‘ গার্মেন্টস সেক্টরে কর্ম পরিবেশ উন্নত হচ্ছে’

0
39

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা:
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট বলেছেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে কাজের পরিবেশ দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। তবে এখনও রাজধানীর আবাসিক এলাকায় অনেক পোশাক কারখানা রয়েছে। যা যত দ্রুত সম্ভব সরিয়ে ফেলা উচিত।

রোববার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের দোড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া এবং এর প্রতিকূলতা ও সমাধান’ শীর্ষক কনফারেন্সে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা এবং নারী নিরাপত্তা উন্নয়নে আজকের আয়োজন অত্যন্ত সময়োপযোগী। এক্ষত্রে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে কাজের পরিবেশ দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। তবে এখনও রাজধানীর আবাসিক এলাকায় অনেক পোশাক কারখানা রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এগুলো সরিয়ে ফেলা উচিত। এক্ষেত্রে কারখানা মালিক, শ্রমিক এবং সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আর এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।

আগামিকাল (২৯ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে বার্নিকাট বলেন, দীর্ঘদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের রাষ্ট্রীয় সফর। এই সফর দুই দেশের বন্ধত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো জোরদার করবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র এক সঙ্গে কাজ করবে।

যৌথভাবে কনফারেন্সের আয়োজন করে ব্রাউন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল হেলথ ইনিসিয়েটিভ এবং চাইল্ড হেলথ অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।
কনফারেন্সের প্রধান অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবাকে সবার আগে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। বর্তমান সরকার তাদের স্বাস্থ্যসেবায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে কারখানা মালিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের গার্মেন্টস সেক্টরে প্রায় ৪ মিলিয়ন শ্রমিক কাজ করে। যাদের প্রায় ৮০ শতাংশ মহিলা। এই অধিক সংখক মহিলা শ্রমিককে তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করতে গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে নানা প্রশিক্ষণের আয়োজন করা যেতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, এসব কারখানায় অনেক শ্রমিক ডায়াবেটিস, হেপাটাইটিস, রক্ত চাপ, রক্তশূণ্যতাসহ নানা রোগে ভুগে।
মহিলা শ্রমিকদের হাইজিনের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কারখানাগুলোতে প্রতি মাসে একবার হলেও মহিলা শ্রমিকদের হাইজিনের প্রতি নজর দেওয়া এবং চেকআপ করা উচিত। বর্তমানে আমরা মাতৃত্বকালীন ছুটি ৪ মাস থেকে বাড়িয়ে ৬ মাস করেছি। তাই কারখানা মালিকদেরকে এখন শ্রমিকদের এই সুযোগ সুবিধা দিতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস( এমডিজি) লক্ষ্যমাত্রা শেষ করে সরকার এখন সাসটেইন্যাবল ডেভেলপমেন্ট গোলস(এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছি। এ লক্ষ্য অর্জনে মহিলা শ্রমিকদের জন্য সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।
এই কনফারেন্সের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে জড়িত সকল অংশীদারদের একত্রিত করে এ শিল্পে জড়িত শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান অবস্থা অবহিত করা। শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের সুযোগ এবং সহযোগিতা সম্পর্কে আলোচনা। স্থানীয় সরকারি ও এনজিও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে কারখানার অভ্যন্তরীন ক্লিনিকগুলোর সংযুক্তি স্থাপন করা। যার মাধ্যমে রোগ নির্নয়, চিকিৎসা ও ফলোআপ এবং পাশাপাশি কারখানার কর্মীদের রক্ত, চাপ, ডায়াবেটিস বা রক্তশূণ্যতার মতো রোগসমূহ নির্নয়ের নিয়ম ও কারিগরি পদ্ধতি ব্যবহারে কিভাবে প্রশিক্ষিত করা যায়।
কনফারেন্সে আরও বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারপারসন ডা. দিপু মনি, কনফারেন্সে মূল গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং সভাপতিত্ব করেন ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি ডা. রুহুল আবিদ।
বিনিয়োগবার্তা/ ফেরদৌস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here