‘সব সেবা একস্থানে পেলে প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে’

1566

মিতা আফরোজ, বিশেষ প্রতিনিধি, বিনিয়োগ বার্তা:
দেশে দিন দিন পর্যটন শিল্পের বিকাশ লাভ করছে।পর্যটন শিল্পের সঙ্গে হোটেল মোটেলগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত।পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে এবং দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে দেশে হোটেল ব্যবসা শুরু করেন লন্ডনপ্রবাসী সৈয়দ আকামত আলী রুবেল। সম্প্রতি ‘বিনিয়োগ বার্তা’ অনলাইন নিউজ পোর্টাল কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তার ব্যক্তিজীবন ও ব্যবসায়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি মিতা আফরোজ।
প্রবাসে বসবাস করেও দেশের মানুষের কল্যানে কাজ করা যায় তার অনবদ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন লন্ডন প্রবাসী সৈয়দ আকামত আলী রুবেল। যিনি একাধারে শিক্ষানুরাগী, ক্রীড়ানুরাগী, অসহায় বিপদগ্রস্থ মানুষের পরম বন্ধু। বিদেশে বসবাস করেও তিনি তার এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করে চলেছেন। সেই উন্নয়নের গতিধারায় দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ২০১৪ সালে রাজধানীর উত্তরা ৯ নং সেক্টরে গড়ে তুলেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার হোটেল। তিন তারকা বিশিষ্ট হোটেলের সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এটি একটি আধুনিক হোটেল। যেখানে দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের সমাগম লক্ষ্য করা যায়।
সৈয়দ আকামত আলী রুবেল এর পিতৃভূমি সিলেটের ওসমানীনগর সৈয়দ মান্দারুকা। সর্ব প্রথম তার দাদা ১৯৫১ সালে লন্ডনে যান, পরে ১৯৬২ সালে তার বাবা সৈয়দ আকবর আলী। তার মায়ের নাম সৈয়দা আনোযারা বেগম। সৈয়দ আকামত আলী ১৯৮৫ সালে দেশে মাধ্যমিক পড়ালেখা শেষ করে বাবার কাছে লন্ডনে চলে যান। সেখানে সাফল্যের সঙ্গে কলেজের গন্ডি পেরিয়ে অর্থ উপার্জনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কিছুদিনের মধ্যে তিনি নিজেই একটি হোটেল ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু সেখানে খুব বেশি সাফল্য আসেনি। তাই ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে বৃটিশ রেল ট্রাক কোম্পানিতে চাকুরী শুরু করেন। কিন্তু তার মন পড়ে থাকলো ব্যবসার মধ্যে। তাই চাকুরীত বেশিদিন থাকা হলো না । এবার ইস্ট লন্ডনের ওপেন একটি মার্কেটে শুরু করলেন কাঁচামালের ব্যবসা। আর সেখান থেকে তার সফলতা শুরু। বর্তমানে এই ব্যবসার পরিধি বিস্তৃত করেছেন আর সেই সঙ্গে রয়েছে হাউজিং ব্যবসাও।
দেশের বিনিয়োগ করার পেক্ষাপট জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রবাসে থাকলেও দেশের মানুষের সঙ্গে তার সার্বক্ষনিক যোগাযোগ থাকতো। এলাকার মানুষের বিপদ আপদে, বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। কিন্তু এক সময় তিনি মনে করলেন, এভাবে উপার্জিত অর্থ থেকে, মানুষের জন্য যতই সহায়তা করা হউক তাতে মানুষের ভাগ্যের তেমন কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। এজন্য এমন কিছু করতে হবে যাতে মানুষের স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। আর এ চিন্তা থেকে দেশে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেন এবং শুরু করেন হোটেল ব্যবসা।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ খুব ভালো। তবে প্রবাসীদের এদেশে বিনিয়োগে আরও উৎসাহিত করতে হলে প্রশাসনিক কাজে জটিলতা কমাতে হবে। কম সময়ে এক জায়গায় সব সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সেজন্য ওয়ান স্টপ সেন্টার চালু করা যেতে পারে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই এমন ব্যবস্থা বিদ্যামান। এব্যাপারে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ প্রবাসীরা বাংলাদেশে আসেন অল্প সময় নিয়ে। এখানে এসে দাপ্তরিক কাজে যদি অতিরিক্ত সময় ক্ষেপন করা হয়, হয়রানি হয় তাহলে প্রবাসীরা বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবে। তাই এব্যাপারে সরকারকে সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। মোট কথা সব সেবা একসঙ্গে একই স্থানে পেলে অর্থাৎ ওয়ান স্টপ সেন্টার চালু হলে, জটিলতা কমলে প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে।
আকামত আলী কিছুটা আক্ষেপের সুরেই বলেন, আমাদের সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিদেশ গিয়ে প্রবাসীদের অনেক প্রতিশ্রুতি ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আসলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় দেশে আসার পর সেই প্রভাবশালীদের কথার সঙ্গে কাজের কোনো মিল নেই। তাদের কাছ থেকে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যায় না। এ কারণেও অনেকে এদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

বাংলাদেশে হোটেল ব্যবসার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এদেশে হোটেল ব্যবসার সম্ভাবনা খুবই ভালো। তবে দেশী বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হবে। পর্যটন কেন্দ্রগুলো আরও সুসজ্জিত করতে হবে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা শহরে যানজট কমাতে হবে। তাছাড়া পুলিশী হয়রানি বন্ধ করতে হবে। দম্পতিদের হোটেল থাকার আনুষ্ঠানিকতা শিথিল করতে হবে। এসব ব্যবস্থা না করলে পর্যটকরা আকৃষ্ট হবে না। তারা পার্শ্ববর্তী যেসব দেশে সুযোগ সুবিধা ও নিরাপত্তা বেশি সেদিকে চলে যাবে। তাই এব্যপারে সরকারকে আরও যত্নবান হতে হবে।
মানুষের কল্যানে কাজ করলে, মানুষকে ভালোবাসলে প্রকৃতি তার যথানিয়মে প্রতিদান দিয়ে থাকে। সৈয়দ আকামত আলী প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের কল্যানে কাজ করছেন। তিনি সিলেটে সৈয়দ আকবর আলী কল্যান ট্রাস্ট গঠন করেছেন। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে এলাকায় দরিদ্র মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

তিনি লন্ডনে বসবাস করলেও প্রতিবছর তিন থেকে চার বার দেশে ছুটে আসেন। এলাকার মানুষও তাদের এ প্রিয় মানুষটিকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়। তারা তাকে বিভিন্ন সময় সম্মাননা দিতেও ভুলে না। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কাছ থেকে পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা। এছাড়াও তিনি লন্ডনে বৃটিশ-বাংলাদেশ বিজনেস এ্যাওয়ার্ড-২০১৭ পেয়েছেন। এনআরবি ইনভেস্টর অব দ্যা ইয়ার হিসেবে ভূষিত হয়েছেন। যতদিন বেঁচে থাকবেন মানুষের কল্যানে কাজ করতে চান এই উদ্যোক্তা।

বিনিয়োগ বার্তা/এমএ/এম

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here