সেবা দেওয়া হবে। সেবাগুলো হলো- পাসপোর্ট আবেদনপত্র গ্রহণ, জরুরি রি-ইস্যু আবেদনের ক্ষেত্রে দিনে দিনে পাসপোর্ট ইস্যু, বেসরকারি ব্যাংকের বুথ স্থাপনের মাধ্যমে সরাসরি অনলাইনে পাসপোর্ট ফি দেওয়া এবং পাসপোর্ট ও ভিসা সম্পর্কিত সব ধরনের তথ্য সরবরাহ।

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

কমে যাচ্ছে ব্যাংকের আমানত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগ বার্তা:
ব্যাংকের আমানত কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ যে ব্যাংকগুলোতে টাকা জমা রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, সেই সোনালী ও জনতা ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকার আমানত চলে যাচ্ছে। সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে দেওয়া এক চিঠিতে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদ দাবি করেছেন, গত দুই মাসে জনতা ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৬১২ কোটি টাকার আমানত কমেছে।

জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার আমানত হারিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। একইভাবে তিন মাসের ব্যবধানে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা আমানত কমেছে রূপালী ব্যাংকের। রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকে আমানত কমেছে দেড় হাজার কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে সাধারণ মানুষের রাখা আমানত আগের মতোই আছে। তবে সরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের টাকা তুলে নেওয়ার কারণে সরকারি ব্যাংকগুলোয় কিছুটা আমানত কমেছে। বিএবি (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস) ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত সবাই মেনে চললে আমানত নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হতো না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকই শুধু নয়, এ বছরের জুনের তুলনায় জুলাইয়ে পুরো ব্যাংকিং খাতেই আমানত কমেছে। জুন শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে আমানতের পরিমাণ ছিল (আন্তঃব্যাংক আমানত ছাড়া) ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। জুলাই শেষে তা ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ একমাসের ব্যবধানে দেশের ব্যাংকিং খাতে আমানত কমেছে দশমিক ০৬ শতাংশ।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো আমানত হারিয়েছে। বিএবি ও সরকারের যৌথ সিদ্ধান্ত ছিল, তিন মাস মেয়াদি আমানতের সুদহার ৬ শতাংশের বেশি হবে না। সরকারি ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত মানলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো এই সিদ্ধান্ত মানেনি।

জানা গেছে, গত আগস্ট শেষে সোনালী ব্যাংকের আমানত ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। গত সেপ্টেম্বর শেষে তা নেমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ শুধু সেপ্টেম্বরেই প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার আমানত হারিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি। জুন শেষে রূপালী ব্যাংকের আমানত ছিল ৩৬ হাজার কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির আমানত নেমে আসে ৩৩ হাজার কোটি টাকায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, গত একদশক ধরেই ব্যাংকিং খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ২১ শতাংশের ওপরে। এখন আমানতে প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা এ বছরের শুরু থেকে আমানত বাড়ানোর জন্য নানামুখী উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসছে না। কোনও কোনও বেসরকারি ব্যাংক গ্রাহকদের ১২-১৪ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।

ব্যাংকাররা বলছেন, ব্যাংক খাতে একের পর কেলেঙ্কারির ঘটনা ও সঞ্চয়পত্রের সুদ হার বেশি থাকার কারণে অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়েছে। আবার রেকর্ড পরিমাণ আমদানি ব্যয় মেটাতে প্রতিনিয়ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে ব্যাংকগুলো। ডলার কিনতে গিয়ে হাতে থাকা আমানতের টাকাও বাংলাদেশ ব্যাংকে চলে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলো আগ্রাসী বিনিয়োগ করায় বেশ কিছু ব্যাংকে আমানত কমে গেছে। আবার আমদানি ব্যয় মেটাতে আমানতের টাকা চলে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে। তবে কিছু ব্যাংকের বিষয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হওয়ার কারণেও মানুষ ব্যাংকবিমুখ হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এক বছর পর ২০১০ সালের জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬৬০ কোটি টাকায়। এই হিসাবে তখন আমানতের প্রবৃদ্ধি হয় ২১.৬৫ শতাংশ। অথচ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ব্যাংকিং খাতে আমানত প্রবৃদ্ধি হয় মাত্র ১০.৬০ শতাংশ। এখন আমানতে প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ব্যাংকে যে পরিমাণ আমানত আসছে, ঋণ বিতরণ হচ্ছে তার চেয়েও বেশি। গত একবছরে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। অথচ এই সময়ে ব্যাংকে আমানত এসেছে ৯০ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে সংগৃহীত আমানতের চেয়ে ৪২ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই বছরে (২০১৬ সালের জুন থেকে ২০১৮ জুন পর্যন্ত) ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ২ লাখ ৪০ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। যদিও এসময়ে আমানত এসেছে মাত্র ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। ফলে দুই বছরে সংগৃহীত আমানতের চেয়ে ৬৬ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এই পরিমাণ অর্থ ঋণ করেছে ব্যাংক

