নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর আগ্রহ কম

তরল জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কম। তারপরও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো আগ্রহ কম। গত তিন বছরে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছে তরল জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। অপরদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে এসেছে মাত্র ৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বলছে, গত বছর ফার্নেস অয়েল চালিত কেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৩.৬২ টাকা। ডিজেল চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ ছিল ২৭.২১ টাকা। আর নবায়নযোগ্য বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতে উৎপাদন খরচ ১১.৬৬ টাকা।

সরকারি এই হিসাবেই দেখা যায়, ফার্নেল ওয়েলের চেয়ে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ইউনিট প্রতি কম ছিল ১ টাকা ৯৬ পয়সা। আর ডিজেলের উৎপাদনের চেয়ে কম ছিল ১৫ টাকা ৫৫ পয়সা।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তিতে দেখা যায়, এর আগে ১৬-১৮ সেন্টে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি হয়েছিল। এখন যা ১০ সেন্টে নামিয়ে আনতে চেষ্টা করছে সরকার। ১০ সেন্ট অর্থাৎ ৮ টাকা ৫০ পয়সা নামিয়ে আনা সম্ভব। সেক্ষেত্রে আরও কমে সৌরবিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর চুক্তি হয় নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট ভিত্তিতে অর্থাৎ বিদ্যুৎ দিলেই কেবল তারা দাম পাবে। কিন্তু তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ দিক বা না দিক তাদের অর্থ পরিশোধ করতেই হবে। যাকে বলা হয় ক্যাপাসিটি পেমেন্ট।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিইআরসির সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের খরচ কমাতে হলে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এজন্য বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ জ্বালানি, কয়লা বা এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। তেলের চেয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে খরচ কম হয়। তাই দ্রুত সেদিকেই এগুতে হবে।

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *