সমাজের উন্নয়নে কাজ করছে ‘কেরানীগঞ্জ গ্র্যাজুয়েট সোসাইটি’ -ম.ই.মামুন

0
38

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগ বার্তা:

রাজধানীর সবচেয়ে কাছের জনপদ কেরাণীগঞ্জ। দেশ স্বাধীন হবার আগে থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্যে বেশ নামডাক ছিল এই জনপদটির। কিন্তু ব্যবসায় এগিয়ে থাকলেও লেখাপড়ায় তখন অনেক পিছিয়ে ছিল এই এলাকা। তাই দেশব্যাপী একটা কথা কয়েক বছর আগেও মানুষের মুখে প্রচলিত ছিল। সবাই বলতো বাতির নিচে অন্ধকার। এর মানে ঢাকার এতো কাছে থেকেও লেখাপড়ায় অনেক পিছিয়ে এঅঞ্চলের মানুষ। স্বাধীনতার পরে সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে বেড়ে গেছে এই এলাকার শিক্ষিত যুবকের হার।

বিগত বছর গুলোতে গ্র্যাজুয়েটদের সংখ্যা কম থাকলেও বর্তমানে অধিকাংশ ঘরে খোঁজ নিলেই পাওয়া যাবে একাধিক গ্র্যাজুয়েট। কিন্তু সময়ের দাবিতে প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ালো সকল গ্র্যাজুয়েটদের একত্র করা। মাত্র এক বছর আগে কেরাণীগঞ্জের সকল গ্র্যাজুয়েটসদের এক ছাতার নিচে আনার প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিলো । আর সেই ছাতা নাম দেয়া হয়েছিল ‘কেরানীগঞ্জ গ্র্যাজুয়েট সোসাইটি’ । বর্তমানে মেধাবী সকল গ্র্যাজুয়েটসদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সংগঠনটি। আর, এই কঠিন কাজটির নেপথ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একসময়কার মেধাবী ছাত্র ম. ই. মামুন।

প্রতিষ্ঠার পর খুব দ্রুতই বাড়তে থাকে গ্র্যাজুয়েটসদের অরাজনৈতিকএই সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা। এরই মধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে দুই হাজারের কোটা। এত অল্প সময়ে মানুষের মন জয় করে এগিয়ে চলা এমন আর একটি সংগঠন এই জনপদে আর দ্বিতীয়টি নেই। ফলে সর্বস্তরের মানুষের নজর কেড়েছেন।

জানা গেছে, অল্প দিনের প্রচেষ্টায় তাঁরা এলাকার শিক্ষা, সংস্কৃতি, দরিদ্র সেবা ও সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এলাকায় আওয়াজ তুলেছেন। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নেই আলাদা আলাদা কমিটি গঠনের মাধ্যমে চিহ্নিত করেছেন সামাজিক সমস্যাগুলো। তারই আলোকে তাঁরা এগিয়ে যান একে একে সমাধানের পথে।

শীতের সময় এলাকার হতদরিদ্র, পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষের কাছে পৌঁছে দেন শীতবস্ত্র। আরও নানা সময়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্যে কাজ করেন তাঁরা। গত ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস উপলক্ষে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চত্বরে সহস্র মোমবাতি প্রজ্জলন করে এক আলোর মিছিলের আয়োজন করে এ সংগঠনটি। পরে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের শহীদ বেদিতে পুষ্পার্পনের মাধ্যমে একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সেখানে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সাড়া দিয়ে স্বতঃস্ফুর্ত অংশ নেয় স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সংগঠনটির উদ্যোগে চুনকুটিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর। প্রদর্শনীর নাম দেয়া হয়— আলোকচিত্রে বাংলাদেশ। দুই শতাধিক চিত্রকর্ম সেখানে প্রদর্শন করা হয়। যার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে ভাষা আন্দোলনসহ বাংলাদশের ইতিহাস। এ ছাড়াও ছিল শিশুতোষ চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, একুশের ছড়া-গান, কবিতাবৃত্তি, আলোচনা সভা ও একুশের কনসার্ট।

এ ছাড়া গত ৭ রমজান শনিবার স্থানীয় জিসান কমিউনিটি সেন্টারে এক ইফতার মাহফিল ও দোয়া মোনাজাতের আয়োজন করে সংগঠনটি। এটি শেষপর্যন্ত কেবল একটি ইফতার পার্টিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। হয়ে ওঠে উপজেলার বিশিষ্টজনদের মিলনমেলায়। একসঙ্গে এত সংখ্যক গ্র্যাজুয়েটসের মিলিত বন্ধন এর আগে আর কোথাও দেখা যায়নি।

বলতে গেলে সংগঠনটি যখনই ডাক দেয়, হাজির হয়ে যান যে কোনো শ্রেণি পেশার মানুষ। এটাই তাদের অন্যতম সাফল্য। অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের আস্থা অর্জনের এই সাফল্য দিয়ে তাঁরা রাঙাতে চান আগামীর স্বপ্নগুলো।

কেরানীগঞ্জ গ্র্যাজুয়েট সোসাইটির এই সাফল্যের পেছনে অন্যতম অগ্রণী ভূমিকা রাখেন সভাপতি ম. ই. মামুন। সাংগঠনিক দক্ষতার এই বিশেষ গুণ তাঁর মধ্যে আগে থেকেই ছিলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ছাত্রনেতা একাধারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সহকারি একান্ত সচিব, স্থানীয় পাক্ষিক বুড়িগঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোসিওলজি অ্যালোমনাই এসোসিয়েশনের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, উপজেলার জিনজিরা পী এম পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এবং কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে আছে তাঁর নিবিড় সংযোগ। তাঁর কৃতিত্বে কেরানীগঞ্জ গ্র্যাজুয়েট সোসাইটি অনেকদূর এগিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করেন সদস্যরা।

‘কেরানীগঞ্জ গ্র্যাজুয়েট সোসাইটি’ সম্পর্কে ম. ই. মামুন বিনিয়োগ বার্তাকে বলেন, আমাদের প্রধান কাজ সমাজের সকল জঞ্জাল অপসারণ করে একটি সুখি, সমৃদ্ধ ও আধুনিক কেরাণীগঞ্জ গড়ে তোলা। যেখানে বাল্য বিবাহ, মাদক, সন্ত্রাস কিংবা যেকোন ধরনের সামাজিক অনাচার রোধ করাই হবে সংগঠনের মূল শপথ। এছাড়া স্থানীয় গ্র্যাজুয়েটসরা কিভাবে স্বাবলম্বী ও সমাজের সম্মানিত আসনে স্থান পাবে তার তাঁর পথপ্রদর্শক হয়ে কাজ করবে ‘কেরানীগঞ্জ গ্র্যাজুয়েট সোসাইটি’।

বিনিয়োগ বার্তা/মাসুদ রানা/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here