৮ বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে বিএনপি

24

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে আট বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলের নীতিনির্ধারকরা কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করছেন।

পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এ কর্মসূচি শেষ করা হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এসব সমাবেশ হলেও এর মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে চান নীতিনির্ধারকরা। এ মুহূর্তে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়ে প্রত্যাশা ও সাহস জোগানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা গেছে। সমাবেশ সফল করতে মহানগর ও জেলা নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন।

মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও তারা বসছেন। আগামী দিনে করণীয় সম্পর্কেও তাদের গাইডলাইন দেয়া জরুরি। ফলে নির্বাচনের পর ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবে।

আরও পড়তে পারেন :  দেশদ্রোহী হিসেবে প্রিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে: কাদের

এর ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে আন্দোলন-সংগ্রামসহ সার্বিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। কমিটি পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিএনপির তৃণমূল চাঙ্গাও করা হচ্ছে।

মনোবল ফিরিয়ে এনে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি আট বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড।

এদিকে পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে কোথাও কোথাও উত্তাপ ছড়ানোর আশঙ্কাও রয়েছে। যোগ্য ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন এবং তৃণমূলের মতামত না নিয়ে সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে পদ ভাগাভাগি করে নেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, যোগ্য ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে অযোগ্য ও সুবিধাবাদীদের নেতৃত্বে আনা হচ্ছে। এতে দল সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হবে না।

আরও পড়তে পারেন :  সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি, ব্যাখ্যা চাইলেন কাদের

উল্টো যারা মামলা-হামলা সহ্য করে রাজনীতি করছেন, তারা নিরুৎসাহিত হবেন। ক্ষোভে-অভিমানে অনেকে রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারেন।

এ ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতির কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে একধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। আমাদের এখন মূল কাজই হচ্ছে হতাশাগ্রস্ত নেতাকর্মীদের জাগিয়ে তোলা।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে আমরা জেলাগুলোর কমিটি আপডেট করছি। যারা যোগ্য ও ত্যাগী এবং আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদেরই নেতৃত্বে আনা হচ্ছে। এতে তৃণমূলে প্রাণ ফিরে আসবে বলে তিনি আশা করেন।

আরও পড়তে পারেন :  ডিসিদের বিশেষ ফোর্সের প্রয়োজন নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নানা কারণে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে বারবার পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মাঠের রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা।

নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের লাখ লাখ নেতাকর্মীকে উজ্জীবিত করতে কোনো গাইডলাইন বা দিকনির্দেশনা ও মনিটরিং ছিল না। ফলে হতাশ হয়ে পড়েন দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

এমন পরিস্থিতিতে দলটিতে ফের পুনর্গঠন শুরু হয়েছে। এ বছরের শেষ নাগাদ জাতীয় কাউন্সিল করার টার্গেট নিয়ে এ প্রক্রিয়ায় হাত দিয়েছে দলটি। দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনর্গঠন কাজ শেষ করা হবে।

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here