আম্পানের তাণ্ডবে ৮ জেলায় ২২ প্রাণহানি

55

অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। দেশের আট জেলায় অন্তত ২২ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।

বুধবার দুপুরে সুপার সাইক্লোন আম্পান শক্তি কিছুটা হারিয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় রূপে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানে। পরে রাতে প্রবেশ করে বাংলাদেশে।

এই তাণ্ডবে যশোরে গাছচাপা, ঘর ভেঙে ও দেয়ালচাপায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২ এ দাঁড়িয়েছে। বুধবার রাতে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় বিপুল পরিমাণ গাছপালা ভেঙে ও ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

যশোর

আম্পানের তান্ডবে শুধু মাত্র যশোরেই ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ে এই জেলায় ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও জেলা প্রশাসন ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে পুলিশের তথ্যে বাকি ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ ৬ জনের ও ডিস্ট্রিক্ট ইন্টেলিজেন্স অফিসার (ডিআইও-১) এম মসিউর রহমান সাংবাদিকদের বাকী ৬ জনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

চাঁদপুর

চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নে আম কুড়াতে গিয়ে ঝড়ের মধ্যে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে জান্নাত বেগম (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন :  একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ২৫২৩, মৃত্যু ২৩

বুধবার রাতে ওই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে বলে বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মনসুর আহম্মেদ জানিয়েছেন।

বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম মিয়াজী বলেন, ওই নারী আম কুড়াতে গিয়েছিলেন। তখন গাছের নিচে চাপা পড়েন। সকালে বাড়ির লোকজন তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।

ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহে রাতে ঝড়ের মধ্যে ঘরের উপর গাছ ভেঙে পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ।

তিনি বলেন, রাত ১০টার পর ঝড়ের দাপট বাড়লে সদর উপজেলায় হলিধানী গ্রামে একটি গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়ে নাদিরা বেগম নামে ৫৫ বছর বয়সী ওই নারীর মৃত্যু হয়।

সাতক্ষীরা

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সাতক্ষীরা সদরে গাছ ভেঙে পড়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, বুধবার সন্ধ্যার পর জেলা শহরের কামালনগরে আমগাছ গাছ ভেঙে পড়ে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তবে নিহতের পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

আরও পড়তে পারেন :  করোনায় আক্রান্ত ৫৮ লাখ ছুঁই ছুঁই, মৃত্যু ৩ লাখ ৫৭ হাজার

পটুয়াখালী

আম্পানের প্রভাবে পটুয়াখালীতে গাছ পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) এক সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গলাচিপা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, বুধবার সন্ধ্যায় গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকায় ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে ছয় বছরের শিশু রাসেদ নিহত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সন্ধ্যায় উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খরিদা গ্রামের শাহাজাদা মিয়ার ছেলে রাসেদ (৬) মায়ের সঙ্গে আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছিল। পথে ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে ঘটনাস্থলে রাসেদের মৃত্যু হয়। রাসেদের মাও আহত হন।

ভোলা

ভোলার চরফ্যাশনে ঝড়ে গাছ চাপা পড়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার প্রধান সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দক্ষিণ আইচা থানার ওসি হারুন অর রশিদ জানান, ছিদ্দিক ফকির নামের ৭০ বছরের ওই বৃদ্ধ বয়স্ক ভাতা আনার জন্য ভাড়া করা মোটরসাইকেলে উপজেলা সদর চরফ্যাশনের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঝড়ে একটি গাছ ভেঙে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়তে পারেন :  মাফ চেয়ে দেড় ঘণ্টা পর সাংবাদিকের মৃত্যু

বরগুনা

বরগুনার সদর উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্র যাওয়ার পথে এক রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ‘অসুস্থ হয়ে’মারা গেছেন।

শহীদুল ইসলাম নামের ৬৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। পরীরখাল বাজারে রেস্তোরাঁ চালাতেন তিনি।

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার জানান, শহীদুল আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে হৃদরোগে ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

পিরোজপুর

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের মধ্যে মঠবাড়িয়া উপজেলায় দুই জন এবং ইন্দুরকানী উপজেলায় একজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মোজাহারুল ইসলাম। মোট এই জেলায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ওই তিনজন হলেন- মঠবাড়িয়া উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের গিলাবাদ গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে শাহজাহান মোল্লা (৫৫) ও আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ধুপতি গ্রামে মুজাহার বেপারীর স্ত্রী গোলেনুর বেগম (৭০) এবং ইন্দুরকানী উপজেলার উমিদপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে শাহ আলম (৫০)।

বিনিয়োগ বার্তা//এল//

আপনার মতামত দিন :

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here