বিকাশে ২৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র

31

মো:সাহিদুল ইসলাম শাহীন,বেনাপোল(যশোর):

বেনাপোলে বিকাশের মাধ্যমে প্রতারণা করে শাহাজান কবির নামে এক নিরীহ ব্যক্তির ২৬ হাজার ৬শত পঁচিশ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী/২০২০ ইং) তারিখ বিকাল ৩ টার দিকে প্রতারক চক্র তার কাছ থেকে এ টাকা হাতিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগী শাহাজান জানান, তার বাড়ি যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নিজামপুর গ্রামে। সে বেনাপোলে জয়ী ট্রেড নামে একটি সিএন্ডএফ এজেন্ট এ বর্ডারম্যান হিসেবে চাকুরী করেন। ঐ দিন বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) তাদের আমদানিকৃত পণ্য ডেলিভারির দিন ছিল। সেই পণ্য ডেলিভারির জন্য তার বস ঢাকা থেকে শাহাজান এর পার্সোনাল বিকাশ নাম্বার এ ১৩ হাজার ২শত ষাট টাকা পাঠায়। তখন তিনি তার পার্সোনাল বিকাশ নাম্বারটি নিয়ে বেনাপোল ছোটআঁচড়া মোড়ে অবস্থিত তৌহিদের বিকাশের দোকান থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা তোলেন। সেই টাকা তুলে নিয়ে তিনি তার অফিসে যাওয়ার ১০ মিনিট পর ০১৮৮৮-৪৭৩৭২১ এই নাম্বারে কল দিয়ে বলে, ভাই আমি তৌহিদ বলছি। সে বলে এই যে কিছুক্ষন আগে সাড়ে বারো হাজার টাকা উঠিয়ে নিয়ে গেলেন যে বিকাশের দোকান থেকে সেই দোকানদার আমি। সে বললো আমার বিকাশের ১২ হাজার টাকার হিসাব পাচ্ছি না, তাই আমি বিকাশের অফিসে কল দিয়ে আপনার নাম্বার সহ মোট ৪টি নাম্বার বন্ধ করে দিয়েছি। এখন আমি বাড়ি এসে আমার টাকার হিসাব পেয়েছি। আপনার বিকাশ নাম্বার যদি পুনরায় চালু করতে চান, তাহলে আমি ৫টার পর দোকানে আসবো, তখন আপনার বিকাশ চালু করে দেবো। তখন আমি বলি আমার তো মাল ডেলিভারি দিতে হবে আমার তো টাকার প্রয়োজন। সে তখন বলে, তাহলে আমি অফিসে ফোন করে দিচ্ছি তারা আপনার বিকাশ চালু করে দেবে। তারা যেভাবে বলে, সেভাবে কাজ করবেন বলে সে লাইন কেটে দেয়।
এর ৫ মিনিট পর ০১৪০৭-৩০৮৩০৫ নাম্বার থেকে কল দিয়ে বলে আমি বিকাশ অফিস থেকে বলছি। আপনার বিকাশ নাম্বারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, আপনি যে টাকাটা বিকাশের মাধ্যমে তুলেছেন, সেই টাকাটা আবার আপনার বিকাশ নাম্বারে দিয়ে দেন। আমি তখন আমার বিকাশ নাম্বার এ সাড়ে ১২ হাজার টাকা ভরি। তখন সে আমার বিকাশের পিন নাম্বারটা বলে,সঠিক বলে আমি তাকে জানায়। সে তখন বলে আচ্ছা ঠিক আছে, আপনার নাম্বার চালু হয়ে যাবে বলে লাইন কেটে দেয়। লাইন কাটার কয়েক মিনিট পর আবার ওই নাম্বার থেকে কল করে ঐ অফিসার বলে, আপনি তো খরচসহ ১২ হাজার ৭শত ত্রিশ টাকা উঠাইছেন। আপনার বিকাশ নাম্বার এ ১২ হাজার ৭শত ত্রিশ টাকাই আবার ভরতে হবে। তা নাহলে আপনার বিকাশ নাম্বার চালু হবে না। আমি বলি এতো টাকা আমি এখন কোথায় পাবো। তখন অফিসার বলে কয়েক মিনিট পর আপনার বিকাশ নাম্বার ঠিক হয়ে গেলেই তো আপনার টাকা ফেরত পাচ্ছেন। তারপর আমি বন্দরের ১নং গোডাউনের সামনে এক বিকাশের দোকান থেকে বাকিতে ওই টাকাটা লোড দিইএবং অফিসারকে লোডের বিষয়টি জানিয়ে দিই। এরপর ঐ অফিসার লাইন কেটে দেয়। পরে আমার একাউন্ট ব্যালেন্স চেক করে দেখি আমার ব্যালেন্সে থাকা ১৩৯৫ টাকা ৬৩ পয়সা সহ আমার ঢোকানো সাড়ে ১২ হাজার টাকা ও ১২ হাজার ৭শত ত্রিশ টাকা মোট ২৬ হাজার ৬শত পঁচিশ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। সেই থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরেও, আমি আমার টাকা উদ্ধারের কোন প্রতিকার পায় নাই।
বিকাশ এজেন্ট এর স্টেটমেন্ট অনুযায়ী দেখা যায়, ০১৮৫৮-১১৬৫৪১ এই নাম্বারে প্রতারক চক্র উক্ত টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

আরও পড়তে পারেন :  ‘ফলো আপ’ কার্যক্রম শুরু করবে দুদক

বিকাশ কাস্টমার কেয়ার এর ১৬২৪৭ নাম্বারে কল দিয়ে অভিযোগ জানালে, তারা কিছু তথ্য নিয়ে জানান বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। আর আপনারা যদি আইনি ব্যবস্থা নিতে চান, তাহলে নিতে পারেন।

এ ব্যাপারে, বেনাপোলের সচেতন মহল মনে করেন, এই ডিজিটাল যুগেও কিভাবে প্রতারক চক্র টাকা হাতিয়ে নেয়। যেখানে সীমসহ সব কিছু ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে লিপিবদ্ধ করা। আর কারাই বা এর সাথে জড়িত?

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

 

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here