শরীয়তপুরের ধানের শীষের প্রার্থী অপু রিমান্ডে

108
apu

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগ বার্তা:
নির্বাচনে টাকা বিলির অভিযোগে অর্থ পাচার আইনের মামলায় ধানের শীষ প্রার্থী মিয়া নূর উদ্দিন আহমেদ অপুর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. সারাফুজ্জামান আনছারী আসামির রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর আশরাফুল ইসলাম আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক এপিএস ধানের শীষ প্রার্থী মিয়া নূর উদ্দিন আহমেদ অপুর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান রিমান্ড শুনানি করেন। আসামিপক্ষে মো. তরিকুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, অপু বিএনপির একজন সংসদ পদপ্রার্থী ছিলেন। এটাই তার অপরাধ। তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে এবং নির্বাচনে অযোগ্য করতে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে তার এলাকায় তিনি সন্ত্রাসী কর্তৃক মারাত্মক জখম হন। তার মাথায় ১৭টি সেলাই পড়েছে। তাকে চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়। তিনি অসুস্থ। আগে তাকে বেঁচে থাকার সুযোগ দিন। প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অপুর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আরও পড়তে পারেন :  ৩৫ লাখ ৮২ হাজার মামলা বিচারাধীন : সংসদে আইনমন্ত্রী

আবেদনে উল্লেখ করা রিমান্ডের ৫টি কারণ হল ১) আসামি অপু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানাবিধ সহিংস কার্যক্রম পরিচালনা করার মূল হোতা ও নিয়ন্ত্রক বিধায় তার দলের সহযোগিদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা সংগ্রহ, গ্রেফতার করাসহ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন।

২) অপু ও তার মামা মো. মাহমুদুল হাসানকে উদ্ধারকৃত নগদ ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩৮ হাজার ৬৫০ টাকার উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা।

৩) অপুর সঙ্গে মামলার ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের কোন ব্যক্তির সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা জানা।

আরও পড়তে পারেন :  ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

৪) ব্যাংক হিসাব নম্বরে কার নির্দেশে কোথায়, কিভাবে টাকা লেনদেন করা হত সে বিষয়ে জানা।

৫) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উদ্ধারকৃত টাকা দিয়ে কি ধরনের নাশকতা বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল সে বিষয়ে বিস্তারিক তথ্য সংগ্রহ।

আদালত সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে নানাবিধ সহিংস কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব সহিংসতা বন্ধের জন্য র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন স্তরে নজরদারি করে আসছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৪ ডিসেম্বর মতিঝিল থানাধীন সিটি সেন্টারের ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যাণ্ড ইউনাইটেড করপোরশনে র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের উপস্থিতিতে অভিযান পরিচালনাকালে প্রতিষ্ঠানটির এমডি আসামি আলী হায়দারকে আটক করার পর প্রতিষ্ঠান থেকে ৩ কোটি ১০ লাখ ৭৩ হাজার টাকা জব্দ হয়।

পরে তার দেয়া তথ্য অনুসারে পল্টন থানাধী হাউজ বিল্ডিং রোডের বায়তুল খায়ের টাওয়ারের সিটি মানিটারী এক্সচেঞ্জ থেকে আরও ৫ কোটি টাকা জব্দ হয়।

আরও পড়তে পারেন :  বগুড়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গুলিবিদ্ধ ৮ মামলার আসামি নিহত

আলী হয়দার জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তার মামা ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মিয়া নূর উদ্দিন আহমেদ অপু। তার নির্বাচনী কাজে অবৈধ প্রভাব খাটানো এবং নির্বাচনী এলাকায় সহিংসতার জন্য ২ থেকে ৩ দিন আগে গুলশানস্থ তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আমেনা এন্টারপ্রাইজ অ্যাণ্ড সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে নির্বাহী পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন এবং অফিস সহকারী আলমগীর হোসেন ৩ কোটি টাকা নিয়ে যায়। পরদিন আমেনা এন্টারপ্রাইজের অফিসে গিয়ে জয়নাল আবেদীন এবং আলমগীর হোসেনকে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫০ টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়।

গত ৪ জানুয়ারি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে অপুকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গ্রেফতারের পর থেকে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে এদিন তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

 

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here