নেপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন

157
biddut

নিউজ ডেস্ক, বিনিয়োগ বার্তা:
দুই দেশের বিদ্যুৎ সহযোগিতায় দুই কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ-নেপাল যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি। এরমধ্যে প্রথম কমিটি কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে পর্যালোচনা করবে, অন্য কমিটি নেপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

দুই দিনের বৈঠকের পর মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) টেলিফোনে কাঠমান্ডু থেকে পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘বৈঠকের পর আমরা দুটি কমিটি গঠন করেছি। একটি কমিটি কারিগরি দিন পর্যালোচনা করবে। অন্যটি নেপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখবে। কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর নেপালে বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দুই দেশের সরকার। বাংলাদেশ-নেপালের জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সম্ভাব্যতা নির্ণয়ে যৌথ কমিটি গঠন করেছে দুই দেশ। ৩ এবং ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-নেপাল স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে কমিটি গঠন করা হয়। এখন নেপালে বাংলাদেশের বিনিয়োগের ভাগ্য নির্ভর করছে এই কমিটির প্রতিবেদনের ওপর।’

আরও পড়তে পারেন :  পায়রা টু পটুয়াখালী ২৩০ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চালু

গত ১০ আগস্ট নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎখাতে সহায়তা সম্প্রসারণে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।এরপর দুই দেশই যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করে।ওই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সচিব এবং নেপালের বিদ্যুৎ সচিব।কাঠমান্ডুতে দুই দেশের বিদ্যুৎ সচিব পর্যায়ের এটি প্রথম বৈঠক।

পিডিবি জানায়, এখন ভারত থেকে বাংলাদেশ এক হাজার ২৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে। এর বাইরেও প্রতিবেশী অন্য দেশের সঙ্গে বিদ্যুৎখাতের সহায়তা সম্প্রসারণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এরমধ্যে যেসব দেশে জল বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে ওই দেশগুলোকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সার্ক ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টেও বিদ্যুৎখাতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর এক সঙ্গে কাজ করার কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পারস্পরিক সম্পর্ক বৃষ্টি করে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিজেদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ায় এক লাখ মেগাওয়াটের বেশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও দেশগুলো নিজেদের সম্পর্ক উন্নয়ন করে এই সুবিধাকে এখনও কাজে লাগাতে পারছে না। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে প্রথম প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

আরও পড়তে পারেন :  অপরিকল্পিত শিল্প-কারখানায় বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ আর নয়

বাংলাদেশ-নেপাল দুই দিনের বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যুৎ সচিব নেতৃত্ব দেন। এজন্য বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের নেতৃত্বে ২ ডিসেম্বর একটি প্রতিনিধি দল নেপালে যান। ওই কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব, একজন যুগ্ম সচিব, একজন উপসচি ছাড়াও পিডিবি চেয়ারম্যান, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক রয়েছেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, দুই দিনের বৈঠকে মূলত বাংলাদেশ ও নেপাল কোন কোন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করতে পারে, সেই আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালন নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়া যৌথ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আগেই ভারতের জিএমআর থেকে ৫০০ মেগাওয়াট ও এছাড়া ভারতের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি এনভিভিএন নেপাল থেকে ৫০০ হতে ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে বিক্রি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ জন্য বাংলাদেশ সরকার অথবা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদি বিদ্যুৎ বিক্রয় চুক্তি সইয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের আগেই এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশ আমদানি করতে পারে।

আরও পড়তে পারেন :  পায়রা টু পটুয়াখালী ২৩০ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চালু

নেপালে ৩০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও দেশটি বর্তমানে সামান্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

চলতি বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বিলিয়ন ডলার প্রতিবেশী দেশের জল বিদ্যুৎখাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন। নেপাল-ভুটান এবং মিয়ানমারের জল বিদ্যুৎ উৎপাদনে এই অর্থ বিনিয়োগ করা হবে। এজন্য আলাদা একটি কোম্পানিও গঠন করা হচ্ছে।

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here