বেনাপোলে ভায়াগ্রা আটক করে বেকায়দায় কমিশনার বেলাল চৌধুরী

95

মোঃসাহিদুল ইসলাম শাহীন, বেনাপোল (যশোর)বিনিয়োগ বার্তা:

বেনাপোল কাস্টমস কর্মকর্তা বেলাল হোসাইন চৌধুরী আড়াই মেট্রিক টন (সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা) মুল্যের রেকর্ড পরিমান ভায়াগ্রা চালান আটক করে ভায়াগ্রা গডফাদারদের রোষানলে পড়েছেন।

ভায়াগ্রা গডফাদাররা তাদের ইচ্ছেমতো মনগড়া কিছু তথ্য দিয়ে দেশের কিছু পত্রপত্রিকায় মিথ্যা অপ-প্রচার চালাচ্ছে। তারা কমিশনারের বাড়ি,ঘর-দোর এবং ছেলে-মেয়ে সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন,যা একটিও সত্য নয়। প্রকাশিত পত্রিকায় উল্লেখিত তার বাড়ি নোয়াখালীর সোনাই মুড়িতে বলা হয়েছে,কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তার বাড়ি বেগমগঞ্জের শফিপুরে। দুই মেয়ে কানাডায় পড়াশুনা করে,অথচ তার দুই ছেলে বড় ছেলে সানিডেল স্কুলের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র এবং ছোট ছেলে মোহাম্মদপুরের সামারফিল্ড স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র।
প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, বেলাল চৌধুরীর শ্যালকের নামে সম্পদ রয়েছে কিন্তু সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে তার কোন শ্যালক নাই।

আরও পড়তে পারেন :  ভাগ্নির ধর্ষণ ঠেকাতে মামা খুন, গণপিটুনিতে নিহত ধর্ষক

প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বেলাল চৌধুরী একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক। কিন্তু সরেজমিনে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে যে, বেলাল চৌধুরী যে ফ্ল্যাটে থাকেন তা তার স্ত্রীর নামে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ক্রয় করা। এই লোনটি এখনো বিদ্যমান। আরো জানা গেছে, বেলাল চৌধুরীর কোন ভাই-ই গার্মেন্টস ব্যবসা কিংবা চাকরিতে জড়িত নয়। উল্লেখ্য,৮ই আগস্ট প্রথম আলো সহ দেশের বিভিন্ন দৈনিকে মিথ্যা ঘোষণায় আনা ভায়াগ্রা’র চালান আটকের সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এ আটকের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিশ্বব্যাংক ঘোষিত সেরা কামস্টস কর্মকর্তা বেলাল হোসাইন চৌধুরী। এশিয়ার সর্ববৃহৎ ভায়াগ্রা চালান আটকের পর সরকারের প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। শুরু হয় আন্তঃদেশীয় তদবীর। কোটি কোটি টাকার লোভ লালসা কোন কিছুর কাছেই হার মানেননি বেলাল চৌধুরী। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে না ফেলে দেশ ও মাতৃকার টানে বেলাল চৌধুরী ভায়াগ্রা গডফাদারদের ছাড় দেননি। এ বিশাল পরিমাণ ভায়াগ্রা চালান আটকের পর ভায়াগ্রার গডফাদাররা বেলাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে থাকে। ৯ই আগস্ট দেশের একটি দৈনিকে কাস্টমস কর্মকর্তা বেলালের অটল সম্পদ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

আরও পড়তে পারেন :  যুবলীগ নেতা হত্যা: অভিযুক্ত ২ রোহিঙ্গা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

এই সংবাদ প্রসঙ্গে বেলাল চৌধুরী এই প্রতিবেদকে বলেন, সংবাদটি ৮ তারিখের পূর্বে প্রকাশিত হয়নি কেন? ভায়াগ্রা চালান আটকের পর তারা জানলেন আমার অটল সম্পদ। পত্রিকা বা সংবাদপত্র নিয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই।

প্রকাশিত সংবাদে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা শতভাগ মিথ্যা। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক সংবাদের একভাগও প্রমাণ করতে পারবেন না। তিনি বলেন, খুব স্বল্প সময়ে এনবিআরের আওতাধীন কমিশনারদের পদোন্নতি এবং প্রমোশনের সম্ভাবনা রয়েছে। যেনতেন অভিযোগে পদোন্নতি বা প্রমোশন ঠেকাতে অশুভ শক্তি আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত বলে আমি মনে করি। আমি দুর্নীতি করি না। কোন প্রকার অপপ্রচার হুমকি ধামকি আমাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারবে না।

আরও পড়তে পারেন :  যুবলীগ নেতাকে ডেকে নিয়ে গুলি করে মারল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা

প্রকাশিত সংবাদে দুদকের তদন্ত প্রসঙ্গে বেলাল চৌধুরী বলেন, আমার বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগ নতুন নয়। আমি গডফাদারদের ইচ্ছায় না চলার কারণে তারা বারবার আমাকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশ, দুদকে অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট। এ মহলের অভিযোগ দীর্ঘ তদন্ত সাপেক্ষে দুদক তদন্ত করে সত্যতা না পেয়ে ২০০৯ সালে আমাকে সম্পদ বিবরণী জারি করে সকল সম্পদ যাচাই করে বেনামী অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদান করে।

তখনও প্রমাণিত হয়েছে আমার আয় বহির্ভূত কোন সম্পদ নাই। বেলাল চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, যতদিন বাঁচবো দেশ মাটি ও মানুষের পক্ষে কাজ করে যাবো। দেশ বিরোধী কোন চক্রের ক্রীড়নকে পরিণত হবো না ইনশাহআল্লাহ।

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল/

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here