সেবা নেই বেনাপোলে, ট্যাক্স আদায়ে ব্যস্ত সংশ্লিষ্টরা

0
57

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগ বার্তা:

পর পর দুইবার ঘটা করে উদ্বোধন করা হলেও যাত্রী সেবার কোনো বালাই নেই বেনাপোল স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানি ও ঘুষের কারণে প্রায়ই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় দু’দেশের যাত্রীদের।

পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও যাত্রীরা বলছেন, প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনে যে সুবিধার কথা বলে ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে তার কোনোটাই সেখানে চালু নেই। তাহলে কেন বাড়তি এই ট্যাক্স আদায় ?

আর বন্দর কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহায় দিয়ে বলছেন, যাত্রী সুবিধার ক্ষেত্রগুলো চালুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে এক কিলোমিটার দূরে বেনাপোল বাজারে গিয়ে বাসের টিকিট ও ক্যান্টিনসহ প্রয়োজনীয় কাজ সারতে দীর্ঘ সময় হয়রানি ভোগ করতো হয়। তা বিবেচনায় নিয়ে যাত্রীদের হয়রানী রোধে ও যাত্রী সেবার মান বাড়াতে বেনাপোল চেকপোষ্টে সরকার এই আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন তৈরি করে। এখানে এক ছাদের নিচে ৩৯ টাকা ট্যাক্স পরিশোধে যাত্রী সুবিধার্তে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, ব্যাংক, খাবারের ক্যান্টিনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকার কথা।

গত ২ জুন প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের কার্যক্রম দ্বিতীয়বারের মত আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহাজান খান । এর আগে ২০১৩ সালের ২৩ শে অক্টোবরে আরো একবার এই ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী ।
কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং সেবা বিন্দুমাত্র সুবিধা না থাকায় টার্মিনালটি কেউ ব্যবহার করতে পারছে না।

গত ৫ জুন সকালে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নতুন উদ্বোধন হওয়া এই ভবনে ইমিগ্রেশন,কাস্টমস ও সোনালী ব্যাংকের বুথ থাকার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা স্থাপন হয়নি।

এছাড়া পরিবহন কাউন্টার ও খাবারের ক্যান্টিন চালু নেই। যাত্রীদের ব্যাগ বহনের জন্য টলি থাকার নিয়ম থাকলেও তা এসে পৌঁছায়নি। নেই পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থা। এতে যাত্রীরা অযথা এ ভবনে গিয়ে সরকারকে ৪০ টাকা ট্যাক্স দিতে বিরক্তবোধ করছেন।

অনেক যাত্রী বিনিয়োগ বার্তাকে জানিয়েছেন, বন্দরের আনসার সদস্যরা এক প্রকার জোর করে রাস্তা থেকে যাত্রীদের ধরে নিয়ে ট্যাক্স পরিশোধে বাধ্য করছেন।
এদিকে প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে যাত্রীদের কাঙ্ক্ষিত কোনো সুবিধা না থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ এই ভবনটিতে অবৈধভাবে প্রশাসনিক ভবনের সাইবোর্ড ঝুলিয়ে নিজেরাই ব্যবহার করছেন। এছাড়া বন্দরের আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনাল ভবনেও যাত্রী সুবিধা বঞ্চিত করে আর্ম ব্যাটালিয়ন পুলিশের ক্যাম্প বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ভারত ভ্রমণকারী যাত্রী প্রবীর কুন্ড জানান, একবার সরকারকে ভ্রমণকর ৫১০ টাকা দিচ্ছি। আবার বন্দর কর্তৃপক্ষ ৪০ টাকা ট্যাক্স নিলো। কোনো সুবিধা নেই টার্মিনালে কেন টাকা দিলাম বুঝলাম না।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি ওমর শরীফ বৃহস্পতিবার (০৮ জুন) সকালে জানান, আমরা যাত্রীদেরকে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন ব্যবহারের জন্য নির্দেশনা দিচ্ছি। কিন্তু যাত্রীরা সেখানে যেতে চাইছে না। এছাড়া আমরা অভিযোগ পাচ্ছি ওই টার্মিনালটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই নাজুক, সেখানে দালালদের অবাধ প্রবেশ রয়েছে। যাত্রী সেবার কোনো ব্যবস্থা নেই।

বেনাপোলে শ্যামলী পরিবহনের ম্যানেজার গিয়াসউদ্দিন বিনিয়োগ বার্তাকে জানান,পর পর দুইবার নাম মাত্র উদ্বোধন করা হয়েছে এই টার্মিনালের। যাত্রী সেবার কোনো ক্ষেত্রই সেখানে নেই। সেবা না পেলে যাত্রীরা ট্যাক্স দিবে কেন?

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম বিনিয়োগ বার্তাকে জানান, প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনে যাত্রী সেবার সকল ক্ষেত্রগুলো চালুর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি সেবা চালু করতে টেন্ডার দিতে হবে। যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

যাত্রী ও স্থানীয়রা বলছেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ আর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের রশি টানাটানিতে ঝুলে আছে বেনাপোলের স্থলবন্দর ব্যবহার করা অসংখ্য যাত্রীদের সেবার মান।

বিনিয়োগ বার্তা/মাসুদ/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here