ত্বকের চর্চায় মৌসুমী ফলরে গুণাবলী

0
35

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগ বার্তা:

ত্বকের যত্নে মৌসুমি ফলের কার্যকারিতার কথা আমরা সকলেই কম-বেশি জানি। ছোটবেলা থেকেই নানি-দাদির কাছে ত্বক ও চুলের যত্নে তাজা ফলের অবদানের কথা অনেকেই শুনে থাকবেন। ত্বকের যত্নে সহজলভ্য দেশী ফলগুলোর জানা ও অজানা নানা তথ্য জানাচ্ছে নিচে দেওয়া হলো-

ত্বকের রং উজ্জ্বল করে আম: স্বাদে গন্ধে ও মাধুরীতে পরিপূর্ণ আম ছোট-বড় সকলের কাছেই জনপ্রিয়। আমের পুষ্টিগুণ বলে শেষ করা যাবে না। এককাপ পাকা আমে ১০০ ক্যালরি, ১ গ্রাম প্রোটিন, দৈনন্দিন প্রয়োজনের ভিটামিন এ ৩৫শতাংশ, ভিটামিন বি ৬শতাংশ। ফাইবার সমৃদ্ধ ফল বলে এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য পথ্য স্বরূপ। আমে বিদ্যমান ভিটামিন এ ত্বক ও চুলের টিস্যু বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন। বিটা ক্যারোটিনয়েড ও এ্যান্টি অক্সিডেন্টের উৎস আম। গবেষণায় দেখা গেছে, বিটাক্যারটিনয়েড সমৃদ্ধ ফল খেলে স্বাভাবিকভাবে ত্বকের রং উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়। নিয়মিত আম খেলে শরীরের আয়রন ঘাটতি পূরণ হবে এবং হিমোগ্লোবিন থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

ঘুমের প্রাকৃতিক ওষুধ কলা : সুস্বাদু ও পুষ্টিকর কলা সারা বছরই সহজেই পাওয়া যায়। এই জনপ্রিয় ফলটি সুষম খাদ্য তালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কলার হরেক রকম শ্রেণীভেদ থাকলেও সাগর, শবরী, চিনিচাম্পা বেশি সমাদৃত। এ্যানিমিয়া রোগীর জন্য আদর্শ খাদ্য কলা। যারা অনিদ্রা ও বিষন্নতায় ভুগছেন রাতের খাবারের শেষে অবশ্যই ১টি কলা খাবেন। কারণ, এর ট্রিপটোফ্যান ঘুমের প্রাকৃতিক ওষুধ। পর্যাপ্ত ঘুম দূর করবে ডার্ক সার্কেল ও চেহারার অবসন্নতা। কলার ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি ত্বক, চুল ও নখের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, খাদ্যে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর অভাবে চুল পড়া, আগা ফাটাসহ নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়।

ত্বকের বলিরেখা সারাতে লিচু : সুস্বাদু ও সরস লিচু কার না পছন্দ। শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশে ডেজার্ট হিসেবে এর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ত্বকের কোলাজেন কমে যায়। ত্বকে দেখা দেয় বলিরেখা। এর প্রধান কারণ শরীরে এ্যান্টি অক্সিডেন্ট কমে যাওয়া। লিচুতে অলিগোনোল নামক এক ধরনের এ্যান্টি অক্সিডেন্ট প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। যা কোলাজেন তৈরি ছাড়াও সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি থেকে ত্বককে রাখে সুরক্ষিত। সে কারণে লিচুকে ত্বকের ক্যান্সার ও বলিরেখার অস্ত্র বলা হয়। কম ক্যালরি ও লো-ফ্লাটযুক্ত ফল লিচু। লিচুতে ভিটামিন ডি ও খনিজ পদার্থে (কপার জিংক, ম্যাঙ্গানিজ) ভরপুর বলে চুলের সুস্থতার জন্য ভাল টনিক।

মহৌষধ পেঁপে : মাখনের মতো তুলতুলে নরম পাকা পেঁপেকে রোগের পথ্য বলা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও আফ্রিকা, পর্তুগাল, স্পেন, ভারত, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ডে সারা বছরই পেঁপের চাষ হয়। পেঁপেতে প্রচুর জলীয় অংশ থাকায় এটি ত্বককে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। শরীরের স্বাভাবিক ক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য ভিটামিন ও খণিজ পদার্থের উৎস পেঁপে। বিটাক্যারোটিন ও এ্যান্টি অক্সিডেন্ট ত্বকের মৃত কোষ সারিয়ে তুলে ত্বককে রাখে দাগ ও বলিরেখা মুক্ত। ফাইবারযুক্ত পেঁপে সহজেই শরীরের ওজন কমিয়ে ওজনকে রাখে নিয়ন্ত্রণে। নিজেকে রোগ মুক্ত ও সুন্দর রাখার জন্য প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় চাই মহৌষধ পেঁপে।

বিনিয়োগ বার্তা/পিএ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here