‘ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে এসবিএসি ব্যাংক’

সাউথ বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম ফারুকের সাক্ষাৎকার

616
Golam Faruk-SBAC Bank

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটি ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে যাত্রা শুরু করে। আর্থিক খাতের নানান সঙ্কটের মধ্যেও ব্যাংকটি তার সাফল্য জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। ব্যাংকটি পঞ্চম বছর শেষে ৬ষ্ঠ বছরে পদার্পণ করছে। নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে এসবিএসি ব্যাংক সর্বাধিক পরিমাণের মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আর এই সফলতার পিছনে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো. গোলাম ফারুক-এর মেধাবী নেতৃত্বের অবদান সর্বজনবিদিত। যিনি তাঁর প্রজ্ঞা, মেধা, শ্রম এবং কর্মকুশলীতার মাধ্যমে ব্যাংকিং জগতে তারকা ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুনাম অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। এ ব্যাংকে যোগদানের পূর্বে তিনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন। সময়ের প্রথিতযশা এই ব্যাংকারের বরিশাল সদর উপজেলায় ১৯৫৮ সালের ১ জানুয়ারি এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন । তাঁর পিতার নাম চৌধুরী নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং মাতা বেগম লুৎফুন্নেছা।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে বিএসএস অনার্সসহ এমএসএস ডিগ্রি লাভের পর বিআরসি পরীক্ষার মাধ্যমে ১৯৮৪ সালের ৯ জুলাই জনতা ব্যাংকে যোগদান করেন। ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে পদোন্নতি পান এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ৭ এপ্রিল ২০১৬ তিনি পুনরায় জনতা ব্যাংকে ডিএমডি হিসেবে বদলি হয়ে আসেন এবং ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ব্যাংকের হেড অব ক্রেডিট, চিফ রিস্ক অফিসার এবং সিআইবি সেল এবং জনতা ভবন কর্পোরেট শাখাসহ চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল ডিভিশনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর তিনি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে রাকাব এ যোগদান করেন এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে অবসর গ্রহণ করেন। ১০ জানুয়ারি ২০১৭ তিনি এসবিএসি ব্যাংক লিমিটেডে যোগদান করেন।

সম্প্রতি তার সাথে কথা বলেন শেয়ার বাজার ও অর্থবাণ্যিজ্য ভিত্তিক জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিনিয়োগ বার্তার সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ আলতাফ হোসেন।শুরুতেই তার সাথে কথা হয় সরকারি ও বে সরকারি খাতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে।

তিনি বলছিলেন, সরকারি ব্যাংকগুলোর দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও আভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার ফাঁক ফোকর গলে নানা ধরনের অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার সুযোগ থাকে। ঋণ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার অভাব, দুর্বল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং পেশাদারিত্বের অভাবেই সরকারি খাতের ব্যাংকগুলো ধাপে ধাপে দুর্বল ব্যাংকে পরিণত হয়। যথাযথভাবে ঋণগ্রহীতা নির্বাচনে কোন মুন্সীয়ানার পরিচয় না মেলায় এবং ঝুঁকি বিশ্লেষণে অর্বাচীনতা খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। গুটিকয়েক লোকের হাতে ঋণ কেন্দ্রীভূত হওয়া এবং যথাযথভাবে প্রকল্প মূল্যায়নে ব্যাংকের অদক্ষতা, শ্রেণিকৃত, ঋণ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। ঋণ ঝুঁকি সিন্ডিকেশনের মাধ্যমে হ্রাস করা যেত। এক্ষেত্রেও ব্যাংকাররা গ্রহণযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেনি। আমি মনে করি বর্তমানে রেগুলেটরি বডির ক্লোজ সুপারভিশন ও মনিটরিংয়ের কারণে ব্যাংকিং খাতের এ জাতীয় দুর্বলতা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। বৃহৎঋণ পেয়েছে। বৃহৎঋণ গ্রহীতার সংখ্যা হ্রাস, একই লোকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ প্রদানে সিন্ডিকেশন করা, ঋণ আদায়ে সর্বাত্মক গুরুত্ব দেয়াসহ অর্থঋণ আদালত আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন হলে সহসাই এ খাত ঘুরে দাঁড়াবে এবং দাঁড়াচ্ছেও।

বিনিয়োগ বার্তা : বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এর পেছনে ব্যাংকখাতের অবদান কতটা বলে আপনি মনে করেন?

