কাশ্মীরে গেরিলা হামলা চালাতে ১শ’ যোদ্ধা প্রস্তুত পাকিস্তানে

42

কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার জন্য ১শ’ জনেরও বেশি সশস্ত্র গেরিলা যোদ্ধাকে প্রস্তুত করে রেখেছে পাকিস্তান। আফগান ও পশতুন যোদ্ধাদের শতাধিক সদস্য নিয়ন্ত্রণ রেখার বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করছে।

তারা যে কোনো সময় কাশ্মীরে বড় ধরনের জঙ্গি হামলা চালাতে পারে। চলতি মাসের ১৯ ও ২০ তারিখে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ভাওয়ালপুরে জঙ্গি গোষ্ঠী জয়েশ-ই-মোহাম্মদের (জেইএম) পরপর দুই গোপন বৈঠকে এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

জেইএম প্রদান মাসুদ আজহারের ভাই মুফতি রাউফ আজগরের সভাপতিত্বে ওই বৈঠক হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত, মুফতি রাউফ নিজেই কাশ্মীরে জঙ্গি হামলা পরিচালনা করবেন।

শুক্রবার গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য দিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ইকোনমিক টাইমস, এনডিটিভি।

আরও পড়তে পারেন :  টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গাসহ নিহত ৩

জয়েশ-ই-মোহাম্মদ সীমান্তে হামলার জন্য আফগান ও পাঠান জঙ্গিদের সমন্ব^য়ে গঠিত উচ্চ প্রশিক্ষিত একটি দলকে মোতায়েন করেছে বলে গোয়েন্দারা তথ্য দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত একটি দল। গোয়েন্দারা আরও জানান, নিয়ন্ত্রণ রেখায় সহিংসতা অব্যাহত রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান।

গোয়েন্দারা আরও জানিয়েছেন, ‘জঙ্গিরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে কাশ্মীরে বড় ধরনের হামলা চালাবে। শুধু উপত্যকাতেই নয়, দিল্লিসহ ভারতের অন্য বড় শহরগুলোতেও নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে।’

গোয়েন্দাদের দাবি, ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ুতে ৬ জন লস্কর-ই-তৈয়বা জঙ্গি ঢুকে পড়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে ই খবর পাওয়ার পর চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে রাজ্যে। বৃহস্পতিবার মাঝরাত থেকে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

আরও পড়তে পারেন :  গণভবনে ছাত্রলীগের জয়-লেখক

টিয়ার গ্যাস ও পেলেট গানে আহত ১৫০ জনকে চিকিৎসা দিয়েছে : কাশ্মীরের প্রধান দুটি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্র সরকার ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর থেকে তারা এখন পর্যন্ত টিয়ার গ্যাসে আহত পেলেটবিদ্ধ কমপক্ষে ১৫২ রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করেছে আলজাজিরা ও রয়টার্স।

রাজধানী শ্রীনগরের প্রধান দুটি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছেন দেড়শ’ জনের বেশি। শের-ই-কাশ্মীর ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস আর শ্রী মহারাজ হরি সিং হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া এ ১৫২ জনের নাম-পরিচয় সংগ্রহ করেছে রয়টার্স।

তাদের প্রত্যেকেই টিয়ার গ্যাসে অসুস্থ হয়ে বা পেলেট গুলির আঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। তবে কাশ্মীরের এক সরকারি কর্মকর্তা বলছেন, রয়টার্স ১০ শতাংশ রোগীরও তথ্য হাতে পায়নি। সংখ্যাটি অনেক বেশি।

আরও পড়তে পারেন :  রাজধানীর বাজারে কমেনি পেঁয়াজের দাম

এছাড়াও অধিকাংশ আহত নিতান্ত বাধ্য না হলে গ্রেফতারের ভয়ে হাসপাতালে আসছেন না। এলেও তারা বড় হাসপাতালগুলোতে না গিয়ে ছোটগুলোর শরণাপন্ন হচ্ছেন।

তবে রয়টার্স বলছে, যারা আহত হয়ে কয়েক ঘণ্টার প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন, তাদের নাম তালিকায় নেই। যারা দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা নিয়েছেন তারাই আছেন তালিকায়।

 

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here