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

মৃত্যুর প্রহর গুণছে জয়পুরহাটের তিন শতাধিক কিডনি বিক্রিকারী

Joypurhat

নিউজ ডেস্ক, বিনিয়োগ বার্তা:
জয়পুরহাটের কালাইয়ে ঋণের দায়ে জর্জরিত প্রত্যন্ত গ্রামীন জনপদের সহজ-সরল, অভাবী ও খেটে খাওয়া শত শত মানুষ এক সময় কিডনি ক্রেতা দালালদের চটকদার কথার খপ্পরে পড়ে গোপনে তাদের শরীরের মহা মূল্যবান অঙ্গ কিডনি অল্প দামে বিক্রি করে আজ দিশেহারা। এখন তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য নিজের কাছেই অনুতপ্ত হচ্ছেন। বর্তমানে তারা আছেন মারাত্মক ভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। কেউবা গুণছেন মৃত্যুর প্রহর। আর যারা আবার ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে আছেন তারা বর্তমান কর্মহীনতাসহ বাড়ছে দরিদ্রতা, অসহায়ত্ব ও সমাজে হেয় প্রতিপন্নতা। তারা কোন উপার্জন মূলক কাজ করতে না পারায় উপজেলার ৩০টি গ্রামের তিন শতাধিক কিডনি বিক্রিকারীদের গোটা পরিবার এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তবে এরপরও, প্রতিদিন নতুন নতুন ভাবে এলাকার বিভিন্ন দালালদের চটকদার কথায় খপ্পরে পড়ে অভিনব কৌশলে ফের ওইসব গ্রামের অনেক মানুষেরা গোপনে কিডনি বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে কিডনি বিক্রির বিষয়ে সেখানকার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে সরেজমিনে। গত কয়েক বছর থেকে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের-উদয়পুর, মোসলিমঞ্জন, বহুতি, জয়পুর-বহুতি, নওয়ানা, টাকাহুত, নওয়ানা, বহুতি, দুর্গাপুর, বহুতি-গুচ্ছগ্রাম, উত্তর-তেলিহার, ফুল-পুকুরিয়া, তেলিহার, ভুষা, শিমরাইল বা কাশীপুর, পাইকপাড়া, বিনইল ও পূর্বকৃষ্টপুর। আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের-রাঘবপুর, বৈরাগী-পাড়া ও বোড়াই এবং মাত্রাই ইউনিয়নের-মাত্রাই, শালগুন, উনিহার, সাতার, কুসুমসাড়া, পাইকশ্বর, ভেরেন্ডি, উলিপুর ও ইন্দাহার গ্রামের সহজ-সরল, অভাবী ও খেটে খাওয়া শত শত কম বয়সি মানুষ তাদের এলাকায় বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে এবং স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ নেয়। সেই ঋণের দায়ে জর্জরিত হওয়া উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের তিন’শতাধিক মানুষ এলাকার কিডনি ক্রেতা দালালদের চটকদার কথার খপ্পরে পড়ে গোপনে তাদের কিডনি বিক্রি করেন এবং কিডনি বিক্রির পরে মুল টাকা না পেয়ে প্রতারণার শিকার হয়। তারা কিডনি ক্রেতার সাথে জড়িত বিভিন্ন দালালদের লোভনীয় অফারে, মোটা অংকের আর্থিক লোভে, কিছুটা আরাম-আয়েশী জীবন যাপনের আশায় এবং সংসারের স্বচ্ছলতার স্বপ্ন দেখে এক সময় তারা শরীরের মহা মূল্যবান অঙ্গ কিডনি বিক্রি করলেও এখন অর্থের অভাবে হচ্ছে না তাদের চিকিৎসা এবং ঔষধ। তাছাড়া সরকারি-বেসরকারীভাবে পাচ্ছে-না স্বাস্থ্য সেবাসহ ঔষধ-পত্র ও সুপরামর্শ। অন্যদিকে, তাদের দিন দিন স্বাস্থ্যের উন্নতির চেয়ে বরং অবনতি হচ্ছে। তাদের বাড়ছে শারীরিক ভাবে বিভিন্ন সমস্যা। ফলে তারা হারিয়ে ফেলছেন সব কর্মক্ষমতা। আর পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা ক্রমাগত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে থেকে দূরে সরে যাবার কারণে ওই সব শত শত পরিবারগুলো এখন অসহায়ত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছেন। ফলে কিডনি বিক্রেতারা কোন উপার্জন মূলক কাজ করতে না পারায় তাদের গোটা পরিবার বর্তমান মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