গোলাম ফারুক: বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশের যে অবস্থা সাধারণত হয়ে থাকে তার চেয়েও কল্পনাতীত খারাপ অবস্থা বিরাজমান ছিল। বাঙালি জাতির মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে যুদ্ধ বিধ্বস্ত এ দেশকে গড়তে সবাই ঐকবদ্ধভাবে কাজ করেছে। স্বাধীনতা বিরোধী কিছু চক্র এদেশকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। একটি দেশের আর্থিক খাত যত শক্তিশালী হয় ওই দেশ তত দ্রুত উন্নতির শিখরে আরোহণ করে। দেশের প্রয়োজনেই ওই সময় ব্যাংক বীমা খাত রাষ্ট্রায়ত্ত করা হয়। এটা বঙ্গবন্ধুর গভীর প্রজ্ঞার ফসল। ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তা সৃষ্টির তৎপরতা শুরু করে। ব্যবসা বাণিজ্যে বিনিয়োগ করতে থাকে। বিশেষ করে পাট শিল্প, চিনি শিল্প, টেক্সটাইল খাত, আবাসন খাত, গার্মেন্টস খাত, পরিবহন ও সেবা খাতে ব্যাংকগুলোর ব্যাপক বিনিয়োগের ফসলই হচ্ছে বড় বড় শিল্পপতি সৃষ্টি। দেশের যত বড় বড় গ্র“প আজ দৃষ্টিগোচর হচ্ছে এর সবই কিন্তু কোনো না কোনো ব্যাংকের সৃষ্ট। ব্যাংক বিমা বিপুল কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে। কৃষিতে যে নীরব বিপ্লব ঘটেছে তার পিছনে কিন্তু ব্যাংকের অবদানকে অস্বীকার করা যাবে না।

মৎস্য উৎপাদন খাতে বাংলাদেশ কিন্তু বিশ্বের ৪র্থ তম দেশ। এর পিছনেও ব্যাংকের অবদান অনস্বীকার্য। ব্যাংক একদিকে যেমন সরাসরি উদ্যোক্তা তৈরি করেছে -এর সাথে সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। অপরদিকে ফরেন রেমিটেন্স আহরণেও ব্যাংক সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। সরকারি স্যোশাল সেফটি নেটস বাস্তবায়নে ব্যাংকারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে আইটি সেক্টর ও পরিবেশ রক্ষায় গ্রিন ফাইন্যান্সে ব্যাংক বিশেষ অবদান রাখছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জনে সরকারের সকল পরিকল্পনার সাথে ব্যাংকারদের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে, যা অব্যাহত থাকবে আগামী দিনগুলোতেও।

বিনিয়োগ বার্তা : ব্যাংকিং পেশায় আপনার রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীদের এখন কোন ধরনের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রতি দৃষ্টি দেয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

গোলাম ফারুক : উদ্যোক্তা কোন ধরনের ব্যবসা বাণিজ্যে প্রবেশ করবে এটা মূলত উদ্যোক্তার ইকুইটি জোগানের সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা, পণ্যের চাহিদা এবং বিশেষ করে ঝুঁকি বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি। তবে আমাদের দেশে সেবা খাত, পর্যটন খাত, আইটি খাত এবং বিশেষ করে কৃষিজ কাঁচামাল নির্ভর শিল্প খাতে বিনিয়োগ করার আপার সুযোগ রয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। পণ্য বহুমুখীকরণ -এর মাধ্যমে ভ্যালু এডেড প্রডাক্ট’র উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিৎ। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত হবে আইটি খাত। ধীরে ধীরে এ খাত পোশাক শিল্পের বিকল্প খাত হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

বিনিয়োগ বার্তা : নতুন প্রজন্মের ব্যাংক সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি?

