রোহিঙ্গা শিবিরে মোবাইল-নেটের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান

76

স্টাফ রিপোটার: আর্টিকেল নাইনটিন সহ ৫০ টি মানবাধিকার সংস্থা কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ বন্ধ করা এবং চলমান মোবাইল ইন্টারনেট বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি খোলা চিঠি দিয়েছে।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা কোভিড-১৯ মহামারি বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে এই রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে এবং শরণার্থী, মানবিক সহায়তা কর্মী ও বাংলাদেশর সাধারণ জনগণের জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে মোবাইল এবং ইন্টারনেট যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্যে অবাধ অভিগমন/প্রবেশ এর গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছে।
এই মহামারির বিস্তারকালে ‍বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের কেবল হালনাগাদ ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নির্দেশিকা দ্রুত গ্রহণ এবং আদান-প্রদানেই সক্ষম করবে না; কমিউনিটি লিডারদের সাথে সমন্বয়েও সহায়তা করবে। মানবাধিকার এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা শরণার্থী, স্থানীয় জনগোষ্ঠি এবং মানবিক সহায়তাকর্মীরা যাতে একইভাবে মোবাইল এবং ইন্টারনেট পরিষেবায় অবাধে প্রবেশ করতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

আরও পড়তে পারেন :  ঢাকায় যেসব এলাকায় করোনা রোগী বেশি

আর্টিকেল নাইনটিন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা শরণার্থীদের যোগাযোগ ও তথ্যে অবাধ অভিগমন/প্রবেশ করার ক্ষমতা সীমিত করেছে। ইন্টারনেটে বিধিনিষেধের কারণে পুরোপুরি সচেতনতা ছড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে সেখানে কোভিড-১৯ মহামারীটি ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সিম কার্ড সংগ্রহে বাধা দিয়ে আসছে এবং টেলিযোগাযোগ অপারেটরদের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলিতে ইন্টারনেট কভারেজ সীমিত করার নির্দেশ জারি রেখেছে। বাংলাদেশের কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদারের মতে, কর্তৃপক্ষ সেপ্টেম্বরের পর থেকে শরণার্থীদের কাছ থেকে ১২ হাজারেরও বেশি সিম কার্ড বাজেয়াপ্ত করেছে এবং শরণার্থীরা জানিয়েছেন যে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোন ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে।

আরও পড়তে পারেন :  করোনা কেড়ে নিল আরও ২১ প্রাণ, আক্রান্ত ১১৬৬

যারা কোভিড-১৯ এর উপসর্গগুলি অনুভব করছেন তাদের প্রতি সরকারের নির্দেশনা হল, তারা যাতে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) হটলাইনে যোগাযোগ করেন। সরকারের এই পরামর্শের আলোকেই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া উচিত। কেননা, ফোন বা সিম কার্ড ছাড়া এই নির্দেশনা মেনে চলা অসম্ভব। এছাড়াও মোবাইল এবং ইন্টারনেট পরিষেবায় অবাধ প্রবেশ না থাকলে মানবিক সহায়তা কর্মী ও অন্যরা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত জরুরী তথ্য ব্যক্তিগতভাবে সরবরাহ করতে ।

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here