বিদ্যুতে ভর্তুকি থেকে সরে আসতে চায় সরকার

84

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভর্তুকি দেওয়া থেকে সরকার সরকার সরে আসতে চায় বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) হয়তো ভর্তুকি থেকে বের হয়ে আসতে চাইছে। তারা নিজেরা সাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে। এজন্য মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এখন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঠিক করবে মূল্য বাড়াবে নাকি ভর্তুকি দেবে।’ বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত আন্তমন্ত্রালয়ের সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পাইকারি ও খুচরা উভয় ধরনের মূল্য প্রস্তাব জমা পড়েছে বিইআরসি’তে। আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে মূল্য বাড়াতে গণশুনানির দিন নির্ধারণ করে কমিশন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র না আসা পর্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে পিডিবির লোকসান হবেই।’ তিনি বলেন, ‘জানুয়ারি থেকে উৎপাদনে আসছে পায়রা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই ধারাবাহিকতায় রামপাল, মাতারবাড়িসহ অন্য বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে এলে কমে যাবে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমে আসবে।’

আরও পড়তে পারেন :  চরের জমিতে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র

অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে পাইকারি বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় পিডিবি। কমিশনকে চিঠি দিয়ে পিডিবি জানায়, ২০২০ সালে পিডিবির বিদ্যুৎ বিক্রি করে আয় হতে পারে ৩৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু ওই সময় প্রয়োজন হবে ৪৫ হাজার ২০৮ কোটি টাকা। ফলে বাকি আট হাজার ৬০৮ কোটি টাকা তাদের ঘাটতি হবে। সেই টাকা সমন্বয়ের জন্য কমিশনকে জানিয়েছে। এখন কমিশন মূল্য বাড়াবে নাকি ভর্তুকি দেওয়ার কথা বলবে, সেটা কমিশনেই ঠিক করবে বলে পিডিবি জানায়। পাইকারি বিদ্যুতের পাশাপাশি তারা গ্রাহক পর্যায়ে মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। একইভাবে প্রস্তাব দিয়েছে অন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোও। পাইকারি পর্যায়ে মূল্য বাড়ালে যে হারে বাড়বে, সেই হারে কোম্পানিগুলোর বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বাড়ানোর বিষয়টি কমিশনের বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে কোম্পানিগুলো।

আরও পড়তে পারেন :  চরের জমিতে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র

সর্বশেষ ২০১৭ সালে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য ইউনিট-প্রতি ৩৫ পয়সা বাড়ানো হয়। ওই সময় পাইকারি বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হয়নি। অন্যদিকে, ২০১৫ সালে পাইকারি বিদ্যুতের মূল্য ১৮ দশমিক ১২ শতাংশ বাড়ানো হয়।

এদিকে, গত পাঁচ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ শুধু বেড়েই গেছে। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ভর্তুকি ছিল ৪ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তেলের মূল্য কমে যাওয়ায় ভর্তুকি কিছুটা কমে হয় ৩ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা। এরপর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) ভর্তুকির পরিমাণ ছিল সাত হাজার ৯৭০ কোটি। চলতি অর্থবছর ভর্তুকির সম্ভাব্য পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকা।

আরও পড়তে পারেন :  চরের জমিতে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here