বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি হবে ১২ ট্রিলিয়ন ডলার

57

করোনাভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ১২ ট্রিলিয়ন ডলার (৯ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন পাউন্ড) ক্ষতির সম্মুখীন হবে। যুক্তরাজ্যসহ উন্নত দেশগুলোতে ২০২০ সালে এরই মধ্যে এর নিম্নমুখী প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে।

বুধবার ২০২০ সালের প্রবৃদ্ধির বিষয়ে এ পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

আইএমএফ’র এই পূর্বাভাস সত্যি হলে ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার পর এবার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়তে যাচ্ছে বিশ্ব।

২০১৯ সালে বিশ্বের গড় উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ। জানুয়ারিতে আইএমএফ ২০২০ সালে বিশ্বের জন্য ৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। এপ্রিলেই তারা বলেছিল, ২০২০ সালে বিশ্বের গড় উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। আইএমএফ এখন বলছে, ২০২০ সালে বিশ্বের গড় উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় হ্রাস পাবে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

আরও পড়তে পারেন :  করোনাভাইরাসে একদিনে মৃত্যু ৩৩, শনাক্ত ৩১৬৩

১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার সময় বিশ্বের উৎপাদন ১০ শতাংশ সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছিল। সেই হিসাবে আসন্ন পরিস্থিতিকে ত্রিশের মহামন্দার পর সবচেয়ে বাজে সংকট হিসেবে দেখছে আইএমএফ।

সংস্থাটির জুন আপডেট বলছে, করোনার ধকল কাটিয়ে উঠতে পারলে ২০২১ সালে হয়তো উৎপাদন বাড়বে, তবে তার গতি হবে ধীর। এখন তারা আগামী বছরের জন্য ৫ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছে, যদিও এপ্রিলে তাদের প্রাক্কলন ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

করোনার ধাক্কা ২০২১ সালে নতুন করে দেখা দিলে প্রবৃদ্ধি আরও কমবে। আর এই হিসাবও যদি ঠিক থাকে, তাতে ২ বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ ট্রিলিয়ন ডলার।

আরও পড়তে পারেন :  ৩ দিনের রিমান্ডে ডা. সাবরিনা

আইএমএফ বলছে, বিশ্বের অনেক দেশ এখন একসঙ্গে তাদের অর্থনীতি সচল করার চেষ্টায় আছে। কিন্তু বিধিনিষেধ এবং সামাজিক দূরত্বের নিয়মের কারণে বিনিয়োগ আর ভোগের পরিমাণে স্বাভাবিকভাবেই বড় ধাক্কা লেগেছে।

এ বিষয়ে আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ বলেন, আমরা মোটেও বিপদমুক্ত হইনি। দুনিয়াজোড়া লকডাউন থেকে আমরা এখনো পুরোপুরি বের হতে পারিনি। সামনে যে গভীর অনিশ্চয়তা, নীতি নির্ধারকদের সে জন্য অনেক বেশি সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় ধনী দেশগুলো ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা ঘোষণা করায় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ক্ষতি প্রশমনের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ায় বহু কোম্পানি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দেউলিয়া হওয়া এখন পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখা গেছে। কিন্তু সামনের দিনগুলোতে আরও অনেক সহায়তার প্রয়োজন হবে।

আরও পড়তে পারেন :  দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে শাহেদ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here