কী কারণে আপনার শরীরের মহা মূল্যবান অঙ্গ কিডনি বিক্রি করেন এই বিষয়ে জানতে চাইলে, কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামের কিডনি বিক্রেতা মৃত আমেজ হোসেনের ছেলে মো.আবেদ রহমান (৩৮) বলেন, অভাবের কারনে বিভিন্ন এনজিও এবং স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সেই ঋণের বোঝায় কাঁধে নিয়ে এবং অর্থের লোভে পড়ে মাত্র ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে গত ৩ বছর আগে কিডনি বিক্রি করেছি। সেই সঙ্গে নিজের কর্মক্ষমতাকেও বিক্রি করেছি। এখন আমি আর কোন কাজকর্ম করতে পারি না। এখন নিজেকে বড় অসহায় আর অপরাধী মনে হয়। লজ্জায়ে লোকালয়ে ভালোভাবে চলাফিরা করতে মনে চায়না। সমাজে কিডনি বিক্রি করা মানুষ হিসেবে প্রতিনিয়ত হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি। তাছাড়াও বর্তমান শারীরিক ভাবে ভালো নেই। কোন কাজ করতে পারছিনা। বর্তমান অর্থিক ভাবে অনেক অভাবের মাঝে আছি। মনে হচ্ছে,বেঁচে থাকার চেয়ে এখন আমার মৃত্যু অনেক ভালো। আমি যে ভুল করেছি, এমন ভুল যেন আর কেউ না করে।

কিডনি বিক্রি করে এখন কেমন আছেন এই বিষয়ে জানতে চাইলে,উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের তেলিহার গ্রামের কিডনি বিক্রেতা আব্দুল জলিলের স্ত্রী মুক্তি বেগম (২৮) বলেন, বর্তমানে আমি ভালো নেই। টাকার অভাবে ভালো খেতে ও চিকিৎসা করতে পারছিনা। আমার অভাবী সংসার। সংসারের জন্য ভারী কোন কাজ করলে সারা শরীলে প্রচন্ড ব্যথা হয়। মুখ-চোখ ও হাত-পা প্রায় সময়ে ফুলে থাকে। একটু হাঁটাচলা করলেই শাসকষ্ট দেখা দেয়। অনেক সময়ে গায়ে জ্বর থাকে, প্রসাবে জ্বালা-যন্ত্রণাও হয়। সব কিছু মিলে মনে হয়-এই বুঝি আমার মরণ হলো।

কোন সালে ও কত টাকার বিনিময়ে আপনে কিডনি বিক্রি করেছেন এই বিষয়ে জানতে চাইলে, উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের ভেরেন্ডি গ্রামের কিডনি বিক্রেতা নুরুল ইসলামের ছেলে আকতার আলম (৩৫) বলেন, গত ২০০৯ সালে এলাকার কিডনি ক্রেতা তারেক দালালের খপ্পরে পড়ে শরীরের মহা মুল্যবান অঙ্গ কিডনি বিক্রি করেছি। মাত্র ৪ লাখ টাকায় কিডনির দর দাম ঠিকঠাক হলেও প্রতারণার শিকার হয়ে মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পেয়েছি। ওই টাকা দিয়ে ৫টি এনজিওর ঋণের আসল টাকা পরিশোধ করেছি। বর্তমান আমি এক এনজিওর ৩০ হাজার টাকার কিস্তির বোঝা টানছি। জীবনের ভুল কাজের অনুশোচনা করে তিনি আরও বলেন, আগে মানুষের বাড়িতে কাজ করে বা কখনো ভ্যান চালিয়ে দিনে প্রায় ২শ টাকা পেলেও আমার সংসার ভালো চলত এবং শারীরিকভাবেও সুস্থ ছিলাম। আর এখন দিনে প্রায় ৪শ টাকার আয় করেও সংসার ভালোভাবে চলছেনা। প্রতি মাসে আমাকে অনেক টাকার ঔষধ কিনতে হচ্ছে। সংসারে আয়ের চেয়ে এখন ঔষধের পিছনে খরচ বেশী হচ্ছে।

