লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রফতানি আয়

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম এগার মাসে (জুলাই,১৮-মে,১৯) ৩ হাজার ৭৭৫ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। আলোচিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৫৪০ কোটি ডলার। এতে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।

সোমবার (১০ জুন) রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সব ধরনের পণ্য রফতানিতে বৈদেশিক মুদ্রার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম এগার মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৫৪০ কোটি ডলার। এ সময়ে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৭৭৫ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের একই সমেয়ের তুলনায় রফতানি এ বছর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এগার মাসে রফতানি আয় ছিল ৩ হাজার ৩৭২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।

রফতানিকারকরা বলছেন, রফতানি আয়ে সুখবর নিয়েই অর্থবছর শুরু হয়েছিল। যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। তৈরি পোশাক রফতানিতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি এর প্রধান কারন বলে মনে করছেন তারা। তাছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে অন্যান্য খাতেরও আয় ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ফলে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। বছর শেষে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

ইপিবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত মে মাসে রফতানি আয় হয়েছে ৩৮১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। এ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় মে মাসে রফতানি আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। গত অর্থবছরের মে মাসে এ আয় হয়েছিল ৩৩২ কোটি ডলার। এ হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের এগার মাসে মোট রফতানি আয়ে পোশাক খাতের অবদান ৮৪ শতাংশের বেশি। তবে হোমটেক্স, টেরিটাওয়েলসহ এ খাতের অন্যান্য রফতানির উপখাত হিসাব করলে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ৮৯ শতাংশেরও বেশি হবে।

আলোচিত সময়ে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয় এসেছে ৩ হাজার ১৭৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেশি। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম এগার মাসে পোশাক খাতে রফতানি আয় ছিল ২ হাজার ৮১২ কোটি ডলার।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের এগার মাসে বড় খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে অর্থাৎ ৪০ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় কৃষিপণ্য রফতানিতে। এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৮৫ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রফতানি আয় বেড়েছে ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ।

প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ খাতে আয় হয়েছে ১১ কোটি ২৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি।

এদিকে আলোচিত সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে। একই সঙ্গে অর্জন হয়নি লক্ষ্যমাত্রাও। পাট ও পাটজাত খাত থেকে মে মাস শেষে রফতানি আয় এসেছে ৭৭ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১ দশমিক ৪৫ শতাংশ কম। এছাড়া চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে ৯৪ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। প্রবৃদ্ধিও গত বছরের চেয়ে ৭ দশমকি ৪৯ শতাংশ কমেছে।

বিনিয়োগ বার্তা/ মাসুদ রানা/হৃদয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *