বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সিরিজ জয়

26

টানা দুই জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিল পাকিস্তান। তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ খেলায় আগামী সোমবার জিততে না পারলে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বাধীন দলটি।

শনিবার লাহোরে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান করে বাংলাদেশ। টার্গেট তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ওভারের ২০ বল হাতে রেখে ৯ উইকেটের বিশাল জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিক পাকিস্তান।

দলের জয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন বাবর আজম ও মোহাম্মদ হাফিজ। দলের জয়ে ৪৪ বলে ৭টি চার ও এক ছক্কায় অপরাজিত ৬৬ রান করেন অধিনায়ক বাবর আজম। এছাড়া ৪৯ বলে ৯টি চার ও এক ছক্কায় ৬৭ রান করেন হাফিজ।

১৩৭ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে দলীয় ৬ রানে তরুণ ওপেনার আহসান আলীর উইকেট হারায় পাকিস্তান। আহসানকে আউট করে বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন শফিউল ইসলাম। তার গতির বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন আহসান। আগের ম্যাচে অভিষেকে ৩৬ রান করা এ তরুণ ওপেনার শনিবার ফেরেন ৭ বলে শূন্য রানে।

এরপর ওয়ান ডাউনে নামা মোহাম্মদ হাফিজকে সঙ্গে নিয়ে ১৩১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলেরর জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক বাবর আজম।

হারলেই ট্রফি হাতছাড়া। জিতলে সিরিজে ফেরার সুযোগ। এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্য আর স্লো মোশন ব্যাটিংয়ের কারণে সম্মানজনক স্কোর গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের ফিফটিতে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৩৬ রান তুলতে সক্ষম হয় টাইগাররা।

শনিবার পাকিস্তানের লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

শনিবার প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে দলীয় ৫ রানে ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করা নাঈম এদিন ফেরেন গোল্ডেন ডাকে। শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তিনি।

আরও পড়তে পারেন :  পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

ওয়ান ডাউনে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংস মেরামত করতে পারেননি মেহেদী হাসান। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ায়ের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি তিনি। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিলেটে শ্রীলংকার বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ১১ রানে আউট হওয়া এ অলরাউন্ডার দুই বছর পর জাতীয় দলে ফিরে করেন ১২ বলে মাত্র ৯ রান।

৪.২ ওভারে দলীয় ২২ রানে মোহাম্মদ হাসনাইনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন মেহেদী। তার আগে ১২ বলে একটি ছক্কায় ৯ রান করে ফেরেন তিনি।

হাসনাইনের করা ওই ওভারের পঞ্চম বলে ক্যাচ তুলে দেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। কিন্তু সরফরাজের বদলে দলে জায়গা পাওয়া উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ান কটবিহাইন্ড করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ক্যাচটি তিনি গ্লাভস বন্দি করতে পারেননি। ১৬ রানে লাইফ পান তামিম।

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে দলের হাল ধরতে পারেননি জাতীয় দলের ওপেনার লিটন কুমার দাস। ১৪ বলে মাত্র ৮ রান করে শাদাব খানের ঘূর্ণি বলে বিভ্রান্ত হয়ে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ৪১ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

১৪.১ ওভারে দলীয় ৮৪ রানে মোহাম্মদ হাসনাইনের আবেদনে সারা দিয়ে তামিম ইকবালকে এলবিউব্লিউ আউট দেন আম্পায়ার। ৪৪ রানে ব্যাটিংয়ে থাকা তামিম রিভিউ নিয়ে সফল হন।

হাসনাইনের করা ওই ওভারের চতুর্থ বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে থার্ডম্যানে দাঁড়িয়ে থাকা হারিস রউফের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন আফিফ হোসেন। তার আগে ২০ বলে এক চার ও সমান ছক্কায় ২১ রান করেন তিনি। তার বিদায়ে ১৪.৪ ওভারে ৮৬ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

