ছুটির ফাঁদে বেনাপোল স্থলবন্দর

44

মোঃসাহিদুল ইসলাম শাহীন,বেনাপোল (যশোর)বিনিয়োগ বার্তা:

মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা, জাতীয় শোক দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবারের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। ৮ই আগস্ট বিকেল থেকে বন্ধ হয়ে গেছে সরকারি অফিসসহ দু‘দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।
মাঝে একদিন অফিস খোলা থাকলেও তেমন কোনো কাজ হবে না। ১৮ই আগস্ট রবিবার থেকে আবারও চলবে এ বন্দরের কার্যক্রম।
এর ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পড়বে বিরূপ প্রভাব। সীমান্তের দুই পাশের ট্রাকজট আরো বাড়বে বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। তবে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্ট যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা ও কাস্টমস ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা জানান, বৃহস্পতিবার (৮ই আগস্ট) বিকেলের পর থেকে কাস্টমস ও বন্দরের কাজকর্ম ঢিলেঢালা হয়ে গেছে। অনেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বেনাপোল ত্যাগ করেছেন। ওই দিন সন্ধ্যার পর বন্ধ হয়ে গেছে বেনাপোল-পেট্রাপোলের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি ও রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ঈদুল আযহার ছুটি, বুধবার (১৪ই আগস্ট) একদিন অফিস হয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ই আগস্ট) জাতীয় শোক দিবসের ও শুক্র শনিবার (১৬-১৭ই আগস্ট) সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কারণে কাস্টম ও বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

অনেক আমদানিকারক ঈদের ছুটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে দেশের বাড়িতে যাবেন। তারা ঢাকা ফিরে না আসা পর্যন্ত কোনো পণ্যও খালাস নিবে না। আগামী রবিবার (১৮ই আগস্ট) সকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস বন্দরের কার্যক্রম পুরোদমে চলবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়তে পারেন :  রেকর্ড ভেঙে খেলাপি ঋণের নতুন রেকর্ড

ভারতের পেট্রাপোল বন্দর সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী জানান, বেনাপোলের মতোই পেট্রাপোলেও ট্রাকজট রয়েছে। বন্দরের ট্রাক টার্মিনালে, কয়েক শ পণ্য বোঝাই ট্রাক অপেক্ষা করছে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায়। ছুটির কারণে এসব পণ্য পেট্রাপোল থেকে বেনাপোল বন্দরে ঢুকবে ছুটি শেষে। এতে পেট্রাপোল বন্দরসহ বেনাপোল বন্দর এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হবে।

বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক রাকিবুল হাসান বলেন, ঈদের ছুটির আগের তিন দিনে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার (৬-৮ই আগস্ট) প্রায় ৬০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে বেনাপোল স্থলবন্দরে। খালাস হওয়া পণ্যের মধ্যে বেশি রয়েছে শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও খাদ্যদ্রব জাতীয় পণ্য। এবার ঈদে টানা বেশ কয়েকদিন বন্ধ থাকবে শোনা যাচ্ছে। ফলে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী আগাম পণ্য খালাস করে নিয়ে গেছেন।

বেনাপোলের সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যার পর থেকে বন্ধ হয়ে গেছে বেনাপোল-পেট্রাপোলের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি। শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি ও রবিবার থেকে মঙ্গলবার ঈদুল আযহার ছুটির কারণে কাস্টম ও বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এপর একদিন বুধবার অফিস হয়ে আবারও তিনদিন বন্ধ থাকবে কাস্টমস ও বন্দর। আবার অনেক আমদানিকারক ঈদের ছুটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে দেশের বাড়িতে যাবেন। তারা ঢাকা ফিরে না আসা পর্যন্ত কোনো পণ্যও খালাস নিবে না। আগামী রবিবার (১৮ আগস্ট) সকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়তে পারেন :  রফতানি আয়ে কমেছে বাণিজ্য ঘাটতি

এ ব্যাপারে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে অঘোষিত ছুটি পড়ে গেছে। ছুটির আগেই অনেক আমদানিকারক বিপুল পরিমাণ পণ্য খালাস করে নিয়ে গেছেন। মাঝে বুধবার (১৪ আগস্ট) একদিন অফিস হবে। কেউ পণ্য বন্দর থেকে ডেলিভারি নিতে চাইলে অবশ্যই ডেলিভারি করা হবে। তবে ১৮ আগস্ট থেকে আবারও বন্দরের কার্যক্রম চলবে। ছুটিতে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, পবিত্র ঈদ-উল-আযহার ছুটিতে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও স্বাভাবিক রয়েছে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত। এ সময় একটু বেশি ভিড় হয়ে থাকে। সে কারণে ইমিগ্রেশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।

বন্ধু প্রতিম দেশ ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ৯০ ভাগই আসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। মাত্র সাত দিনের এলসিতে পণ্য আনা যায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮১ কিলোমিটার। আড়াই ঘণ্টায় চলে আসা যায় চেকপোস্টে। সে কারণে আমদানিকারকরা পণ্য আমদানির জন্য বেনাপোল বন্দর ব্যবহার থাকেন। বন্দর বন্ধ থাকায় আমদানি-রপ্তানিতে প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

আরও পড়তে পারেন :  দাম বেড়েছে পেঁয়াজের, আদা-রসুনের

উল্লেখ্য, প্রতিদিন বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে তিন শ থেকে সাড়ে তিন শ পণ্য বোঝাই ট্রাক আসে ভারত থেকে। আর বাংলাদেশ থেকে দেড়শ‘ থেকে দুইশ‘ ট্রাক পণ্য যায় ভারতে। এ ছাড়াও শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচা মালামালের পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য আসে এই বন্দর দিয়ে। একটানা পাঁচ দিন ও একদিন অফিস খুলে আবার তিন দিন বন্ধ থাকার পর ১৮ আগস্ট সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি চালু হলে সৃষ্টি হবে পণ্য জটের। এ ছাড়া ঈদের ছুটি কাটাতে কাস্টম ও বন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারিরা গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

লক্ষ‍্য করা যায়, ঈদের বন্ধের পর কাস্টমস ও বন্দর চালু হলেও অনেক কর্মকর্তা আরো কয়েকদিন অনুপস্থিত থাকেন। ঢাকার অনেক আমদানিকারকরা পরিবার পরিজনের সাথে ঈদ করতে চলে যান দেশের বাড়িতে। তারাও আসেন অনেক পরে। ঈদের আমেজ কাটার পর তারা আমদানিকৃত পণ্য চালান খালাস করে থাকেন। দেশের অর্থনীতিতে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম।

 

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here