রিং শাইনের শেয়ার ফেসভ্যালুর নিচে : লোকসানে বিনিয়োগকারীরা

248

মাসুদ রানা, বিনিয়োগ বার্তা:

টাকার অঙ্কে শেয়ারবাজারে ২০১৯ সালে সবচেয়ে বড় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব-আইপিও এসেছে রিং শাইন টেক্সটাইল লিমিটেডের। কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। বাজারে লেনদেন শুরু করার পর এক মাস না যেতেই কোম্পানির শেয়ার দর ফেস ভ্যালুর নিচে নেমে গেছে। ফলে লোকসানে পড়েছে কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা। এমন দুর্বল মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির জন্যই বাজারে পতন তরান্বিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যমতে, রোববার ( ৬ জানুয়ারি) রিং শাইনের শেয়ার ৯ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার ৯ টাকা ৬০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। ফেস ভ্যালুর নিচে লেনদেন হওয়ায় আইপিওর মাধ্যমে যারা কোম্পানির শেয়ার বরাদ্ধ পেয়েছিল তারা লোকসানে পড়েছে। গতকালের লেনদেন অনুযায়ী কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ পয়সা।

আরও পড়তে পারেন :  ২৯ জানুয়ারি গ্লোবাল হেভী কেমিক্যালের পর্ষদ সভা

এ সম্পর্কে রিং শাইন টেক্সটাইলের কোম্পানি সচিব আশরাফ আলী ‌বিনিয়োগ বার্তা কে বলেন, শুধু আমাদের শেয়ার নয়, অনেক বড় কোম্পানির শেয়ার দর ফেসভ্যালু নিচে লেনদেন হচ্ছে। তবে এটা আস্থার সংকট নয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কোম্পানির ভিত্তি দুর্বল নয়। বাজার স্থিতিশীল নয় বলে আমাদের কোম্পানির শেয়ার ফেসভ্যালুর নিচে লেনদেন হচ্ছে। মন্দা বাজারে শেয়ার ফেসভ্যালুর নিচে লেনদেন হতেই পারে।

ফিক্সড পাইজ মেথডে টাকার অঙ্কে এত বড় কোম্পানির আইপিও শেষ কবে এসেছিল বিনিয়োগকারীদের হয়ত খেয়াল নেই। তবে গত বছর সবচেয়ে বড় আলোচিত কোম্পানি রিং শাইন। বাজারে বস্ত্রখাতের যেসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে সেগুলোর অধিকাংশের অবস্থা নাজুক। আর এমন পরিস্থিতিতে রিং শাইনের মতো আরও একটি কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সংগঠন পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে কোম্পানির আইপিও বাতিল করার দাবী জানিয়েছিল। বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অথচ তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এক মাস না যেতেই কোম্পানির শেয়ার দর ফেস ভ্যালুর নিচে নেমে গেছে।

আরও পড়তে পারেন :  আরগন ডেনিমসের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান বাজার আস্থার সংকটে পড়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে ভালো মৌল ভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি বাজারে আসছে না। যেসব কোম্পানি বাজারে আসছে সেগুলোর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে পারছে না। এবার রিং শাইন তা প্রমান করলো। এসব কোম্পানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, বিনিয়োগকারীরা এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। একই সঙ্গে এমন কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দিয়ে সমালোচনা পড়ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উচিত ভালো করে যাচাই বাছাই করে আইপিও অনুমোদন দেয়া।

রিং সাইন টেক্সটাইল শেয়ারবাজারে প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা ফেসভ্যালুতে ১৫ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয়, ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে বলে জানিয়েছে। গত ১২ ডিসেম্বর কোম্পানির শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন :  জাহিন টেক্সটাইলের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

বিনিয়োগ বার্তা/মাসুদ/ এফ

 

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here