বাক্সে মৌমাছি পালন করে আয়

0
52

ডেস্ক: সারা দেশে এ সময় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার মৌমাছি পালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে। এ পর্যন্ত পনের হাজার জনকে মৌমাছি পালনের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছি। যারা বাক্সে মৌমাছি পালন করে মধু বাজারজাত করছেন, তারা কিন্তু ভেজাল সৃষ্টি করে না। যা কিছু ভেজাল হচ্ছে তা কিন্তু চাক ভাঙা মধু থেকেই করা হয়…।’ এ কথাগুলো জানালেন মো. আলী আশরাফ খান। তিনি ‘মৌমাছি পালন নির্দেশিকা’ নামে একটি বই লিখে দীর্ঘদিন ধরে মৌমাছি চাষাবাদের ওপর গবেষণা করে যাচ্ছেন।

মৌমাছি পালন সম্পর্কে মো. আলী আশরাফ খান বলেন, মৌমাছি তার খাদ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফুলে বিচরণ করে আর এর ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংঘটিত হয় ‘পরাগায়ন’।
ফলে ফল এবং ফসলের উত্পাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া মৌমাছি দান করে প্রকৃতির উত্কৃষ্ট পানীয় ‘মধু’।
রোগ নিরাময় এবং রোগ প্রতিরোধক হিসেবে মধুর ভূমিকা অনন্য। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাঠের বাক্সে মৌমাছি পালন বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

বাড়ির আনাচে-কানাচে, ঘরের বারান্দায়, ছাদে কিংবা বাগানেও মৌ বাক্স রাখা যায়। এ্যাপিস সেরানা প্রজাতির ৫টি মৌ-কলোনি সংবলিত মৌ খামার স্থাপনের জন্য মোট বিনিয়োগ হবে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। প্রতি বছর গড়ে প্রতি বাক্স থেকে দশ কেজি মধু পাওয়া যাবে, যার মূল্য ২৫০ টাকা হিসেবে দুই হাজার ৫০০ টাকা। এ হিসেবে ৫টি বাক্স থেকে উত্পাদিত মধুর মূল্য দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার টাকা। এই আয় ১০ থেকে ১৫ বছর অব্যাহত থাকবে অর্থাত্ প্রথমে মাত্র একবার ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা ব্যয় করে প্রকল্প স্থাপন করলে মৌ বাক্স এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি ১০ থেকে ১৫ বছর ব্যবহার করা যাবে, আর কোনো বিনিয়োগ বা খরচ নেই বললেই চলে।

অপরদিকে এ্যাপিস মেলিফেরা প্রজাতির মৌমাছির ৫টি মৌ-কলোনি সংবলিত মৌ-খামার স্থাপনের জন্য মোট ব্যয় হবে ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা। এক্ষেত্রেও ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত মৌ বাক্স, অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা যাবে, আর কোনো অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে না। মেলিফেরা প্রজাতির প্রতিটি মৌ-বাক্স থেকে বছরে ৫০ কেজি পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করা সম্ভব। যার বাজারমূল্য ২৫০ টাকা কেজি হিসেবে ১টি বাক্স থেকে আয় সাড়ে ১২ হাজার টাকা। আর ৫টি বাক্স থেকে আয় হবে সাড়ে ৬২ হাজার টাকা। প্রকল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে মাত্র ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা এককালীন বিনিয়োগ করে প্রতি বছর ৬০ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে আয় করা সম্ভব। মৌ বাক্সের সংখ্যা প্রতি বছর বৃদ্ধির মাধ্যমে এই আয় অনেকগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। স্বল্প পরিশ্রমে এ ধরনের প্রকল্প স্থাপনের মাধ্যমে একদিকে যেমন আর্থিক দিক থেকে লাভবান হওয়া যায়, তেমনি পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় সহায়তাদানের মাধ্যমে দেশের ফল ও ফসলের উত্পাদনে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা দান করা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here