গোলাম ফারুক : সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল কমার্স লি. ৪র্থ প্রজন্মের ব্যাংক। আমাদের দেশের সাইজ অব ইকোনোমি’র সাথে তুলনা করলে হয়তো ব্যাংকের সংখ্যা নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু যারা দেশের আনব্যাংকেড এরিয়া বিবেচনা করলে ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করা যায় না। ব্যাংকিং খাতের মূল সমস্যা হচ্ছে খেলাপি ঋণ। আশার কথা এসবিএসি -এর খেলাপি ঋণের হার ০.৭০% । এসবিএসসি ব্যাংক ওয়েব বেজড প্রডাক্ট’র সকল উপাদান নিয়ে আগামীতে হাজির হবে। আমাদের রয়েছে অনলাইন ব্যাংকিংসহ সকল ডিজিটালাইড সুবিধা। সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটের মাধ্যমে সকল শাখায়ই Foreign Trade Business করা যায়। আনব্যাংকেড এরিয়া অগ্রাধিকার প্রদানের মাধ্যমে এসবিএসি ব্যাংকের দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে। ২০১৭ সালে এ ব্যাংকের শাখা হয়েছে ৬৪টি। আমরা অ্যাগ্রো বেজ প্রডাক্ট ভিত্তিক শিল্পায়নে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। এসএমই, গ্রিন ব্যাংকিং মহিলা উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা প্রদানে আমরা বিশেষ সুবিধা দেই। একটা কমপ্লিয়েন্সেড হিসেবে সমাজে পরিচিতি পেতে আমরা সচেষ্ট। এসবিএসি ব্যাংকের পর্ষদ সদস্যগণ অত্যন্ত অভিজ্ঞ। পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা ও সকল স্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আমরা একটা আধুনিক কমপ্লিয়েন্সেড এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর পণ্য প্রচলনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ক্যাশ লেস স্যোসাইটি গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছি। আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবীর ভালো ভালো ব্যাংকের সাথে আমাদের জগঅ এবং ক্রেডিট লাইন রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমাদের পদচারণা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিনিয়োগ বার্তা : এসবিএসি ব্যাংকের সাম্প্রতিক অগ্রগতি কেমন?

গোলাম ফারুক: ২০১৭ সালে এসবিএসি ব্যাংকের গ্রোস প্রফিট ১৮২ কোটি টাকা। যা ২০১৬ সালের চেয়ে প্রবৃদ্ধি ২০% বেশি। আমরা টেকসই উন্নয়ন ধরে রাখতে চাই। আমাদের Growth of Total Asset ৩০%, Growth of Capital ২০%, Deposit Growth ৩১%, Loans + Advance Growth 40%, Import + Export Growth যথাক্রমে ৪৭% ও ৩৪% Foreign Remittance ৯৬% অর্থাৎ ব্যাংকিং খাতের নানা লক্ষ্যমাত্রায় এসবিএসি ব্যাংকের অর্জন সন্তোষজনক। ২০১৮ সালে আমরা Banking Sector -এর অন্যতম একটি Complianced ব্যাংক হিসেবে SBAC ব্যাংককে দেখতে চাই। এ বছর আমরা নতুন ৫টি ডিভিশন চালু করতে যাচ্ছি। ডিভিশনগুলো হচ্ছে ডিজিটাল ব্যাংকিং, মার্চেন্ট ব্যাংকিং, রিটেইল কাস্টমার ডিভিশন, করপোরেট ডিভিশন, মার্কেটিং এন্ড বিজনেস ডেভেলমমেন্ট ডিভিশন খোলার মাধ্যমে আমরা Diversified Business করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।

বিনিয়োগ বার্তা : ‘দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে’ -এর পেছনে কি কি কারণ রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

