সামিট পাওয়ারের মূলধন বাড়ানোর আবেদন

0
53

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা:
পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত জ্বালানি খাতের কোম্পানি সামিট পাওয়ার লিমিটেড মূলধন বাড়ানোর আবেদন করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মূলধন বাড়ানোর অনুমতি পেলে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন স্থগিত সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সামিট পাওয়ার অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরে ১৯ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৫১৮ টি শেয়ার ইস্যু করে ১৯১ কোটি ৮৭ লাখ ৬৫ হাজার ১৮০ টাকা মূলধন বাড়াতে চায়।

সামিট পাওয়ারের সঙ্গে এ গ্রুপের তিন কোম্পানি একীভূতকরণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া জটিলতায় উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে বন্ধ আছে কোম্পানির লেনদেন। একই সঙ্গে বিএসইসি ও উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ গঠন করেছে আলাদা তদন্ত কমিটি।

এর আগে গত বুধবার সামিট পাওয়ারের একীভূতকরণ নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন বিএসইসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন নিজামী। এতে বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই ও সিডিবিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করে। পরে ওই দিন রাত্রে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ সামিট পাওয়ারের লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে।

বিএসইসির অভিযোগ, কোম্পানিটি একীভুতকরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিবিধান সঠিকভাবে অনুসরণ করেনি। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে কোম্পানিটি মূলধন বাড়ানোর অনুমতি নেয়নি। কিন্তু কোম্পানি দুটি একীভূত হওয়ার কারণে সামিট পাওয়ারের নিশ্চিতভাবেই বাড়বে। তাই একীভুতকরণ সম্পন্ন করার আগেই মূলধন বাড়ানোর অনুমতি নেওয়া অপরিহার্য।

গত শুক্রবার সামিট ইস্যুতে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে বিএসইসি। ৪ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলমকে। বাকি ৩ সদস্য হলেন পরিচালক মনসুর রহমান, মোহাম্মদ রেজাউল করিম ও উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার। এই কমিটিকে আগামী ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

জানা গেছে, ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ২২৮ ও ২২৯ ধারা অনুসারে উচ্চ আদালতে ৩ কোম্পানিকে সামিট পাওয়ারের সঙ্গে একীভূতকরণের অনুমোদন চাওয়া হলে শর্তসাপেক্ষে গত ১৪ জুলাই সামিট গ্রুপের ৩ কোম্পানির একীভূতকরণের চূড়ান্ত অনুমতি দেন হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমদের বেঞ্চ। এর আগে বিধি মোতাবেক বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারহোল্ডার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিরও অনুমোদন নেয় কোম্পানি দুটি।

সামিট পূর্বাঞ্চলের একটি শেয়ারের বিপরীতে সামিট পাওয়ারের ১ দশমিক ৩০৯টি শেয়ার পাবেন শেয়ারহোল্ডাররা।সামিট উত্তরাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানির একটি শেয়ারের বিপরীতে সামিট পাওয়ারের ১ দশমিক ৬৬৮টি এবং সামিট নারায়ণগঞ্জ পাওয়ারের একটি শেয়ারের বিপরীতে সামিট পাওয়ারের ১ দশমিক ৪৭৫টি শেয়ার দেওয়া হয়।

২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডকে গত মঙ্গলবার বাজার থেকে থেকে তালিকাচ্যুত (ডি-লিস্টেড) করার সিদ্ধান্ত নেয় দুই স্টক এক্সচেঞ্জ।
বিনিয়োগবার্তা/আই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here