পায়রাবন্দরে আপাতত হচ্ছে না স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল

42

পদ্মার ওপারে খুলনা ও বরিশাল অঞ্চল মিলিয়ে ২১টি জেলার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২০১৬ সালে গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ নেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ পরিকল্পনায় পায়রায় একটি স্থায়ী লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল তৈরির উদ্যোগ ছিল সরকারের। কিন্তু পায়রাবন্দরে পানির গভীরতা কম থাকায় আপাতত সেখানে টার্মিনাল তৈরি সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান—টোকিও গ্যাস ইঞ্জিনিয়ারিং সলুশনস করপোরেশন (টিজিইএস) ও নিপ্পন কোই কোম্পানি (এনকে)।

গত সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন সংক্রান্ত এক পর্যালোচনা সভায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আপাতত পায়রায় এলএনজি টার্মিনাল তৈরি সম্ভব নয়।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দুইটি বলছে, পটুয়াখালীর পায়রাবন্দর এলাকায় ল্যান্ড বেইজড এলএনজি টার্মিনাল তৈরির জন্য চ্যানেলের ন্যূনতম গভীরতা ১২ মিটার না থাকায় বর্তমানে সেখানে টার্মিনাল তৈরি সম্ভব হবে না। তবে, পায়রাবন্দর এলাকার রাবনাবাদ চ্যানেল কস্ট শেয়ারিংয়ের ভিত্তিতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে টার্মিনাল তৈরি করা যেতে পারে।

পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষ গত বছর বেলজিয়ামের একটি কোম্পানির সঙ্গে বন্দরের রামনাবাদ চ্যানেলের খনন কাজের চুক্তি করে। ওই চুক্তিতে বন্দরে ১২ মিটার গভীরতা সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। এখন বন্দর চ্যানেলে সাড়ে চার মিটার থেকে আট মিটার গভীরতা রয়েছে।

ফলে বন্দরে সাড়ে চার মিটার গভীরতায় বড় জাহাজ আসতে পারে না। এলএনজি টার্মিনালের জন্য ১২ থেকে ১৬ মিটার গভীরতার প্রয়োজন, যা পায়রাবন্দরে নেই।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দুটি বন্দর রয়েছে। পায়রা ছাড়া অন্য বন্দরটি হচ্ছে মোংলা। মোংলায়ও গভীরতা সংকট রয়েছে। মোংলায় সর্বোচ্চ ৭ থেকে আট মিটার গভীরতায় জাহাজ আসতে পারে। ফলে এখানেও এলএনজি টার্মিনাল তৈরি সম্ভব নয়।

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

 

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here