ডিএসইতে ৭ দিনে ১৫০ পয়েন্ট সূচক কমেছে

73
dse

পুঁজিবাজারে কিছুতেই স্থিতিশীলতা ফিরছে না। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য কিছু ‘প্রণোদনা’ দেওয়া হয়েছে। সোমবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে খোদ প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজার উন্নয়নে সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। কিন্তু এত কিছুর পরও বাজারে রক্তক্ষরণ চলছেই।গত ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ৬ দিনই সূচক কমেছে। গত ৭ দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৫০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৮০ পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে একাধারে তারল্য ও আস্থার সঙ্কট চলছে। ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা, বিপুল পরিমাণ খেলাপী ঋণ ও মুদ্রা পাচারের কারণে বেশিরভাগ ব্যাংকে নগদ টাকার তীব্র অভাব চলছে। ব্যাংকে তারল্য তথা নগদ টাকার সঙ্কট থাকায় পুঁজিবাজারেও তারল্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে বাজেটের পর বাজারে কোনো গতির আভাস দেখা না যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থায় টান পড়েছে। এর মধ্যেই মড়ার উপর খাড়ার ঘা-এর মতো পিপলস লিজিং বন্ধের খবর এসেছে। আজ মঙ্গলবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে পিপলস লিজিং নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। খবর অনুসারে পরিচালকদের অনিয়ম, বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ ও আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে কোম্পানিটিকে অবসায়িত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিগগিরই হাইকোর্টের কাছে চুড়ান্ত অনুমতি চাওয়া হবে।

আরও পড়তে পারেন :  ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যার মোহনায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে নিহত ১

পুঁজিবাজারে আরও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের অবস্থা বেশ নাজুক। পিপলস লিজিং এর ঘটনায় সেগুলোর ভাগ্য নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এছাড়া গত কয়েক বছরে পুঁজিবাজারে আসা অনেকগুলো কোম্পানির পারফরম্যান্সও তেমন ভালো নয়। আগে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যেও বেশ কিছু জাঙ্ক পর্যায়ে চলে গেছে। এমন অবস্থায় একটি বড় নেতিবাচক খবর সামগ্রিক বাজারের উপর আস্থাকেই নাড়িয়ে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২০১৯-২০ অর্থবছর বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য যে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে তা যথেষ্ট নয়। এবং করের যে নতুন আইন করা হয়েছে এর প্রভাবে সূচকের পতন হচ্ছে। আর বর্তমানে ব্যাংকে তারল্য সংকট চলছে, আর এ সংকট নিরসনে ব্যাংকের পর্যাপ্ত পরিমাণে রিজার্ভ রাখা দরকার। কিন্তু রিজার্ভ বাড়াতে গেলে ব্যাংককে দিতে হবে অতিরিক্ত কর। এ বিষয় নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ এই কর আরোপের বিষয়কে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ মনে করছেন এটি বাজারের জন্য ক্ষতিকর। তারপরও সামগ্রিক পরিবেশ অনুকূলে থাকলে হয়তো বাজেটে দেওয়া প্রণোদনা ঠিকই বাজারে ইতিবাচক প্রভাত ফেলত। কিন্তু পরিবেশ অনুকূল না থাকায় তা তো কাজে আসেইনি, উল্টো আশাভঙ্গের কারণ হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন :  ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে স্বর্ণ পেল বাংলাদেশ

আলোচ্য সময়ে প্রথম দিনে ডিএসইর সূচক অবস্থান করছিল ৫ হাজার ৪৩০ পয়েন্টে এর ৩ দিন পর ৫৮ পয়েন্ট কমে সূচকের অবস্থান দাঁড়ায় ৫ হাজার ৩৭২ পয়েন্টে। তারপরের দিন কিছুটা উত্থান হয়ে সূচক ৫ হাজার ৩৮০ পয়েন্টে দাড়ায়। এবং তার পরের ৩ দিন ১০০ পয়েন্ট কমে সূচক ৫ হাজার ২৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here