বেনাপোলে ৪৪ জন কোয়ারেন্টাইনে; ডিসিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের পরিদর্শন

53

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
করোনা সংক্রমক নিয়ে উদ্দেগ উৎকন্ঠায় ও আতঙ্কে ভুগছে বেনাপোল সীমান্ত বাসী। এই আতঙ্কময় সমেয়ে আবার উৎকন্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত ফেরত বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রীরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষিত ভারত ফেরত পাসপোর্ট যাত্রীদের সীমান্তের আশে পাশে প্রাতিষ্ঠানিক কোন জায়গায় কোয়ারেন্টাইনে রাখার নির্দেশ আশায় তৎপর হয় জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সোমবার বেনাপোল ইমিগ্রেশন হয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশী ৪৪ জন পাসপোর্টযাত্রীকে বেনাপোল পৌর বিয়ে বাড়ি ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে ২৮ জন পুরষ ১৪ জন নারী ও একজন শিশু।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের নির্দেশে সোমবার সকাল ৯ টার সময় যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ সফিউল আরিফ এর নেতৃত্বে করোনা প্রতিরোধের পুর্ব প্রস্তুতি হিসাবে প্রাতিষ্ঠানিক কয়েকটি ভবন পরিদর্শন করেন কোয়ারেন্টাইন হিসাবে ব্যবহারের জন্য। এসময় বেনাপোল পৌর বিয়ে বাড়ি কমিউনিটি সেন্টার, বেনাপোল আন্তর্জাতিক ট্রাক টার্মিনাল, বাস টার্মিনাল, পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসকের সাথে পরিদর্শন পরিদর্শনের সময় ছিলেন ৪৯ বিজিবি সিও লে, কর্নেল সেলিম রেজা, বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন, শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল, এডিশনাল এসপি সালাউদ্দিন, সার্কেল এসপি জুয়েল ইমরান,৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মেজর নজরুল ইসলাম, যশোর জেলা আনছার এর এ্যাডজুটেন্ট লুৎফর রহমান, বেনাপোল পোর্ট থানা ওসি মামুন খান, সহ সেনাবাহিনী,বিজিবি, পুলিশ, আনছার ও ফায়ারসার্ভিস এর সদস্যবৃন্দ।

আরও পড়তে পারেন :  ডেঙ্গু মশার আতঙ্কে বেনাপোলবাসী

ভারত থেকে বেলা ১টার সময় বেনাপোল ইমিগ্রেশন এর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা ২ টার সময় এ্যাম্বুলেন্সে করে ৪৪ জন বাংলাদেশী নারী পুরুষ শিশুকে প্রাতিষ্টানিক কোয়ারেন্টাইন বেনাপোল পৌর বিয়ে বাড়ি নিয়ে যায় শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল। এসময় তাকে সহযোগিতা করেন, চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন এর স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা ও বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান।

বেলা সাড়ে ১১ টার সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গাড়ি থেকে পৌর বিয়ে বাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে কোয়ারেন্টাইন সদস্যদের জন্য আনা বালিস চাদর নামানোর সময় এলাকার সাধারন জনগন ভারত ফেরত যাত্রীদের এখানে না রাখার জন্য দাবি তোলে। তারা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে এদের অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়ার জন্য সোরগোল করতে থাকে। এসময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা এলাকার জনগনকে বাড়ি চলে যেতে বলে। তারা তাদের বুঝিয়ে বলে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কারন নেই। এরা সংক্রামিত নয়। এদের এখানে প্রাথমিক ভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনের মত ১৪ দিন রাখা হবে। এরপর এরা বাড়ি চলে যাবে।
যশোর জেলা সিভিল সার্জন শেখ আবু সাহিন বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে এদের প্রাথমিক ভাবে সীমান্তের যে কোন জায়গায় প্রাথমিক ভাবে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। এরপর যদি পরীক্ষা নিরিক্ষায় কেউ করোনা ভাইরাসের জীবানু বহন করে থাকে তাকে আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য এখান থেকে নিয়ে যাব।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি আহসান কবির বলেন ৪৪ জন বাংলাদেশী নাগরীক ভারত থেকে পাসপোর্টের মাধ্যমে দেশে ফেরত এসেছে বেলা ১ টার সময়। এদের ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে আরো কিছু যাত্রী ভারত থেকে আসছে বলে তার কাছে খবর আছে। তবে কতজন তার কোন নির্দিষ্ট হিসাব না আসা পর্যন্ত বলা যাবে না।
শার্শা উপজেলা সহকারী ম্যাজিষ্ট্রেট খোরশেদ আলম বলেন, যারা ভারত থেকে আসবে তাদের প্রাথমিক ভাবে স্বাস্থ্য ঝুকি এড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

আরও পড়তে পারেন :  ডেঙ্গু মশার আতঙ্কে বেনাপোলবাসী

শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল বলেন, এদের খাবার ব্যবস্থা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা উপজেলা থেকে ব্যায় করা হবে।
বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, পৌর বিয়ে বাড়ি আগে থেকে ব্যবহার উপযোগি ছিল। তবে ট্রাক টার্মিনালের ভবনটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় ব্যবহার করা হয়নি। তারপরও সেটা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে এটা দেওয়া হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য। যারা বেনাপোল পৌর এলাকায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টানে থাকবে তাদের সুযোগ সুবিধা বেনাপোল পৌরসভা থেকে দেখা হবে। তিনি বলেন, মানবতার সেবায় বেনাপোল পৌরসভা সব সময় প্রস্তুত । আজ বিশ্ব মানবতা বিপর্যায়। সমগ্র মানবজাতি আজ অসহায়। প্রানের ভয়ে আতঙ্কিত, সঙ্কিত। যারা ভারত থেকে ফিরে বেনাপোল পৌর এলাকায় কোয়ারেন্টাইনে থাকবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বেনাপোল পৌরসভা ও কাজ করে যাবে। ভারত থেকে ফেরত পাসপোর্টযাত্রীদের বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায়।

আরও পড়তে পারেন :  ডেঙ্গু মশার আতঙ্কে বেনাপোলবাসী

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here