শুভকামনা পৃথিবীর তাবৎ মায়েদের জন্য: রিমি রুম্মান

0
77

ডেস্ক, বিনিয়োগবার্তা: সংসারে একে অপরকে বুঝা একটি কঠিন কাজ। বিশেষ করে কোনো নারী যখন বউ হযে কোনো সংসারে পা বাড়ায় তখন স্বামীর পরিবারে তাকে সহ্য করতে হয় অনেক ঘাত প্রতিঘাত। সেক্ষেত্রে শাশুড়ির ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি নতুন বউকে ছাড় দেয়ার মানসিকতাও থাকতে হয়। সব মিলিয়ে পরিবারে বসবাস করে মানুষ। তবে যখন পরিবারের একে অপরের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ভাব জন্ম নেয় তখনই গড়ে উঠে সুখের সংসার। জন্ম নেয় একজনের প্রতি অন্য জনের অফুরন্ত শ্রদ্ধা-ভালবাসা। আজ নিজের পরিবারের এমনই একটি সুখের কথা, শাশুড়ির প্রতি শ্রদ্ধা-ভালবাসার কথা, বন্ধনের কথা ফেসবুকে জানালেন নিউইয়র্ক প্রবাসী রিমি রুম্মান। পাঠকের উদ্দেশ্যে তা তুলে ধরা হলো:

আমার সুস্থ সবল মায়ের আকস্মাৎ মৃত্যুর খবরে এই বিদেশ বিভূঁইয়ে দিশেহারা আমি হুট করেই দেশে যাবার সিদ্ধান্ত নেই। সংসার, সন্তান, দায়িত্ব সব ছেড়ে ছুঁড়ে কয়টাদিন ভাইবোন দু’টির সাথে থাকতে ইচ্ছে হলো। বাবার বাড়ি গিয়ে পড়ে থাকতে ইচ্ছে হলো। মা-বাবা’র কবরের পাশে গিয়ে বসে থাকতে মন চাইলো। অবাধ্য মনের, সব নিয়ম ওলট-পালট করা চাওয়া ! ব্যাগ গুছাই। দু’বছরের রিহানকে নিয়ে তীব্র মন খারাপের মাঝে দেশে যাচ্ছি। শাশুড়ি কাছে এলেন। কিছু হাতে গুঁজে দিলেন। চেয়ে দেখি। গুণে দেখি ১৫০০ ডলার। বলি, “আম্মা, এতো টাকা দিয়ে কি করবো !” আম্মা বললেন, “দেশে গেলে তো লাগে, রাখো “।

আম্মা চাকুরী করেন না। টাকা কোথায় পেলেন ! জানি, মায়েদের চাকুরী না করলেও কিছু সঞ্চয় থাকে। একটু একটু করে জমানো সঞ্চয়। নিজের সমস্ত শখ, চাওয়া-পাওয়া’কে উপেক্ষা করে জমানো সঞ্চয়। সেই তিল তিল করে জমানো সঞ্চয়টুকু প্রয়োজনের সময় বিলিয়ে দিতে এতটুকু কার্পণ্য করেন না।

এটি আজ থেকে বছর চারেক আগের কথা। এই চার বছরে পৃথিবী বদলেছে। বদলেছে কতো কি-ই। কিন্তু আমার ভেতরের অনুভূতিরা বদলায়নি আজো। আমার এতটুকু জীবনে অনেক পাওয়া, অনেক অর্জন আছে যদিও, কিন্তু সেই পনর’শ ডলার সব পাওয়াকে ছাপিয়ে একই রকম অনুভূতি নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ায় যখন তখন। এ-তো শুধু সামান্য কিছু অর্থ নয়। এর সাথে জড়িয়ে আছে পুত্রবধূর প্রতি একজন শাশুড়ির অগাধ স্নেহ, মমতা। বুকের গহীন থেকে উঠে আসা ভালোবাসা।

গতকাল আম্মাকে নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে ওয়েটিং এরিয়াতে বসে থাকবার সময় টুকটাক আলাপ জমানো পাশের এক রোগী বললেন, “আমি তো ভেবেছিলাম আপনারা মা-মেয়ে”। আমরা দু’জন দু’জনের দিকে চেয়ে মৃদু হাসি। উপভোগ করি। মনে পড়ে, যখনই পরিবারসহ দেশে যাই, দীর্ঘ ভ্রমনে পাশের সহযাত্রীরা আম্মাকে জিজ্ঞেস করে, “আপনার মেয়ে ?”, কিংবা আমার পাশেরজন জানতে চায়, “আপনার মা ?”। সেই সময় বুকের ভিতরটায় সীমাহীন এক আনন্দ খেলে যায়। পৃথিবীর অন্যসব আনন্দের চেয়ে ভিন্ন এক আনন্দ। একজীবনের সেরা কিছু পাওয়ার আনন্দ। আমি নিশ্চিত জানি, ওই দূরের আকাশে বসে আমার বাবা-মা এসব দেখে খুশি হবেন। ভীষণ খুশি। কেননা, তাঁরাই আমাকে শিখিয়েছেন, কেমন করে অন্য মা’কে ভালবাসতে হয়, আগলে রাখতে হয়, সন্মান জানাতে হয়।

আজ থেকে একুশ বছর আগে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আমি আমার চিরচেনা শহর, বাবা-মা, ভাই-বোন, খেলার সাথী সব ছেড়ে নতুন এই পরিবারটির অংশ হয়েছিলাম। শুভ একুশ বসন্ত।

শুভকামনা পৃথিবীর তাবৎ মায়েদের জন্যে…
শুভকামনা সকলকে…

রিমি রুম্মান
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here