আরও পড়তে পারেন :  অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ক্যারিবীয় পেসার

ইনিংসের শুরু থেকে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে যাওয়া তামিম ৪৪তম বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। ফিফটির পর হাত খুলে খেলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। ১৭.৪ ওভারে দলীয় ১১৭ রানে রান আউট হয়ে ফেরেন তিনি। তার আগে করেন ৫৩ বলে ৬৫ রান।

ইনিংসের শেষ ওভারে হারিস রউফের করা প্রথম বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ। দলীয় ১২৬ রানে ১২ বলে ১২ রানে ফেরেন তিনি। এরপর আমিনুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত খেলে যান সৌম্য সরকার। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩৬ রানে ইনিংস গুটায় বাংলাদেশ। ৪ বলে ৮ আর ৫ বলে ৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন আমিনুল ও সৌম্য।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩৬/৬ (তামিম ৬৫, আফিফ ২১, মাহমুদউল্লাহ ১২, মেহেদী ৯, আমিনুল ৮*, লিটন ৮, সৌম্য ৫*, হাসনাইন ২/২০)।

পাকিস্তান: ১৬.৪ ওভারে ১৩৭/১ (হাফিজ ৬৭*, বাবর ৬৬*)।

ফল: পাকিস্তান ৯ উইকেটে জয়ী।

বিনিয়োগ বার্ত//এল//

চিত্রদেশ //এস//
//////////////////
রূপম-এনু’র সমর্থকদের হামলার প্রতিবাদে
সাংবাদিকদের মানববন্ধন

আদালত প্রাঙ্গণে গত ১৯ জানুয়ারি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্যাসিনো কাণ্ডের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত দুই সহোদর ভাই এনামুল ও রূপমের সহযোগীদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন চ্যানেল ডিবিসি’র ফটো সাংবাদিক আল আমিন।

হামলার প্রতিবাদে আজ শনিবার (২৫ জানুয়ারি) কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে কদমতলী গোল চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে স্থানীয় সাংবাদিকরা।

ক্যাসিনোকাণ্ডের অন্যতম হোতা দুই ভাই গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপম ভুইয়ার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ডিবিসি নিউজের দুই সাংবাদিক।

২৫ জানুয়ারি শনিবার সকালে কেরানীগঞ্জ কদমতলী চৌরাস্তা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে একটি মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়।মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জে প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী। মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত হামলাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

আরও পড়তে পারেন :  অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ক্যারিবীয় পেসার

১৯ জানুয়ারি কোতোয়ালি থানায় তিন জন নাম ও ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা হয় এবং সাথে সাথে আদালত পাড়ায় থেকে একজন আটক করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

উল্লেখ্য ক্যাসিনোকাণ্ডের অন্যতম হোতা দুই ভাই গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপন ভুইয়ার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসির ক্যামেরাপারসন আল আমিনের ওপর হামলা করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।

হামলাকারীদের মধ্যে মতিন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রূপন-এনামুলকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য রবিবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আনা হয়। সেজন্য তাদের ৪০-৫০ জন সমর্থক ঢাকা দায়রা জজ আদালতে উপস্থিত হয়। দুপুর পৌনে ১টার দিকে রূপন-এনামুলকে প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে ওঠানোর সময় ডিবিসির ক্যামেরাপারসন আল আমিন ভিডিও করছিলেন। ওই সময় ৮-১০ জন সমর্থক তার ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মারে। তার পকেটে থাকা ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। ক্যামেরাও ভেঙে ফেলে। এসময় দায়িত্বরত পুলিশ একজনকে আটক করে। বাকিরা পালিয়ে যায়।এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার কোর্ট ইন্সপেক্টর মুইনুল ইসলাম বলেন, মতিন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।ডিবিসির রিপোর্টার লিটন মাহমুদ বলেন, ‘আদালতে সাংবাদিকদের ওপর এভাবে হামলায় আমরা শঙ্কিত।

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here