শেয়ারবাজার উন্নয়নে ৮ টি বিষয় নিয়ে কাজ করবে বিএমবিএ

183

শেয়ারবাজার উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় বাংলাদেশ ব্যাংক যুগান্তকারি নীতি সহায়তার সার্কুলার দিয়েছে। যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ ও সাহস যোগাচ্ছে। একই সঙ্গে বিএমবিএ শেয়ারবাজার উন্নয়নে ৮ টি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে। এগুলো নিয়ে বিএমবিএ কাজ করে যাবে।

শনিবার (১৫ ফেব্রয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে বিএমবিএ সাধারন সম্পাদক রিয়াদ মতিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান, নির্বাহী সদস্য মাহবুব এইচ মজুমদার, নুর আহমেদ, মো. হামদুল ইসলামসহ অন্যন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

যে ৮ টি বিষয় নিয়ে বিএমবিএ কাজ করবে সেগুলো হচ্ছে- ১. বিনিয়োগকারীদের সচেতন করা। ২. সরকারের নীতি নির্ধারনী পক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা ও সমন্বয় সাধন করা। ৩. শেয়ারবাজারের সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে সমন্বয় সাপেক্ষে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সমুন্নত রাখা। ৪. ভাল উদ্যোক্তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো। ৫. শেয়ারবাজারের আকার বৃদ্ধিতে গুনগত মান সমৃদ্ধ বৃহৎ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভূক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে সমন্বয়ের চেষ্টা করা। ৬. শেয়ারবাজারের সার্বিক মূল্যায়নের জন্য সকল অংশীজনের সমন্বয়ে প্রতি ছয় মাসে ১টি বড় সেমিনার করার উদ্যোগ নেয়া। ৭. আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বা প্রচলিত অথচ আমাদের শেয়ারবাজারে অনুপস্থিত, সেই সকল বিষয়ে অংশীজনদের সাথে আলোচনা ও সমন্বয় করা। ৮. বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সমন্বয়ে বছরে ১টি আন্তর্জাতিক সেমিনার করা।

আরও পড়তে পারেন :  ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান বিজিএমইএ'র

ছায়েদুর রহমান বলেন, বর্তমানে একটি কোম্পানিকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনে প্রায় ৪০০ শর্ত পরিপালন করতে হয়। তারপরেও আইপিও’র মান নিয়ে সমালোচনা করা হয়। কিন্তু কেউ মান উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করে না। আইপিও’র মান উন্নয়নে বিদ্যমান ৪০০ শর্ত ছাড়াও যদি অন্যকোন শর্ত প্রয়োজন মনে করা হয়, তাহলে সে বিষয়ে কমিশনে সুপারিশ করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের মূল চালিকা শক্তি আর্থিক হিসাব। এর মান উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এজন্য আইসিএবি এবং এফআরসির সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এছাড়া এ বিষয়ে মার্চ মাসে একটি সেমিনার করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সুশাসনের বিষয়ে বিএমবিএ এর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করবে।

ছায়েদুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ফান্ড নিয়ে যুগান্তকারী নীতি সহায়তা দিয়েছে। যা ইতিমধ্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ এবং সাহস যোগাচ্ছে। এ সহায়তা কোন প্রকার দান বা ভর্তুকি না। ফলে এটা নিয়ে অপপ্রচার করার কোন কোন সুযোগ নেই। তারপরেও কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যাংকের জন্য বোঝা, টেক্সের টাকা ইত্যাদি ভুল ব্যাখা প্রদান করছেন। যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরী করতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হংকংয়ের শেয়ারবাজার খুবই শৃঙ্খল। সেখানেও বছরে তালিকাভুক্ত হওয়া ২০০ কোম্পানির অর্ধেক অভিহিত মূল্যের নিচে চলে আসে। আমরা যে ভারতের শেয়ারবাজারকে অনুসরন করি, সেখানে প্রথমদিনেই অনেক কোম্পানির শেয়ার দর অভিহিত মূল্যের নিচে লেনদেন হয়।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের দেশে যেসব কোম্পানির শেয়ার দর বেশি উত্থান-পতন হয়, সেসব শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি। তারা পিই ৩ এর নিচে থাকা শেয়ারেও আগ্রহ দেখায় না। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের বর্তমান পিই ১২ এবং ভারতের পিই ২৮ বলে যোগ করেন তিনি।

আরও পড়তে পারেন :  মসজিদে ৫ জনের বেশি নয়

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আমাদের শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি অনুকল ছিল না। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত থেকে বিশ্লেষনে বুঝা যায় যে, বাজারে অর্থের যোগান কম ছিল। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরনের জন্য বাজার মধ্যস্থতাকারিদের অংশগ্রহন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহজ শর্তে ঋণ গ্রহনের সুযোগ করার জন্য মাননীয় অর্থমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছিলাম। কোন প্রকার দান বা ভর্তুকির প্রস্তাব করি নাই। সেই প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। যার দুরদর্শী দিকনির্দেশনা শেয়ারবাজারকে নতুন গতি দিয়েছে। একইসঙ্গে কৃতজ্ঞতা অর্থমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব,অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রতি।

আরও পড়তে পারেন :  করোনায় দুদক পরিচালকের মৃত্যু, আইসোলেশনে স্ত্রী-সন্তান

তিনি বলেন, সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেয়ারবাজার উন্নয়নের জন্য ৬টি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। এরমধ্যে রয়েছে- শেয়ারবাজারে ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশ গ্রহন বৃদ্ধি করা, মার্চেন্ট ব্যাংকার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা ব্যবস্থা করা, আইসিবির সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, বাজারে আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্দ্যোগ গ্রহন করা এবং বাজারে আরও ভালো ও মানসম্পন্ন কোম্পানির তালিকাভুক্তির লক্ষ্যে বহুজাতিক কোম্পানী ও সরকারীলাভজনক কোম্পানী আনা। এসব বিষয়াদি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে এবং শেয়ারবাজার আরও গতিশীল হবে। যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

ছায়েদুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। যা বাজারের গভীরতা বাড়াতে সাহায্য করবে। বহুজাতিক ও বেসরকারি খাতের স্বনামধন্য কোম্পানীকে বাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে উৎসাহিত করার জন্য নীতিসহায়তা দরকার। বর্তমানে ব্যাংক থেকে সহজে ঋণ পাওয়ায় অনেক কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে চায় না। কারন শেয়ারবাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতার সম্মুখীন হতে হয়।

বিনিয়োগ বার্তা/ মাসুদ

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here