কিডনি বিক্রি করার পর আপনে কোন সাহায্য সহায়তা পাচ্ছেন কি না এই বিষয়ে জানতে চাইলে, কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের বোড়াই গ্রামের কিডনি বিক্রেতা বেলাল হোসেনের স্ত্রী জোসনা বেগম (৩০) বলেন, কিডনি বিক্রির বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের ফলে অনেক জানা-জানি হলে সেই সময় কিডনি বিক্রেতাদের বিভিন্ন সহায়তার জন্যে এগিয়ে আসেন সরকারি ও বেসরকারিসহ বিভিন্ন সংস্থা। উপজেলার বৈরাগীহাটে কয়েক দিনের জন্য বসেছিল চিকিৎসা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন ক্যাম্প। সেখানে বড় বড় সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারাও এসেছিল। আমাদেরকে দিয়েছিল চিকিৎসা সেবা ও সুপরামর্শ। এখন আর আমাদেরকে কেউ খোঁজ খবর রাখেনা।

উপজেলার কয়টি গ্রামের মানুষেরা কিডনি বিক্রি করেছেন ও এখনো বিক্রি হচ্ছে কি এই বিষয়ে জানতে চাইলে,উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.ওয়াজেদ আলী দাদা এবং আহম্মেদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আকবর বলেন, গত কয়েক বছর থেকে উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের অভাবি মানুষেরা গোপনে তিন’শতাধিক কিডনি বিক্রি করেছেন। তবে এদের অধিকাংশের অবস্থাই বর্তমান খুব করুণ। তারা আরও বলেন, শুনেছি এর পরেও না-কি আবার নতুন ভাবে, অভিনব কৌশলে ফের ওইসব গ্রামের আশপাশের অনেক মানুষেরা এখনও গোপনে কিডনি বিক্রি করছেন।
নতুন করে কিডনি বিক্রি হচ্ছে কি না এই বিষয়ে জানতে চাইলে, কালাই থানা অফিসার ইনচার্জ মো.আব্দুল লতিফ খান বলেন,বর্তমান উপজেলাতে নতুন করে কেউ কিডনি বিক্রি করেনি। তাছাড়া কিডনি বিক্রি রোধে আমরা প্রত্যন্ত এলাকাতে গণসচেতনামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি।

কিডনি দেওয়া ও চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনজুর আহমেদ বলেন, যারা অর্থের জন্য কিডনি বিক্রি করেছেন। তারা জীবনে বড় ধরনের ভুল করেছেন। কারন, কিডনি দান করার পুর্বে কিডনি দাতার শারীরিকভাবে বিভিন্ন স্থরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, তিনি কিডনি দানের সক্ষম কি না তা ভালোভাবে বোঝার জন্য। কিন্তু কিডনি বিক্রির ক্ষেত্রে সেগুলো তেমন পরীক্ষা করা হয় না বিধায় শারীরিক ভাবে অনুপযুক্ত অনেক মানুষের কাছ থেকে কিডনি সংগ্রহ করা হয়। সেই সকল অনুপযুক্ত মানুষেরা পরবর্তী কালে জীবনে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যায় ভুগে থাকেন। এমনকি তারা মৃত্যুর মুখেও পতিত হয়। তবে, এলাকার কিডনি বিক্রিতারা যদি আমাদের কাছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন তারা অবশ্যই সঠিক ভাবেই চিকিৎসা সেবাই পাবেন।

এই সব বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আফাজ উদ্দিন বলেন, নতুন করে কিডনি বিক্রির প্রমানিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া ইতোপুর্বে গোপনে ও লোভে পড়ে যারা শরীরের মূল্যবান অঙ্গ কিডনি বিক্রি করছেন। ওইসব কিডনি বিক্রিকারীদের মধ্যে যাচায়-বাচায় করে বেশী অসুস্থতাদের প্রয়োজনীয়তা সহায়তা দেয়া হবে।

বিনিয়োগ বার্তা/এস