হাফিজের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টি চেষ্টার অভিযোগ পুলিশের

43

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টার অভিযোগ এনেছে পুলিশ। তিনি দলীয় চেয়ারপারসনের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ ইসাহাক মিয়ার সঙ্গে যোগসাজশ করে দেশবিরোধী এ ষড়যন্ত্র করছিলেন বলে তার বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।

গত শনিবার (১২ অক্টোবর) সকালে মিরপুরের ডিওএইচএস থেকে প্রথমে কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ ইসাহাক মিয়াকে আটকের পর পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। মামলায় মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদসহ ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন নামে আরেকজনকেও আসামি করা হয়। শনিবার রাতেই সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে আসার পর বিমানবন্দর এলাকা থেকে হাফিজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে গ্রেফতারের একদিন পরই জামিন পেয়েছেন তিনি।

আরও পড়তে পারেন :  এমপি বুবলীকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার

মামলার এজাহার ও ফরোয়ার্ডিংয়ে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে র‌্যাব ৪-এর একটি দল পল্লবী এলাকায় ডিউটি করা কালীন জানতে পারে, গত ২ মে সকাল ১১টা ৫৭ মিনিটে কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ইসাহাক মিয়া তার বাসায় অবস্থান করে নিজের ইমেইল থেকে হিরেন মুখার্জী নামে এক ব্যক্তিকে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, র‌্যাব, পুলিশসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থার ভূমিকা সম্পর্কে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক তথ্য পাঠায়। যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। তার এসব কার্যকলাপে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে। আসামির এসব উত্তেজনাকর ও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপ সামরিক বাহিনীতে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার বিভিন্ন হীন অপপ্রয়াশের প্রচেষ্টা।

আরও পড়তে পারেন :  আ’লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা

এতে আরও বলা হয়েছে, আসামির এসব কার্যকলাপ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর ২৭, ৩১ ও ৩৫ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হওয়ায় তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও ব্যারিস্টার এম সারোয়ারসহ অজ্ঞাতনামা অনেকেই জড়িত রয়েছেন।

তবে হাফিজকে আদালতে সোপর্দ করে শুনানিতে পর্যাপ্ত নথি উপস্থাপন করতে না পারায় জামিন হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে একদিন আগে-পরে আদালতে সোপর্দ করা দুই আসামির জন্য আদালতে দেওয়া ফরোয়ার্ডিংও একই বিষয়বস্তু হওয়ার কারণও উল্লেখ করেছিলেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মামলার এজাহারে ঘটনা যেভাবে উল্লেখ করা ছিল আদালতে পাঠানো ফরোয়ার্ডিংয়ে সেভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

আরও পড়তে পারেন :  বিতর্কিতরা আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে লাভ নেই: কাদের

পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) এসএম শামীম বলেন, ‘র‌্যাব তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে আমাদের কাছে সোপর্দ করেছে। আমরা তাদের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আদালত জামিন দিয়েছেন। মামলার এজাহারে যা ছিল সে বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য আমরা রিমান্ড চেয়েছিলাম।’

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here