প্রি-পেইড মিটার: বিদ্যুতে দ্রুত, জ্বালানিতে ধীরগতি

103

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রি-পেইড মিটার বসানোর কাজে গতি থাকলেও জ্বালানি বিতরণ কোম্পানিগুলো চলছে কচ্ছপগতিতে। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, ২০২১ সালের মধ্যে অন্তত তিন কোটি গ্রাহক প্রি-পেইড মিটার পাবেন। অথচ, জ্বালানি বিভাগ থেকে বিতরণ কোম্পানির সামনে তেমন কোনও লক্ষ্যই নেই। ফলে, কবে নাগাদ এই মিটার বসানো শেষ হবে, তাও বলা যাচ্ছে না। একই মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের কাজের তুলনামূলক বিশ্লেষণে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

জ্বালানি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম এই দায় স্বীকার করে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘আমাদের ব্যর্থতার কারণ, আমরা এখনও প্রি-পেইড মিটার বসানোর কাজ শেষ করতে পারিনি। ১৪ বছরে মাত্র পৌনে তিন লাখ মিটার দিতে পেরেছি।আমাদের গ্রাহক সংখ্যা অনুযায়ী ৫০ লাখের মতো মিটার বসানো দরকার।’

সবেমাত্র প্রি-পেইড মিটার বসানোর কাজ শুরু করেছে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো। মিটার বসনোর কাজ কচ্ছপগতিতে আগানোর কারণে, কবে নাগাদ কবে সেই কাজ শেষ হবে তা কেউ বলতে পারছেন না।

জানতে চাইলে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা শুরু করেছি। যে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে, সেই প্রকল্প ধরেই কাজ করছি। এর বাইরে নতুন প্রকল্প পাস হলে আমরা কাজ করবো। এর বাইরে আমাদের পক্ষে কিছু জানানো সম্ভব নয়।’

প্রি-পেইড মিটোরে ব্যবহারের আগেই ভোক্তার কাছ থেকে বিল আদায়ের পাশাপাশি এতে অপচয় রোধ হবে বলে দাবি করছে সরকার। এ জন্য বিদ্যুতের পর গ্যাসেও প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে গ্যাসের মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ।এরমধ্যে আবাসিক গ্যাস গ্রাহকের সংখ্যা ৪২ লাখ। অন্যদিকে, সারাদেশে এখন বিদ্যুতের গ্রাহক প্রায় সোয়া তিন কোটি। যাদের সবাইকে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি বছরের (২০১৯ সাল) জুন পর্যন্ত তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের অধীন এলাকায় বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় আবাসিক গ্রাহকের আঙিনায় মোট এক লাখ ৫৫ হাজার ৭৬টি প্রি-পেইড মিটার বসানো হয়েছে। এছাড়া কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অধীন এলাকায় বসানো হয়েছে আরও ৬০ হাজার প্রি-পেইড মিটার।

এদিকে, যথাযথ গ্যাস ব্যবহারের সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করতে বিতরণ কোম্পানির শিল্প, ক্যাপটিভ ও সিএনজি গ্রাহকদের ই-ভিসি মিটার বসানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল), সুন্দরবন ও পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস বিতরণ কোম্পানিও প্রি-পেইড মিটার বসানোর কাজ শুরুই করেনি।ফলে, দক্ষ ব্যবহার ও অপচয় রোধের যে কথা মুখে বলা হয়, তা আদৌ বাস্তবে সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here