২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩৩, শনাক্ত ৩৫৩৩

করোনায় দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২,৪৫৭ জনে। একই সময়ে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩,৫৩৩ জন। নতুন শনাক্ত নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১,৯৩,৫৯০।

বুধবার করোনা সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪ হাজার ৩০৮টি নমুনা সংগ্রহ এবং ১৪ হাজার দুইটি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো নয় লাখ ৮০ হাজার ৪০২টি। ২৪ ঘণ্টা শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

ডা. নাসিমা সুলতানা আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও এক হাজার ৭৯৬ জন। এতে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ পাঁচ হাজার ২৩ জনে। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৩৩ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ২৭ জন এবং নারী ৬ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়, এ পর্যন্ত এক হাজার ৯৪০ জন পুরুষ এবং ৫১৭ জন নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসেবে পুরুষ ৭৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং নারী ২১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় যে ৩৩ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে ১০ বছরের নিচে একজন, ত্রিশোর্ধ্ব তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব পাঁচজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১০ জন, ষাটোর্ধ্ব সাতজন, সত্তরোর্ধ্ব পাঁচজন ও ৮০ বছরের বেশি বয়সী দুইজন রয়েছেন।

বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারী ৩৩ জনের মধ্যে ১৬ জন ঢাকা বিভাগের, সাতজন চট্টগ্রাম বিভাগের, দুইজন রাজশাহী বিভাগের, পাঁচজন খুলনা বিভাগের এবং তিনজন রংপুর বিভাগের। হাসপাতালে মারা গেছেন ২৭ জন এবং বাসায় ৮ জন।

বরাবরের মতোই বুলেটিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

উল্লেখ্য, চীনের উহান থেকে করোনা গত ছয় মাসে বিশ্বের ২১৩ টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে । চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে। দেশে করোনা সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

করোনায় মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *