কারাগারে বন্দি নারীদের যৌনতায় লিপ্ত করা হচ্ছে: প্রধান বিচারপতি

0
17

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগ বার্তা:

বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি নারীদের উপর শারিরীক নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা।
তিনি নির্দিষ্ট করে বলেছেন, ঢাকা, সিলেট কারাগার এবং গাজীপুর নারী ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে নারীরা যৌন হয়রানী ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে সম্প্রতি গাজীপুরে নারী ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা জানান প্রধান বিচারপতি।

তিনি আরো বলেন, গাজীপুরে অনেক যুবতী মেয়েকে ৫৪ ধারায় আটক রাখা হয়েছে। তাদের কে আদালতে হাজির করা হয়না। জেলা জজ কে এ বিষয়টি তদন্ত করে তালিকাসহ রিপোর্ট দিতে বলেছি। জেলা জজ জানিয়েছেন, মেয়েদের আদালতে উপস্থাপন করা হয়না।কারন তাদের যৌন কাজে ব্যবহার করা হয়। তখন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান (ড.মিজানুর রহমান) কে সুপ্রিমকোর্টে আমার (প্রধান বিচারপতি)কার্যালয়ে ডেকে এনে লিষ্টসহ ঔসব নারীর তালিকা বুঝিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু অনেক দিন হয়ে গেছে দেখার মত কিছুই হয়নি।

গত ২৩ মে মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নারীর প্রতি সহিংসতা বিষয়ক যুগান্তকারী রায় বাংলাদেশ,ভারত,পাকিস্তান শীর্ষক বইয়ের ২য় খন্ডের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

এ সময় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষন করে সিলেট কারাগার পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, সেখানে দেখলাম লোমহর্ষক ঘটনা। অনেক নিরপরাধ যুবতী মেয়ে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পড়ে আছে। অনেকের যাবজ্জীবন কারাদন্ডও হয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নারী নির্যাতন প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জেল সুপারের সাথে কথা বলেও জানতে পারলাম অনেক নারী আসামি রয়েছেন যাদের পক্ষে আইনি লড়াই করার মত কেউ নেই এবং সামর্থও নেই। বিনা বিচারে তারা দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে পড়ে আছে। অনেক নিরপরাধ আসামি রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে কারাগারে থাকায় অস্বাভাবিক আচরন করছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আগামী জুন মাসে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যাব। চাইলে গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীরা সাথে যেতে পারেন। বিদ্যমান সাক্ষ্য আইন সংশোধনের কথা উলে¬খ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, একজন নারী ধর্ষনের শিকার হওয়ার পর আদালতে জেরার মাধ্যমে আবারও তার সম্ভ্রম নষ্ট করা হয়। এ আইনের ১৫৫ ধারায় জেরা করার সময় নির্যাতিত নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।তাই ব্রিটিশ আমলে করা এ আইন সংশোধন করতে হবে। এ সময় কারাবন্দি

নারীদের আইনি সহায়তা দিতে আইনজীবীদের উদ্দ্যেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, টাকা-পয়সা না দেখে মাসে না হোক অন্তত বছরে দুটি মামলা ফ্রিতে শুনানি করেন।
অসহায় মানুষের জন্য এগিয়ে আসুন। বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার হওয়া প্রায় সাড়ে তিন হাজার নারীকে সে দেশের বিভিন্ন হোটেলে অসামাজিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধান বিচারপতি।

তিনি বলেন, এদের অধিকাংশই শিশু ও তরুনী। এ সব নারী দেশে ফিরে আসতে চাইলেও উদ্যেগের অভাবে সীমান্ত থেকে দেশে আনা যাচ্ছে না। সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও মানাবাধিকার সংগঠন গুলোকে আরও উদ্যোগী হয়ে এ সব নারীদের উদ্ধারে কাজ করতে হবে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন,বিচারপতি মোঃ ইমান আলী, বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর উল ইসণাম,জোষ্ঠ আইনজীবী সিগমা হুদা ও ফাউজিয় করিম ফিরোজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।

বিনিয়োগ বার্তা/মাসুদ/জিকু

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here