গোলাম ফারুক : দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি ১ম ও ২য় প্রান্তিকে অনেকটা ধীরগতি ছিল একথা সত্য। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে বিনিয়োগ পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০%। ২০১৭ সালে Capital Machinery খাতে আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে নতুন নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টিতে আগ্রহী। সব মানুষই চায় Cost Effective বিনিয়োগ। দেশীয় ব্যাংকগুলো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈদেশিক ঋণের মতো এত খড়ি রেট এ বিনিয়োগ করতে পারছে না অনেকগুলো কারণে। আমাদের Cost of Fund ও বেশি। দেশের অনেক মানুষ বিশেষ করে মধ্যম আয় এবং পেনশনারগণ ব্যাংক Deposit এর উপর নির্ভর করেন তাদের সাংসারিক খরচ নির্বাহ করেন। এছাড়া ডিপোজিট রেট সব সময় ইনফ্ল্যাশন রেট -এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে হয়, যাতে করে ডিপোজিটরদের Money Erosion না হয়। দেশকে পর্যায়ক্রমে উন্নত করতে হলে সঞ্চয় বৃদ্ধি একটা মূল নিয়ামক। এক্ষেত্রে সুদ হার ব্যাপকভাবে হ্রাস করলে মানুষ সঞ্চয়ে উৎসাহ হারাবে এবং বিকল্প খাতে তাদের আমানত রেখে বিপদের সম্মুখীন হবে। তবে দেশের বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করতে হলে সার্বিক বিবেচনায় সুদহার হ্রাসসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ইউটিলিটি সার্ভিস প্রদানে ত্বরিৎ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ব্যয় হ্রাসের ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে অশার কথা সস্তা বৈদেশিক ঋণের কারণে দেশীয় ব্যাংকগুলোও ক্রমান্বয়ে ঋণের সুদহার হ্রাস করছে তাদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে।

বিনিয়োগ বার্তা : প্রযুক্তিগত ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে আপনাদের ব্যাংকের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি?

গোলাম ফারুক : চলতি বছরে আমরা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি। লেনদেন দ্রুত ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে নিষ্পন্নে আমরা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছি। আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শাখাগুলোতে বসেও গ্রাহকরা দেশের যে কোনো জায়গায় লেনদেন করতে পারছেন। এছাড়া আরটিজিএসের মাধ্যমে শুধু আমাদের ব্যাংক শাখাই নয়, গ্রাহকরা অন্যান্য ব্যাংক শাখার সঙ্গেও লেনদেন করতে পারছে। ব্যাংকে যত রকমের অনলাইন সেবা আছে, আমরা সবগুলো সেবাই গ্রাহকদের দেয়ার চেষ্টা করছি। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে সারাদেশে বিশ্বমানের প্রযুক্তি নিয়ে ৬৪টি শাখার মাধ্যমে আমরা সেবা দিচ্ছি দেড় লক্ষাধিক বেশি গ্রাহককে। তিনি চলতি বছরকে ব্যাংকের সাফল্য ও প্রগতির বছর হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিনিয়োগ বার্তা : আপনি একজন অভিজ্ঞ ব্যাংকার ব্যক্তিত্ব। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিংয়ের তুলনায় বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা কেমন?

গোলাম ফারুক : এক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। বাংলাদেশে আমরা যে ব্যাংকিং করছি-তা এখনো মান্ধাতা আমলের। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অনেক দেশেই ব্যাংকগুলোর শাখা অফিসের প্রয়োজন হয় না। একটা ল্যাপটপ দিয়েই সকল লেনদেন করা হয়ে থাকে। এদেশে এটা করতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এ ধরনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যেমন সুফল রয়েছে, তেমনি ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। এগুলো ভেবেই সমস্ত ফাঁকফোকর বন্ধ করে তা চালু করতে হবে। ইতোমধ্যে যে সকল দুর্ঘটনা ঘটেছে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগোতে হবে। এটিএম বুথের জালিয়াতি, ব্যাংক ভল্টের জন্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা গ্রহণ করার উদ্যোগ নিতে হবে। ভল্টে এমন প্রযুক্তি সেট করতে হবে, যাতে কিছু হলে তার সংকেত সাথে সাথে ম্যানেজার এবং আইনশৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থা পেয়ে যায়। এখন কিন্তু যে কোনো গ্রাহক তার মোবাইলে টাকা জমা কিংবা উত্তোলনের মেসেজ পায়। এ রকম সকল ক্ষেত্রেই এটি চালু করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এদেশের ব্যাংকিং খাত বিশ্বমানের ব্যাংকিংয়ে পৌঁছতে সক্ষম হবে বলে আমি মনে করি।

বিনিয়োগ বার্তা/এস

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here