ঝুঁকিতে বছরে ২৫শ’ কোটি টাকার গ্যাস উত্তোলন

68

গভীর সংকটে পড়েছে দেশের সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে সমৃদ্ধ গ্যাসক্ষেত্র তিতাস। সেখানে দ্রুত কমে যাচ্ছে গ্যাসের চাপ (রিজার্ভার প্রেসার)। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা ক্ষেত্রটির ‘লোকেশন-১’-এর ৫টি কূপের।

বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। এতে আরও বলা হয়েছে, স্বাভাবিক প্রাকৃতিক চাপে এসব কূপ থেকে প্রায় এক বছর পর্যন্ত গ্যাস তোলা সম্ভব হবে। এরপর দৈনিক ২০ কোটি (২০০ মিলিয়ন) ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাবে, যার আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা।

সময়মতো ‘কম্প্রেসার’ বসাতে না পারার কারণেই সৃষ্টি হয়েছে এমন পরিস্থিতির। এ জন্য বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ডের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা লোকেশন-১-এর ৫টি কূপে কম্প্রেসার বসানোর জন্য দরপত্র আহ্বানে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যার কারণে দরপত্র আহ্বান করেও চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে দরপত্র বাতিল করতে হয়েছে। ফলে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে বছরে ২৫০০ কোটি টাকার গ্যাস উত্তোলন।

আরও জানা গেছে, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস উত্তোলন অব্যাহত রাখার জন্য তিতাসের এই ৫টি কূপে ‘ওয়েলহেড কম্প্রেসার’ বসানোর একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় বছর খানেকের মধ্যে সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে- এমন আশঙ্কা ক্ষেত্রটির পরিচালনা সংস্থা বিজিএফসিএল সংশ্লিষ্টদের।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট বিদেশি কোম্পানি শেল অয়েলের কাছ থেকে ৫টি গ্যাসক্ষেত্র কিনেছিলেন। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এসব প্রতিষ্ঠানের অন্যতম হচ্ছে তিতাস। কিন্তু মুজিববর্ষে এই গ্যাসক্ষেত্রে সৃষ্ট এমন নাজুক পরিস্থিতির জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ক্ষেত্রটি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার টিসিএফ গ্যাস তোলা হয়েছে। এখনও ক্ষেত্রটিতে প্রায় সমপরিমাণ গ্যাসের মজুদ রয়েছে। কিন্তু যে কোনো ক্ষেত্র থেকে গ্যাস তোলার একটা পর্যায়ে গ্যাসের চাপ কমতে থাকে এবং এক সময় আর স্বাভাবিক চাপে গ্যাস তোলা সম্ভব হয় না। এই অবস্থায় ওয়েলহেড কম্প্রেসার বসিয়ে গ্যাস তোলা অব্যাহত রাখতে হয়। তিতাসেও সেই ব্যবস্থা নিতে ২০১৬ সালে বিজিএফসিএল ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) একটি সমীক্ষা চালায়। ওই সমীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়েলহেড কম্প্রেসর বসানো না হলে আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০১৯-২০২১ সালের মধ্যে ক্ষেত্রটির লোকেশন-১-এর ৫টি কূপ থেকে স্বাভাবিক চাপে গ্যাস তোলা বন্ধ হয়ে যাবে।

এই পরিস্থিতি যাতে না হয়, সে জন্য এডিবির আর্থিক সহায়তায় বিজিএফসিএল ওই ৫টি কূপে ওয়েলহেড কম্প্রেসার বসানোর প্রকল্প গ্রহণ করে। সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার মধ্যেই ওই ৫টি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের হার দৈনিক ৩০ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ২০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়ায়।

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here