শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে আগ্রহী সরকার

60

গ্রিড থেকেই শিল্প মালিকদের বিদ্যুৎ দিতে চায় সরকার। এজন্য আলাদা দামে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ দেওয়ার জন্য কাজ চলছে। এ বিষয়ে গঠিত টাস্কফোর্স দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছে। আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠকে বসছে পাওয়ার সেল, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি। ওই বৈঠকে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে আপত্তি নেই শিল্প মালিকদের। তবে তারা বলছেন, সেক্ষেত্রে দামটা অবশ্যই যেন ক্যাপটিভের চেয়ে কম হয়। আবার কারও কারও মতে, দামের চেয়েও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া বেশি জরুরি।

বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি বলছে সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সমন্বয় সভায় জানানো হয়, এখন শিল্প মালিকরা তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিজেরা উৎপাদন করছে। এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির পুরোটা সরবরাহ করছে সরকার। গ্রিড থেকে গ্যাস নিয়ে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে শিল্প মালিকরা নিজেদের চাহিদা মেটাচ্ছেন। অন্যদিকে, সরকারের প্রায় সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এই গ্রীষ্মেও বসে রয়েছে। জ্বালানির অভাবে কেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না।

আরও পড়তে পারেন :  অপরিকল্পিত শিল্প-কারখানায় বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ আর নয়

এখন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট, কিন্তু গ্রাহকদের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে ১২ হাজার মেগাওয়াট। এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে থাকলেও আরও সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট কেন্দ্রকে বসেই থাকতে হচ্ছে। এই বাড়তি বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে সরকার বিপাকে রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করুক বা না করুক কেন্দ্রগুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে অনেক কেন্দ্রের উদ্যোক্তা বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। এসব কেন্দ্র চালিয়ে শিল্পে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হলে সরকার ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার হাত থেকে মুক্তি পেতো।

আরও পড়তে পারেন :  পায়রা টু পটুয়াখালী ২৩০ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চালু

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সরকার যদি আমাদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারে, আমরা নিতে আগ্রহী। নিরবচ্ছিন্ন হলে দাম নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। তবে অবশ্যই বিদ্যুতের টানা সরবরাহ থাকতে হবে। কারণ, এক মিনিটের জন্যও বিদ্যুৎ বিভ্রাট উৎপাদনের ব্যাপক ক্ষতি করে।’ আলাদা লাইন হলে সবচেয়ে ভালো হয় বলে তিনি মনে করেন।

শিল্প ও বণিক সমিতির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট জসীম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা শিল্প মালিকরা কখনও বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাই না। আমরা বিদ্যুতের মানসম্মত এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ চাই। কিন্তু সরকার তা দিতে পারছে না বলেই আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হচ্ছে। এখন সরকার বলছে, তারা শিল্পে বিদ্যুৎ দিতে পারবে, আবার দেশের অনেক জায়গায় এখনও লোডশেডিং হচ্ছে।’ সরকারের এই বক্তব্য আর বাস্তবতা বিপরীতমুখী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গ্রাহক হিসেবে সংকটের কারণে কী হচ্ছে, এসব দেখতে চাই না। আমি সমস্যা ছাড়াই বিদ্যুৎ পেতে চাই। সরকার তা নিশ্চিত করতে পারলে বিদ্যুৎ নিতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।’

আরও পড়তে পারেন :  অপরিকল্পিত শিল্প-কারখানায় বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ আর নয়

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here