কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছে ৫০ দেশ

118

কাশ্মীরের ওপর থেকে বিশেষ মর্যদা তুলে নেবার পর ভারত যে সেখানে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘণ করছে, সে বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে পাকিস্তান। এ নিয়ে ইসলামাবাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীন ও তুরস্কসহ বিশ্বের অর্ধশতাধিক রাষ্ট্র।

বুধবার এক টুইটে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে মঙ্গলবার পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে ৫০টিরও বেশি দেশ কাশ্মীর ইস্যুতে ঐতিহাসিক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। এ ঘটনাকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন শাহ মেহমুদ কুরেশি।

তিনি বলেন, ওই যৌথ বিবৃতিতে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে ভারতে প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ ও ওই রাষ্ট্রগুলো। এসময় তারা জাতিসংঘের গৃহীত প্রস্তাব প্রয়োগের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে।

আরও পড়তে পারেন :  ইয়েমেনের সেনা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে হুথিদের হামলা, নিহত ৬০

পাকিস্তান শুরু থেকেই কাশ্মীরের বিরোধ সমাধানে জাতিসংঘের প্রস্তাব বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। যদিও ভারত এটি তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয় বলে প্রচার করে থাকে এবং এ নিয়ে তারা তৃতীয় কোনো দেশের হস্তক্ষেপ মানতে রাজি না।

এর মাত্র একদিন আগে কাশ্মীরি জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘণ ও ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রধান মিশেল ব্যাচেলেট। সোমবার এক বিবৃতিতে মিশেল বলেন, গতমাসে জম্মু- কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাকে বাতিল করার পর ভারত সরকার যেভাবে ওই রাজ্যের বাসিন্দাদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে, তাতে সংস্থাটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

আরও পড়তে পারেন :  ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১১ মার্কিন সেনা আহত

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট অকস্মাৎ কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দানকারী ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারাটি তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয় মোদি সরকার। এরপর থেকে সেখানে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। অনেক এলাকায় এখনও বলবৎ আছে কারফিউ। আটক করা হয়েছে হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতাদের। বিচ্ছিন্ন রয়েছে টেলিফোন ও ইন্টারনেট যোগাযোগ। বিদেশি তো দূরের কথা, ভারতের অন্য রাজ্য থেকেও কোনো সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী বা বিরোধী দলীয় নেতাদের সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। কেবল ক্ষতাসীন দল বিজেপির নেতা কর্মীদের সেখানে যেতে দেয়া হচ্ছে, যারা কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করার কথা জানিয়ে সেখানে নানা পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করছেন। এ অবস্থায় দিন কয়েক আগে কাশ্মীরের নিরীহ গ্রামবাসীদের ভারতীয় সেনাদের ওপর নির্মম নির্যাতনের খবর ছাপা হয়েছে খোদ ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতেই।

আরও পড়তে পারেন :  মিয়ানমার সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট, রাখাইনে হবে সমুদ্রবন্দর

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here